খুঁজুন
, ,

বন্যা নিয়ন্ত্রণে আকাশচুম্বী ব্যয়ে খসড়া প্রকল্প, প্রশ্ন ঢের: মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে

মোঃ আবদুল রহিম, ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
বন্যা নিয়ন্ত্রণে আকাশচুম্বী ব্যয়ে খসড়া প্রকল্প, প্রশ্ন ঢের: মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে
মুহুরী কহুয়া নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ৪ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকার খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এ প্রস্তাবনায় যুক্ত হয়নি প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকের মতে অধিগ্রহণসহ প্রকল্প ব্যয় দশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন সমীক্ষার খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রস্তাবিত খসড়া প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যটি উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর যৌথ সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়। এতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থা প্রকল্পের পুনর্বাসনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাবিত অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
ভূমি অধিগ্রহণ ব্যতিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুননির্মাণ, নদীর ভাঙনকবলিত তীর সংরক্ষণ, জলাধার পুনঃখনন, রেগুলেটর তৈরিসহ ১০ খাতে ৪ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা প্রস্তাবিত ব্যয় উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে বর্তমান বাঁধে গাছ, ঝোপঝাড় দূরীকরণে ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা প্রসঙ্গে তথ্য উপস্থাপন করেন আইডব্লিউএম এর পরিচালক তরুণ কান্তি মজুমদার। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছরের সমীক্ষায় প্রকল্প এলাকার আয়তন ৫৫৭ বর্গ কিলোমিটার। প্রকল্প এলাকায় খাল রয়েছে ১৮৪টি, দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটার। গতবছর বন্যায় মুহুরী-কহুয়া-সিলোনিয়া নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১০২ স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছিল। নদীগুলোতে পানি ধারণ ক্ষমতা কম, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রকল্পের শেষ স্থান ধরা হয়েছে মুহুরী রেগুলেটর, যেখানে ২০ ব্যান্ডের আরও একটি রেগুলেটরের প্রস্তাব করা হয়েছে। খাল খনন, নদী খনন, জলাধার তৈরিসহ বিভিন্ন কারিগরি দিক উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবনার গণশুনানিতে বিভিন্ন নেতিবাচক দিক ও প্রশ্ন তুলে ধরেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধি ও গবেষক কাওসার হামিদ মুন্না মতামত প্রকাশ করে বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে বৃহৎ প্রকল্পটির প্রস্তাবনা উজান থেকে শুরু হয়ে মুহুরী রেগুলেটরে শেষ করা হয়েছে। এটি আরও দীর্ঘ করে সন্দ্বীপ চ্যানেল পর্যন্ত নেওয়া প্রয়োজন। জানতে পেরেছি উড়িরচরে একটি বৃহৎ বরাদ্দের ড্যাম তৈরির এমওইউ স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের উপকূলে ব্যাপক পলি জমার শঙ্কা রয়েছে অথবা, এর পরিণতি মডেল প্রকল্প করে দেখতে হবে। তা না হলে উজান থেকে পানি নেমে এসে সাগরে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হলে আমরা জলমগ্ন হব। একইসাথে নির্বিচারে মাটিকাটার ফলে ভূমি নিচু হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকায় ১৮৪টি খালের দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্প প্রস্তাবনায় ২১টি খালের ৪৮ কিলোমিটার খননের কথা বলা হচ্ছে। যেহেতু প্রকল্পটি বাঁধ ছাড়াও সেচ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে তাই সকল খাল এর আওতাভুক্ত না হলে সেচ ব্যবস্থা ব্যহত হবে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও কৃষক সেচ সুবিধা পাবে না। ছাগলাইয়া-শুভপুর প্রকল্পের আওতাধীন হলেও ফেনী নদী প্রসঙ্গে কোন পরিকল্পনা দেখা যায়নি। ফেনী নদী হতে নির্বিচারে বালু উত্তোলনে ক্ষতি সমাধানে করণীয় বলা হয়নি। তাছাড়া ভারতের সাথে চুক্তি না হওয়ায় মুহুরী কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর সাড়ে ৬ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী অংশে বাঁধ নির্মাণ, নদী প্রশস্তকরণ কিংবা কী উপায়ে সংস্কার হবে তা স্পষ্ট নয়।
একই প্রসঙ্গে মুহুরী আধুনিক সেচ প্রকল্পের কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন আহমেদ কামরান বলেন, সমীক্ষায় কৃষক সমিতির কোন বক্তব্য নেওয়া হয়নি, কৃষকের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
মতবিনিময়ে জেলা ছাত্রপ্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ছাগলনাইয়ার শুভপুর নদীর আকার বিকৃত হয়েছে। পাশাপাশি ফুলগাজী পরশুরাম ছাগলনাইয়ার স্থানীয় জনগণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা সমাধানের ক্ষেত্রে ইসিএ তথা ইকোলজিকাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা প্রস্তাব করছি।
পানিসম্পদ গবেষণাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিইজিআইএস কর্মকর্তা নওশিন তাবাসসুম বাঁধ, সেচ
প্রকল্পের বিষয়ে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব বিষয় তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফেনী নদীর ধারণ ক্ষমতা কমেছে এবং দ্রুত দিক পরিবর্তন হয়েছে। সোনাগাজী উপকূলে মাছের ঘেরের কারণে দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এতে জলাধারের আয়তন কমেছে। ২০০৩ সালে ২৭০ হেক্টর মাছের ঘের থাকলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩ হাজার ৪৫৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। ফলে উজান থেকে আসা পানি দ্রুত সরতে পারছে না।
মতবিনিময়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক শরীফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল, কুমিল্লা)।
অনলাইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, বন্যানিয়ন্ত্রণে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন জরুরি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ বলেন, যে সমীক্ষা করা হয়েছে তা তুলে ধরার উদ্দেশ্য হল, অংশীজনের মতামত পাওয়া। সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা প্রতিফলিত হবে। অনলাইনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. এনায়েত উল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ফেনীর ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি রোধে বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব মতামত এসেছে বিবেচনায় আনা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত স্থানীয় কমিটির সাথে মতবিনিময় করার প্রয়োজন রয়েছে। উড়িরচরে প্রস্তাবিত ড্যাম তৈরি হলে ফেনী উপকূলে প্রভাব খতিয়ে দেখতে হবে। ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনরোধে সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরশুরাম পৌরসভার সাবেক
মেয়র আবু তালেব, সাংবাদিক নাজমুল হক শামীম, এনজিও প্লাস এর নির্বাহী পরিচালক জোহরা আক্তার রুমা, নদী তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজন। কর্মশালায় জানানো হয় প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাদ পুনঃনির্মাণ ২৭৬৩ দশমিক ৩৯ কোটি, ভাঙ্গন কবলিত স্থানে নদীর তীর সংরক্ষণ ২২৫ দশমিক ৫৪ কোটি, নদীখাল জলধার পূনঃখনন ৬৪৪ দশমিক ৮৮ কোটি, পানি নিষ্কাশন কাঠামো রেগুলেটর নির্মাণ ৯৫ কোটি, হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ ৫শ কোটি, ফ্ল্যাড বাইপাস/ফিউজ নির্মাণ ২৭ দশমিক ২০ কোটি, সেচ ইন্টেল নির্মাণ সাড়ে ৬ কোটি, বিদ্যমান অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ ৭ দশমিক ৬৫ কোটি, গাছ ঝোপঝাড় দূরীকরণ ৪৫ দশমিক ৮৪ কোটি ও লুককাট ৯ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
মতবিনিময় ও কর্মশালায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন
বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকতাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী ও নদী পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
   
ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে?

বর্তমান সময়ে রূপচর্চার দুনিয়ায় ভিটামিন সি একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। উজ্জ্বল, দাগহীন এবং বয়সের ছাপমুক্ত ত্বকের সন্ধানে অধিকাংশ মানুষ এখন ভিটামিন সি যুক্ত প্রসাধনী বেছে নিচ্ছেন। বাজারে এখন ফেসওয়াশ থেকে শুরু করে ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের স্কিনকেয়ার পণ্যের সঙ্গেই ভিটামিন সি যুক্ত থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রসাধনীতেই কি এই বিশেষ উপাদানের উপস্থিতি প্রয়োজন? সত্যিই কি বেশি মাত্রায় ভিটামিন সি ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বাস্তবতা?

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন সি ত্বকের জন্য নিঃসন্দেহে একটি উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ত্বকের পিগমেন্টেশন বা কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বককে টানটান রাখতে সহায়তা করে। তবে সব প্রসাধনীতে এই উপাদান থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভিটামিন সি মূলত একটি কার্যকর অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট। এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘনত্ব বা কনসেন্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রতিটি প্রসাধনীতে একই উপাদান থাকতে শুরু করে, তবে ত্বকের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাজারজাত বিভিন্ন ফেসওয়াশে ভিটামিন সি থাকাটা খুব একটা কার্যকর নয় বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। ফেসওয়াশ মূলত ত্বক পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি ধোয়ার মাধ্যমেই ত্বক থেকে চলে যায়। তাই এখানে ভিটামিন সি ব্যবহারের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং সিরামের মাধ্যমে ভিটামিন সি প্রয়োগ করা অনেক বেশি কার্যকর, কারণ সিরাম ত্বকে দীর্ঘ সময় থাকে এবং শোষণ হতে পারে। আবার সানস্ক্রিনের সঙ্গে ভিটামিন সি-র সমন্বয় ভালো হলেও, এটি সবার ত্বকের জন্য মানানসই নাও হতে পারে। অত্যধিক শক্তিশালী ভিটামিন সি যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে অনেকের ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য নির্বাচন করা। যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণ প্রবণ, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘনত্বের ভিটামিন সি সিরাম ভালো ফল দিতে পারে। কিন্তু শুষ্ক বা অতি সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন। অনেক সময় গ্রাহকরা মনে করেন, বেশি দামি বা বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক খুব দ্রুত উজ্জ্বল হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা হিতবিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

পরিশেষে, রূপচর্চার রুটিনে ভিটামিন সি অন্তর্ভুক্ত করার আগে নিজের ত্বকের প্রয়োজনীয়তা বোঝা জরুরি। প্রতিটি পণ্যের পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে, ভালো মানের একটি ভিটামিন সি সিরাম বেছে নেওয়া এবং সেটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহারের অভ্যাস করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সব প্রসাধনীতে ভিটামিন সি থাকা মানেই সেটি আপনার ত্বকের জন্য ভালো, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচনই প্রকৃত সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের চাবিকাঠি।

অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছার পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দুপুর নাগাদ তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তবে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ এবং তাদের দাবির বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে সময় দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছেন। এই আল্টিমেটাম ঘোষণার পরই শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে আসেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তারা তাদের দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছেন। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তাদের অভিযোগ, বর্তমান অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যার ফলে দীর্ঘ দিন ধরেই তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান অধ্যক্ষের পদত্যাগই একমাত্র সমাধান বলে তারা মনে করছেন। এই দাবিতেই গত কয়েকদিন ধরে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শুক্রবারের এই সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি আরও জোরালোভাবে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পুলিশের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা সড়ক ছাড়ার ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশা করছেন। যদি এই সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কলেজের অন্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগের ছাপ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান না হলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে, এই ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্ররোচনায় নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের লক্ষে শিক্ষার্থীরা যে আল্টিমেটাম দিয়েছেন, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আগামী দুই দিন তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি খাতের সূচক নাসডাকের বড় দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি খাত নিয়ে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আসার আশঙ্কায় শেয়ারের দামে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বৃহস্পতিবার লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, নাসডাক সূচক প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো হারিয়েছে, যা গত বেশ কিছু সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন। এই অস্থির পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ভোটারদের দায়ী করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্প্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের বিজয় অর্জনের কারণেই বাজারের এই নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং তাদের নীতিমালার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শেয়ারবাজারের এই পতনের মাধ্যমে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যেও ইঙ্গিত করেছেন যে, তাদের ভুল সিদ্ধান্তের মাসুল দিতে হচ্ছে পুরো অর্থনীতিকে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বাজারের এই অস্থিরতা কেবল রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না, বরং প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপট এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নাসডাকের এই পতনের পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যে ধরনের কড়াকড়ির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন, যার ফলে সূচক বেশ খানিকটা নিচে নেমেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সবসময়ই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার দাবি জানিয়ে আসলেও, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক এই মন্দা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলো আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নাসডাকের এই ধসের পর অন্যান্য খাতের শেয়ারের ওপর এর কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্যে বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারের আগামী দিনগুলো বেশ উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস বা নীতিনির্ধারকরা বাজার স্থিতিশীল করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ
ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং