খুঁজুন
, ,

ইউনেস্কো: বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যার ৮৬ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়নি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
ইউনেস্কো: বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যার ৮৬ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়নি

ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক দিবসের উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক দুই বছরে (২০২৪ ও ২০২৫) বিশ্বব্যাপী ১৮৯ জন সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে ৬৭ শতাংশের মৃত্যু সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে চলমান দেশগুলোতে ঘটেছে, যা মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের ৮৬ শতাংশের কোনো বিচার হয়নি। অর্থাৎ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা মামলাগুলো যথাযথভাবে সমাধান হয়নি। ইউনেস্কো এই পরিস্থিতি সংশোধনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধহীনতা দূর করা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘটনা সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে ঘটেছে, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী, সশস্ত্র গৃহযুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান। এসব পরিবেশে সাংবাদিকদের কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তারা প্রায়ই সংঘাতের বাস্তবতা প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন পক্ষের কর্মকাণ্ডের উপর আলোকপাত করে। ফলে, তারা লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ে।

ইউনেস্কোর মতে, বিচারহীনতা কেবলমাত্র একক ঘটনার পরিণতি নয়; এটি সাংবাদিকদের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানে এবং তথ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। যখন অপরাধীকে শাস্তি না দেওয়া হয়, তখন অন্যরা একই রকম কাজের জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারে, যা মিডিয়া পরিবেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।

এই সমস্যার সমাধানে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছে। বিশেষ করে, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং জাতীয় বিচারব্যবস্থাগুলোকে একসাথে কাজ করে দ্রুত তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ নীতি ও প্রোটোকল তৈরি করা এবং তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে এই বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে বলা হয়েছে, যাতে তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। একই সঙ্গে, মিডিয়া সংস্থাগুলোও তাদের কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।

ইউনেস্কোর এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিক সংস্থার কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছে। তারা একত্রে একটি সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমে এবং ঘটনার পর যথাযথ বিচার নিশ্চিত হয়।

সারসংক্ষেপে, ইউনেস্কোর এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিক হত্যার ব্যাপকতা ও বিচারহীনতার মাত্রা স্পষ্ট হয়েছে। এটি একটি সতর্কবার্তা যে, তথ্যের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দৃঢ় আইনি পদক্ষেপ অপরিহার্য।

ছয় মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ছয় মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডার প্রতি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মতো আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি দেশের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। সোমবার এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে সিলিন্ডারপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ভোক্তাকে বাড়তি ৭১৯ টাকা গুনতে হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় পুরো অংশই আমদানিনির্ভর এলপিজির ওপর নির্ভর করে মেটায়। ফলে বিশ্ববাজারের দামের হেরফের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব দ্রুত পড়ে। যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে বা দাম বৃদ্ধি পায়, তার উত্তাপ বাংলাদেশের ভোক্তাদের সরাসরি বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

গত দুই মাসের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেবল নভেম্বর মাসের শুরুতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি রান্নার গ্যাসের জন্য একটি বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত এই জ্বালানি পণ্যটির ক্রমাগত দাম বাড়ার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে বাজেটের সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এলপিজি আমদানিতে শুল্ক কাঠামো এবং বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে না এলে ভোক্তাদের স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ কম। বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ গ্যাসের উচ্চমূল্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন সাংসারিক খরচে। যদিও সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বারবার এলপিজির দাম সমন্বয় করার কথা জানায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিতিশীলতা কখন স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার উপায় নেই। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলে বোঝা যায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হচ্ছে, ততক্ষণ বাংলাদেশে এলপিজির মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ভোক্তারা এখন সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থার প্রত্যাশা করছেন যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

জেলহত্যা দিবস আজ: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে জাতীয় চার নেতাকে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জেলহত্যা দিবস আজ: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে জাতীয় চার নেতাকে

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর ও কলঙ্কিত দিন ৩ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। যারা মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। সেই দুঃসহ স্মৃতি ও শোকের দিন আজ। প্রতি বছরের ন্যায় জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশটির রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতিতে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা নেমে আসে। সেই উত্তাল ও ষড়যন্ত্রমূলক পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে বন্দিশালায় ঢুকে সশস্ত্র ঘাতক চক্র চার জাতীয় নেতাকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। কারাগারের মতো একটি সুরক্ষিত ও পবিত্র স্থানে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ইতিহাসের পাতায় এক নজিরবিহীন উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধূলিসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যেই সেদিন গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় চার নেতাকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেবল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেননি, বরং তারা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহকর্মী ও অকুতোভয় মুক্তিপাগল বাঙালি জাতির পথপ্রদর্শক। তাদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেদিন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল।

