দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৪ অপরাহ্ণ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৩১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি বিপজ্জনক হয়ে দেখা দেয়। জ্বর, কাশি ও শরীরে লাল দাগ বা ফুসকুড়ি এই রোগের প্রধান উপসর্গ। সময়মতো সচেতন না হলে এবং সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা পরবর্তীতে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশেরই যথাযথ টিকাদান সম্পন্ন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামের বিস্তার ঠেকাতে প্রতিটি এলাকায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে জেলাভিত্তিক সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত না হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারি উদ্যোগে চলমান এই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। যথাযথ সচেতনতা ও সময়মতো টিকা প্রদানই পারে এই ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি দিতে। অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার আওতা আরও বাড়ানো হবে। আক্রান্তদের সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে সব শিশুর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন