চট্টগ্রাম সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেছেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ হোটেলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় প্রধান হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বিনিময় করেন বলে জানা গেছে। দলীয় শৃঙ্খলার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিমন্ডলে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামে অবস্থানকালে কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেই নয়, প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে জেএম সেন পূজামণ্ডপেও উপস্থিত হন। মঙ্গলবার রাতে রহমতগঞ্জের ওই পূজামণ্ডপে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত ভক্ত ও আয়োজকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা যে ধর্মেরই অনুসারী হই না কেন, ধর্ম সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা। কিন্তু আমাদের সবার বড় এবং অভিন্ন পরিচয় হলো আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। এই পরিচয়টিই আমাদের দেশের সব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি বজায় রাখার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর আলোকপাত করে বলেন, দেশে ধর্মের নামে কোনো বিভেদ বা অস্থিরতা কাম্য নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন ও উৎসব উদযাপনে পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের চেতনার মূলে ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। সেই চেতনাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের এই মুহূর্তে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করেন এবং দেশের অগ্রগতিতে সব ধর্মমতের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর এই চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার এই সরব উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। সামগ্রিকভাবে এই সফরকে রাজনৈতিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক জনসভা বা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলে জানা গেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক নির্বিঘ্নে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