২৭ জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির পেল জামায়াতে ইসলামী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল এসেছে। দলের অভ্যন্তরীণ রুকনদের গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন জেলা ও মহানগরী আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই নতুন নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃত্বের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি জেলায় নতুন করে আমিরের দায়িত্ব পেয়েছেন নতুন নির্বাচিত নেতারা। অন্যদিকে, বাকি শাখাগুলোতে যারা ২০২৪ সালের আগে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদের ওপরই পুনরায় আস্থা রেখেছে দলটির সদস্য বা রুকনরা।

সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল পর্যায়ের রুকনদের মতামতের ভিত্তিতেই জেলা ও মহানগরীর আমির নির্বাচিত হয়ে থাকেন। রুকনদের ভোটে শীর্ষ প্রার্থী নির্বাচনের পর তা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন ও অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণে একটি নতুন নেতৃত্ব কাঠামো তৈরির চেষ্টা করেছে দলটি। নতুন দায়িত্ব পাওয়া আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব শাখায় নতুন নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে, সেখানে নতুন আমিররা শীঘ্রই তাদের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ক্যাডারভিত্তিক দলে এই ধরণের নিয়মিত নেতৃত্ব পরিবর্তন সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নতুনদের সামনে নিয়ে এসে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে আরও শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। তবে পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ জায়গায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে দলটির পুরনো নেতৃত্ব বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক অবস্থানের বিষয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে। ৭৭টি শাখার এই বড় আয়োজনে নতুন এবং পুরাতন নেতৃত্বের যে সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাহী বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াত আগামী দিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতির একটি বড় ধাপ সম্পন্ন করল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন নির্বাচিত আমিররা তাদের নিজ নিজ এলাকায় দলকে কতটা সক্রিয় করতে পারেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন