খুঁজুন
, ,

শামীম ওসমানের ফেরা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
শামীম ওসমানের ফেরা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এবং নানা কারণে আলোচনায় থাকা সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের দেশে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, শামীম ওসমান যদি কোনোভাবে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন, তবে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। এমন কঠোর বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতির বর্তমান উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

রবিবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সস্তাপুর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনী উপলক্ষ্যে। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখার সময় আবু আল ইউসুফ খান টিপু বিগত সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্যমতে, নারায়ণগঞ্জের মাটি এখন আর সেই পুরনো পরিস্থিতির সাক্ষী হওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তিনি জানান, যারা একসময় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদের নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসার পথ আর সুগম থাকবে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য নারায়ণগঞ্জের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি প্রতিফলন মাত্র। বিগত সরকার পতনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যারা এতদিন ক্ষমতার দাপটে মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাদের অনুপস্থিতিতে এখন নতুন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে বিএনপি। টিপুর এই বক্তব্য তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তৃতাকালে তিনি কেবল হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং দলীয় কর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বিগত সময়ে যারা নারায়ণগঞ্জের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর দেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু আল ইউসুফ খান টিপু যখন শামীম ওসমানকে নিয়ে এই মন্তব্য করেন, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সস্তাপুর এলাকা। মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনের এই সাধারণ অনুষ্ঠানটি যেন হঠাৎ করেই রাজনৈতিক জনসভায় রূপ নেয়। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি এখন বেশ সক্রিয়।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন উত্তপ্ত বক্তব্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও বিএনপিসহ বর্তমান রাজনৈতিক জোটের নেতারা মনে করেন, এটি জনগণের মনের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। তাদের মতে, অতীতে যারা জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলেন, তাদের স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফেরা এখন কঠিন। সব মিলিয়ে, শামীম ওসমানের দেশে ফেরার ঘোষণা যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, তা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর এই বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই রাজনৈতিক উত্তাপ কোন দিকে মোড় নেয় এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ভূমিকা পালন করে।

রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি শেষ, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি শেষ, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর, রুশ সেনাবাহিনী দ্রুতই ওলেশকি শহর দখল করে। ওলেশকি নিপার নদীর বাম তীরে অবস্থিত এবং খেরসন শহরের বিপরীত পাশে রয়েছে, যা কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় থেকে শহরটি রাশিয়ার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে, ওলেশকিতে বিভিন্ন সময়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে, ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে, রুশ নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই পরিবর্তনটি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মানবিক সহায়তার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন।

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি মানে হল যে, পূর্বে স্থগিত থাকা শত্রু কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি সংঘর্ষের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়া মানে হল ফ্রন্টলাইন পুনরায় সক্রিয় হতে পারে এবং উভয় পক্ষের সামরিক কার্যক্রম বাড়তে পারে।

ওলেশকির অবস্থান নিপার নদীর বাম তীরে হওয়ায়, এটি কেবলমাত্র ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এই শহরে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়া মানে হল, নদীর পারাপার এবং সরবরাহ লাইনগুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবিক সংস্থাগুলোও এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ফলে, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে নতুন বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে, খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সেবার সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, ইউক্রেনের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখনো স্পষ্ট নয় যে, কীভাবে এই নতুন উত্তেজনা মোকাবেলা করা হবে। তবে, পূর্বে গৃহীত শান্তি ও সমঝোতার প্রচেষ্টা পুনরায় সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়া কেবলমাত্র স্থানীয় নয়, বরং বৃহত্তর ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

জামায়াতের সঙ্গে জোট নয়, বিএনপি-আওয়ামী লীগের মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবের দাবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জামায়াতের সঙ্গে জোট নয়, বিএনপি-আওয়ামী লীগের মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবের দাবি

জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন এক রাজনৈতিক ব্যক্তি। একই বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই দলই তাঁকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে প্রাপ্ত সংক্ষিপ্ত তথ্যাংশে বক্তার নাম, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, বক্তব্য দেওয়ার সময় ও স্থান কিংবা প্রস্তাবগুলো কখন দেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নেই। ফলে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উপলভ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, বক্তব্যের দুটি মূল বিষয় হলো জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করা এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব পাওয়ার দাবি। তবে প্রস্তাব দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কথাগুলো বলা হয়েছিল, কিংবা প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো শর্ত যুক্ত ছিল কি না—এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসব বিষয়ে অনুমান করে কোনো বিবরণ যোগ করা সমীচীন নয়।

