বরিশালে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’, মারধরের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ

বরিশাল মহানগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কয়েকজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই বিএনপি নেতা ফারুকের নেতৃত্বে একদল অনুসারী ওই এলাকায় উপস্থিত হয় এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় শুরু করে। এই অভিযানের এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমানতগঞ্জ এলাকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হন। তারা সেখানে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে লোকজনের ওপর চড়াও হন। হঠাৎ এই অভিযানে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে এবং ওই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে ওই বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীরা কয়েকজনকে মারধর করেন।

আমানতগঞ্জ এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকায় মাদক কারবারিদের উৎপাত রয়েছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো সাধারণ মানুষকে মারধর করা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পালন করা কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া না গেলেও, ঘটনার সময় উপস্থিত অনেকেই জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের সহায়তা বা উপস্থিতিও সেখানে চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ দাবি করছেন, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা স্থানীয় উদ্যোগে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তবে অভিযানের সময় মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, সে সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কাউকে মারধর করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হলো অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনা। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিবিশেষের এমন ‘অভিযান’ সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতারা যদি নিজেরা বিচারক সেজে মারধর শুরু করেন, তবে তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। প্রশাসন এই ঘটনায় কোনো তদন্ত করবে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মামলা বা অভিযোগ পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়নি। তবে আমানতগঞ্জের বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন