ডিপফেকের শিকার জাহ্নবী কাপুর ও কীর্তি সুরেশের কঠোর আইন দাবি
বিনোদন জগতের দুই পরিচিত মুখ, জাহ্নবী কাপুর ও কীর্তি সুরেশ, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিওতে শিকার হয়েছেন। তাদের মুখ ও দেহ ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক কন্টেন্ট সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
দুই অভিনেত্রীই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, তাদের অনুমতি ছাড়া তৈরি করা এই ভুয়া কন্টেন্ট তাদের পেশাগত সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনধিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধের জন্য তারা আইনগত কাঠামোর শক্তিশালীকরণে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।
ডিপফেকের সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ সিবি অরুণ কুমার, যিনি ভিএফএক্স (VFX) ক্ষেত্রে বিশিষ্ট, তার মতামত শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এআই প্রযুক্তি সৃজনশীল শিল্পে নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, তবে একই সঙ্গে এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন না থাকলে তা সমাজে বিশাল ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলছেন, বর্তমান আইনি বিধান ডিপফেকের মতো দ্রুত বিকশিত প্রযুক্তি মোকাবেলায় অপর্যাপ্ত, তাই সংশ্লিষ্ট আইন প্রণেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডিপফেকের শিকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা না থাকলে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অবৈধ কন্টেন্টের বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাব করছেন, ডিপফেকের সৃষ্টিকর্তা, বিতরণকারী ও ব্যবহারকারীকে আইনি দায়বদ্ধ করা, পাশাপাশি ভিক্টিমদের দ্রুত কন্টেন্ট মুছে ফেলার এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
এই দাবি শোনার পর, ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গ্রুপও সমর্থন জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, ডিপফেকের ফলে সৃষ্ট মানসিক আঘাত, সামাজিক অবহেলা এবং কর্মসংস্থান ক্ষতি মোকাবেলায় জরুরি আইনি কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন। এছাড়া, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোরও দায়িত্ব আছে, যাতে তারা তাদের প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক সনাক্তকরণ ও অপসারণের জন্য স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম চালু করে।
বিনোদন শিল্পের প্রতিনিধিরা বলছেন, ডিপফেকের শিকার হওয়া শিল্পী না শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষতি ভোগ করেন, বরং পুরো শিল্পের সুনাম ও আয়তেও প্রভাব পড়ে। তাই, শিল্প সংস্থা ও গিল্ডগুলোও এই সমস্যার সমাধানে আইন প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
অবশেষে, জাহ্নবী কাপুর ও কীর্তি সুরেশের এই দাবি শুধু তাদের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে ডিপফেকের শিকার হতে পারে এমন সকল নাগরিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিপফেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন হলে, ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]