খুঁজুন
, ,

তরুণদের রাজনীতিমুখী করতে হলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর আধুনিকায়ন জরুরি: মোঃ ইব্রাহিম ফরাজি

রিপন দেওয়ান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৭:০০ অপরাহ্ণ
তরুণদের রাজনীতিমুখী করতে হলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর আধুনিকায়ন জরুরি: মোঃ ইব্রাহিম ফরাজি

চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা শ্রমিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম ফরাজি গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে  বলেন, “বর্তমানে তরুণরা রাজনীতি থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে—তবে এর মানে এই নয় যে তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। বরং এখনই সময় তরুণদের শ্রমিক সংগঠনে সম্পৃক্ত করার। কারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে শক্তিশালী নেতৃত্ব গঠনের জন্য নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

তিনি বলেন, “শ্রমিকদল শুধু অতীতমুখী সংগঠন নয়, এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রও। সংগঠনের কাঠামো ও কাজের ধরনে আধুনিকতা আনলেই তরুণরা আবার আগ্রহ দেখাবে।”

বিগত সরকারের আমলে মামলা-হয়রানিতে চট্টগ্রামে শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ
চট্টগ্রামে শ্রমিকদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে আমাদের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচির পরেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হোতো। রাস্তায় নামলেই পুলিশের গ্রেফতারের তালিকায় নাম থাকতো সবসময়। এটি একটি সংগঠিত দমন নীতি।”
তিনি জানান, এসব হয়রানির বিরুদ্ধে দল কেন্দ্রীয়ভাবে আইনগত সহায়তা দিছেন এবং আগামীতেও দিবেন ইনশাআল্লাহ  এবং প্রত্যেকটি ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়েছিলো।

তরুণ নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যাওয়ার সুযোগ কতটা?
এই প্রশ্নের উত্তরে ফরাজি বলেন, “চট্টগ্রামের মাটি সবসময় আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এখানকার তরুণ নেতাদের দক্ষতা আছে, মাঠের অভিজ্ঞতা আছে। তবে তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পৌঁছাতে হলে দলীয় কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন আরও বাড়াতে হবে। আমরা চাই, চট্টগ্রাম থেকে আগামীতে জাতীয় নেতৃত্বে আরও তরুণ মুখ আসুক।”

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ নির্বাচন জনগণের অধিকার হরণ করেছে। ভোটের আগের রাতেই ফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা একে সুষ্ঠু বলি না।”
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিয়ে বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে আমরা মাঠে নামছি। শ্রমিকদের অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় রাজপথেই লড়াই হবে।”

নেতৃত্বের বিভাজন ও চট্টগ্রামের বাস্তবতা
শ্রমিকদলে বিভাজনের প্রশ্নে ফরাজি অকপটে বলেন, “দল বড় হলে ভিন্নমত থাকবে। তবে সেটা যেন আদর্শ ও নিয়মের বাইরে না যায়, সেটাই জরুরি। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কিন্তু আমরা তা দ্রুত সমাধান করি।”

ব্যক্তিগত ত্যাগ ও হয়রানি
নিজের রাজনীতিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, “আমি বহুবার গ্রেফতার হয়েছি, রাতের আঁধারে বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। চাকরি,ব্যাবসা হারিয়েছি, পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় থেকেছি। কিন্তু এসব আমাকে থামাতে পারেনি। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ই আমার রাজনীতির উদ্দেশ্য।”

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী  তরুণদের অনুপ্রেরণা, জনগণ তাঁকে দেখতে চায় আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মোঃ ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, “আমির খসরু ভাই শুধু চট্টগ্রামের না, দেশের রাজনীতিতে এক পরীক্ষিত নাম। তিনি আমাদের তরুণদের জন্য প্রেরণা, সাহস আর রাজনৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষ তাঁর নেতৃত্বে আস্থা রাখে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে অথবা তার সুযোগ্য সন্তান ইসরাফিল খুসরু  মাহামুদ চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় সাধারণ জনগণ। আমরা বিশ্বাস করি, তিনিই পারবেন এই অঞ্চলকে নতুনভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে।”

