সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন, ১৫টি বসতঘর পুড়ে গিয়েছে
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে গত সোমবার রাত আটটার দিকে পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট ঘটার ফলে অগ্নিকাণ্ডে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একাধিক ঘরে একসাথে আগুন লেগে ১৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ধান‑চাল, সার‑কীটনাশক, বীজধান, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও পুড়ে গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের শিকারদের মতে, আগুনের মূল কারণ ছিল পল্লী বিদ্যুতের লাইনে হঠাৎ শর্টসার্কিট, যা ঘরের ভিতরে থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও গৃহস্থালির সরঞ্জামকে প্রজ্জ্বলিত করে দেয়। একাধিক পরিবার একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকল দল আগুন নিভাতে কয়েক ঘণ্টা কাজ করে, তবে আগুনের বিস্তার দ্রুত হওয়ায় বেশ কিছু ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় গ্রাম পরিষদ সদস্য ও কৃষক প্রতিনিধিরা জানান, এই গ্রামে অধিকাংশ পরিবার কৃষিকাজে নির্ভরশীল, এবং ধান‑চাল, সার‑কীটনাশক ও বীজধানের ক্ষতি তাদের মৌসুমী আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এছাড়া, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। ক্ষতির মোট পরিমাণ প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকার কাছাকাছি অনুমান করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয় ও মৌলিক সামগ্রী সরবরাহের নির্দেশ দেয়। গ্রাম পরিষদ ও স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী দ্রুতই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করে, যাতে শিকারের পরিবারগুলোকে অল্প সময়ের মধ্যে মৌলিক চাহিদা পূরণ করা যায়। একই সঙ্গে, বিদ্যুৎ বিভাগকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ ও কৃষক সমিতি বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে যে, পল্লী বিদ্যুতের পুরনো ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরণের দুর্ঘটনা না ঘটে। এছাড়া, গ্রামগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, সরকারী তহবিলের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমর্থনেও দ্রুত ত্রাণ কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্রামবাসীর জীবনে আর্থিক ও মানসিক দু’ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সরকারী সহায়তা এই ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]