বিশ্বজুড়ে জম্বি ঘরানার সিনেমা বা কন্টেন্ট সব সময়ই দর্শকদের জন্য বাড়তি উত্তেজনার রসদ জোগায়। বিশেষ করে ‘ট্রেন টু বুসান’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলো জম্বি বলতে যে দ্রুতগতির ও রক্তাক্ত সংঘাতের ছবি তৈরি করেছিল, তা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান। তবে সময়ের সাথে সাথে এই ধারার গল্পে এসেছে নানা পরিবর্তন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নতুন এক জম্বি ঘরানার সিনেমা আবারও আলোচনায় চলে এসেছে। এবারের জম্বিদের চরিত্রায়ন কিছুটা ভিন্নধর্মী। তারা কেবল ক্ষুধার্ত প্রাণী নয়, বরং তাদের মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তা। এই জম্বিরা একা নয়, বরং দলবদ্ধভাবে আক্রমণ ও পরিকল্পনা করতে সক্ষম, যা গল্পের মোড়কে দিয়েছে ভয়ংকর এক বাস্তবসম্মত রূপ।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, জম্বি ঘরানার সিনেমায় সাধারণত আমরা যে ধীরগতির বা অসংগঠিত ভয়ের চিত্র দেখে অভ্যস্ত, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটছে। নতুন এই সিনেমায় জম্বিদের দেখানো হয়েছে অত্যন্ত চতুর হিসেবে। তারা কেবল কামড়ানোর জন্য ছোটে না, বরং মানুষের কৌশল বুঝে পাল্টা কৌশল সাজাতে পারে। এমনটা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। এই বিশেষত্বের কারণে সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যেই এক গভীর টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দর্শকদের মতে, মানুষের বাঁচার লড়াই এখন আর কেবল শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল নেই, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে।
তবে সিনেমার নেপথ্যেও নানা আলোচনার জন্ম নিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই সিনেমার শুটিংয়ে বেশ কিছু অঘটন ঘটেছে। বিশেষ করে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে কুশীলবরা বেশ কয়েকবার বিপত্তির মুখে পড়েছেন। যদিও সিনেমার মূল গল্পের মূল আকর্ষণ এই জম্বি চরিত্রগুলো, তবুও শুটিংয়ের সময়কার এই ঘটনাগুলো নিয়ে পর্দার পেছনের কলাকুশলীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করেছে। এর আগে অনেক হরর সিনেমাতেই এ ধরনের ঘটনার কথা শোনা গেছে, যা মূলত শুটিং সেটের জটিলতা ও পরিচালনার চাপকেই নির্দেশ করে।
সিনেমার গল্পটি মূলত টিকে থাকার লড়াইকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। যখন জম্বিরা সম্মিলিতভাবে মানুষকে আক্রমণ করে, তখন মানবজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা কীভাবে কমে আসে—সেটিই পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পরিচালকের মুন্সিয়ানা এখানে সুস্পষ্ট। রক্তপাতের দৃশ্যের পাশাপাশি মানুষের আবেগ, ভয় ও আত্মত্যাগের গল্পগুলোও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। দ্রুতগতির দৃশ্যধারণের কারণে সিনেমাটি কোথাও ঝিমিয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি, যা দর্শকদের সিটের কিনারে আটকে রাখতে সাহায্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জম্বি সিনেমা মানেই এখন আর স্রেফ গায়ের জোরে লড়াই নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং স্ক্রিপ্টের ভিন্নতায় জম্বি চরিত্রগুলোর এই বিবর্তন বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে নতুন একটি ট্রেন্ড চালু করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই জম্বিরা দর্শকদের কতটা আতঙ্কিত করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ কীভাবে এই নতুন সংকটের মোকাবিলা করে। যারা রোমাঞ্চকর সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই কাজটি নিশ্চিতভাবেই নতুন এক অভিজ্ঞতার খোরাক জোগাবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