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৩১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি বিপজ্জনক হয়ে দেখা দেয়। জ্বর, কাশি ও শরীরে লাল দাগ বা ফুসকুড়ি এই রোগের প্রধান উপসর্গ। সময়মতো সচেতন না হলে এবং সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা পরবর্তীতে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশেরই যথাযথ টিকাদান সম্পন্ন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামের বিস্তার ঠেকাতে প্রতিটি এলাকায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে জেলাভিত্তিক সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত না হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারি উদ্যোগে চলমান এই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। যথাযথ সচেতনতা ও সময়মতো টিকা প্রদানই পারে এই ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি দিতে। অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার আওতা আরও বাড়ানো হবে। আক্রান্তদের সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে সব শিশুর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেটে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার ৬ নভেম্বর দুপুরে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন মন্ত্রী। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই মন্ত্রী তার নির্বাচনি এলাকা সিলেট-৪ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। সকালের দিকে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে তাকে স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিতে দেখা যায়। তবে দুপুরের দিকে আচমকা অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে মন্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সবার নজরে আসে। তিনি অস্বস্তি বোধ করায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিলেটের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের একটি দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে সিলেট জেলাজুড়ে তার নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও মন্ত্রীর অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দলের নেতারা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসনের নিয়মিত সংসদ সদস্য এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মব্যস্ততার মাঝে জনসেবামূলক কাজ করতে গিয়েই তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন। তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলেটিন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ধকল বা বিরতিহীন কর্মসূচির কারণে সাময়িক শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। তার সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে সিলেটবাসী। হাসপাতাল চত্বরে মন্ত্রীর অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেলেও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার সকল শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিশ্বে এক গভীর শূন্যতা ও আবেগের জন্ম দিয়েছে। মাঠের লড়াই থেকে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের সরে দাঁড়ানোর খবরে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে থাকা ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ব্যথিত হয়েছেন। এই মুহূর্তটিকে কেবল একজন খেলোয়াড়ের বিদায় হিসেবে না দেখে, বরং একটি যুগের পরিসমাপ্তি হিসেবেই দেখছে ফুটবলপ্রেমীরা। এমন আবেগঘন মুহূর্তে পর্তুগিজ মহাতারকার ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, রোনালদোর মতো খেলোয়াড় বিশ্ব ফুটবলে বিরল। তার মতে, রোনালদোর অর্জিত মাইলফলকগুলো কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রোনালদো ফুটবল ক্যারিয়ারে এমন সব কীর্তি ও রেকর্ড গড়েছেন, যার পুনরাবৃত্তি করা পরবর্তী প্রজন্মের কোনো খেলোয়াড়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়ার ক্ষমতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার জেদই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন ইনফান্তিনো।

ফিফা প্রধানের মতে, রোনালদোর এই অনন্য ফুটবল যাত্রা কেবল ট্রফি কিংবা গোলের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তিনি যেভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ফুটবল সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তা অতুলনীয়। একজন অ্যাথলেট হিসেবে তার নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতি তরুণ ফুটবলারদের জন্য চিরকাল একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ইনফান্তিনো তার বার্তায় উল্লেখ করেন, রোনালদোর মাঠে থাকা মানেই ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছুর জন্ম দেওয়া। বিশ্বজুড়ে অগণিত ফুটবল ভক্তদের জন্য তিনি যে আনন্দের মুহূর্তগুলো উপহার দিয়ে গেছেন, তা ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

রোনালদোর এই অবসরের সিদ্ধান্তটি ক্রীড়া বিশ্লেষকদের কাছে অপ্রত্যাশিত না হলেও, এটি নিশ্চিতভাবেই ফুটবল ইতিহাসের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নিজেকে সর্বোচ্চ শিখরে রেখেছেন। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয় এবং অসংখ্য শিরোপা জয়ের রেকর্ড তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং বয়সকে হার মানিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখা ছিল অনেকের কাছেই বিস্ময়ের।

ইনফান্তিনোর এই মন্তব্য বিশ্ব ফুটবলে রোনালদোর অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানের কথাই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল। যখন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে খোদ বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান এমন মন্তব্য করেন, তখন তা কেবল একটি বিদায়ী বার্তা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের একটি মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। পর্তুগিজ এই ফুটবল আইকনের অবসর পরবর্তী জীবন কেমন কাটে, তা নিয়েও এখন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। তবে আপাতত, ইনফান্তিনোর সুরেই সুর মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব বিদায় জানাচ্ছে এমন এক মহাতারকাকে, যার অভাব পূরণ হওয়া সত্যিই দুষ্কর। রোনালদোর ফুটবল মাঠের সেই চেনা গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং এবং গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার দৃশ্যগুলো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতির মণিকোঠায় বহুদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ
দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় মামলা