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জাতীয় এই চার নেতার আত্মত্যাগ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি চরম আঘাতের প্রতীক। প্রতি বছরই এই দিনটি জাতি শোকাবহ হৃদয়ে পালন করে এবং ইতিহাসের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আজকের এই দিনে দেশের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে এই চার নেতার অবদান ও ত্যাগের কথা নতুন করে জাগ্রত হয়।

জেলহত্যার এই ঘটনাটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না, বরং এটি ছিল নবীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হলেও তাদের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজও জাতি গভীর শ্রদ্ধায় সেই মহান নেতাদের স্মরণ করছে এবং তাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিমান সংক্রান্ত পুনরাবৃত্ত ত্রুটি নিয়ে পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটি তদন্তে এগিয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীর বিমান সংক্রান্ত পুনরাবৃত্ত ত্রুটি নিয়ে পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটি তদন্তে এগিয়ে

সর্বশেষে পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটি (স্ট্যান্ডিং কমিটি) পাবলিক এন্টারটেকিংস বিষয়ক অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী যাত্রা করা বিমানগুলোর ধারাবাহিক মেকানিক্যাল ত্রুটির পেছনের কারণগুলো জানার জন্য একটি বিশেষ তদন্তের আদেশ দেয়। কমিটি সদস্যরা জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিমানগুলোতে প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত দিক থেকে উদ্বেগ বাড়ছে।

কমিটির প্রধান সদস্যরা উল্লেখ করেন, বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, অংশের গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর দায়িত্বের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তদুপরি, ত্রুটিগুলোর পুনরাবৃত্তি কীভাবে ঘটছে এবং তা কি কোনো নির্দিষ্ট সিস্টেম বা উপাদানের ত্রুটির ফলাফল, তা নির্ণয় করা হবে।

কমিটি সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিও ছিলেন। তারা প্রত্যেকটি ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি ভবিষ্যতে বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

বিমান সংক্রান্ত এই তদন্তের পটভূমি হল, সাম্প্রতিক মাসে প্রধানমন্ত্রী যাত্রা করা বিমানগুলোতে ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক শব্দ, নেভিগেশন সিস্টেমের ত্রুটি এবং হাইড্রোলিক সিস্টেমের সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এসব সমস্যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে বিমানকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল, যদিও কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনাগুলো সরকারী ওজনের যাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কমিটি সদস্যরা জোর দিয়ে বলেছেন, যদি তদন্তে দেখা যায় যে রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি, সরবরাহকারী সংস্থার দায়িত্বে ত্রুটি বা নীতি অনুসরণে অবহেলা রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে বিমান রক্ষণাবেক্ষণের মানদণ্ডকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের কথাও আলোচনা হয়েছে।

এই তদন্তের ফলাফল পার্লামেন্টের অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে এবং সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগযোগ্য সুপারিশ প্রদান করা হবে। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই প্রক্রিয়া মাধ্যমে বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

বিমান সংক্রান্ত এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী দায়িত্বশীলদের ওপর চাপ বাড়ছে যেন তারা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সমস্যার সমাধান করে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সর্বশেষ
ছয় মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা জেলহত্যা দিবস আজ: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে জাতীয় চার নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর বিমান সংক্রান্ত পুনরাবৃত্ত ত্রুটি নিয়ে পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটি তদন্তে এগিয়ে চীনের সিনচিয়াংয়ে বিশাল জিরকন বালু মজুদের আবিষ্কার গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ স্পষ্ট বিবৃতি সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নতুন পরিচালক শায়লা বানু ঝুমুর ইউনেস্কো: বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যার ৮৬ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়নি আইসিইউতে বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ পুলিশের বিশেষ অভিযানে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানায় আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে ৬ জন আটক সাবেক এমপি ফয়জুর রহমানের গ্রেফতার, মাসুদ হোসাইনের হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন অস্বীকার
Advertisement