বক্তার পরিচয় না থাকায় তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করা যাচ্ছে না। তিনি কোনো দলের নেতা, স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মী, নাকি অন্য কোনো পরিচয়ে কথাগুলো বলেছেন—উপলভ্য তথ্যাংশে তার উল্লেখ নেই। একইভাবে, বক্তব্যটি কোনো সাক্ষাৎকার, সভা, সংবাদ সম্মেলন বা অন্য কোনো আয়োজনে দেওয়া হয়েছিল কি না, তাও জানা যায়নি। ফলে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ তৈরি করার মতো তথ্য এখানে নেই।

মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব পাওয়ার দাবিটি বক্তব্যদাতার দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রাপ্ত তথ্যাংশে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধির বক্তব্য, প্রস্তাবের লিখিত নথি কিংবা এ দাবির পক্ষে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা নেই। তাই দল দুটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে—এমন কথা বলা যাচ্ছে না। দাবির সময়কাল ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি জানা না থাকায় এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অবকাশ নেই।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নেই—এ বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কোন নির্বাচন, রাজনৈতিক সমঝোতা বা নির্দিষ্ট সময়ের প্রসঙ্গ আলোচনায় ছিল, তা পরিষ্কার নয়। বক্তব্যদাতা কোনো ভবিষ্যৎ অবস্থান জানাচ্ছিলেন, নাকি অতীতের কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগের কথা বলছিলেন, সেটিও উপলভ্য বিবরণে অনুপস্থিত। তাই বক্তব্যটিকে নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী জোট বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পৃথক তথ্যাংশে নারায়ণগঞ্জে এক বিএনপি নেতার বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেখানে জামায়াতের সঙ্গে জোট বা মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবসংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। দুই বিবরণকে একই ঘটনার অংশ হিসেবে দেখানোর মতো যোগসূত্রও পাওয়া যায়নি। সে কারণে পৃথক বিষয়গুলোকে এক করে প্রতিবেদন করা হয়নি।

বক্তার নাম, বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ এবং প্রস্তাবের সময়-পরিস্থিতি জানা গেলে দাবিগুলো আরও নির্দিষ্টভাবে যাচাই ও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্যের সীমা হলো: বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। এর বাইরে বক্তার পরিচয়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো তথ্য নেই।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য: যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য: যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বাসের ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার দায়ে আটক যুবক আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম আবু বকর সিদ্দিক। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবু বকর সিদ্দিকই বর্তমানে এই মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের একটি ছবি দেখে অত্যন্ত আপত্তিকর একটি মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যের ধরণ ছিল মূলত সহিংসতার উস্কানিমূলক, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ আইনে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খুঁটিনাটি সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য করার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাইবার ক্রাইম ইউনিট বিষয়টি আমলে নেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি কেন এবং কার প্ররোচনায় বা কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, তা জানতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তের এই পর্যায়ে আবু বকর সিদ্দিকের রাজনৈতিক পদ-পদবি বা দলের সাথে কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে জনসম্মুখে বা অনলাইনে এ ধরনের মন্তব্য করার ঘটনাকে গুরুত্বসহকারে দেখছে প্রশাসন। সাইবার জগতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো অপতৎপরতা যাতে কেউ করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে। আদালতের সামনে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু বকর সিদ্দিক তার কৃতকর্মের জন্য কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা নিয়ে আইনি মহলে আলোচনা চলছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী ধাপে সব প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিচারক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য যে, একই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করছেন। যেমন, সম্প্রতি তিনি দেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের উন্নয়ন ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাইবার জগতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে দেখছে বর্তমান সরকার। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সকল নাগরিককে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। আপাতত এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত সংশ্লিষ্টরা অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

সর্বশেষ
রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি শেষ, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক জামায়াতের সঙ্গে জোট নয়, বিএনপি-আওয়ামী লীগের মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবের দাবি প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য: যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শামীম ওসমানের ফেরা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ যুব এশিয়া কাপকে সামনে রেখে লক্ষ্য এখন ভবিষ্যতের তারকা গড়া গার্মেন্টস খাতের বর্তমান সংকট জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ: ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার ছক: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীসহ ৪৯ জন আটক কক্সবাজারে নলকূপ খননকালে গ্যাস নির্গমন ও অগ্নিকাণ্ড: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরিপ শুরু
Advertisement