রাজস্ব ও সুদব্যয়ে চাপে সিঙ্গার বাংলাদেশ: ব্যবসা বাড়লেও বাড়ল লোকসান
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও দিনশেষে লোকসান এড়ানো সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গত সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর মঙ্গলবার দেশের শেয়ারবাজারে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে তা বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও নানাবিধ ব্যয় ও ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধের চাপে মুনাফা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশ মোট ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭৩ কোটি টাকার বেশি, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ফলে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফাও সন্তোষজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি পরিচালন মুনাফা হিসেবে অর্জন করেছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছর এই খাতে মুনাফা ছিল ৯১ কোটি টাকা। তবে পরিচালন পর্যায়ের এই ইতিবাচক ধারা চূড়ান্ত নিট মুনাফায় রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।
কোম্পানিটির আর্থিক বিপর্যয়ের পেছনে মূলত ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়কে দায়ী করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কেবল ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ সিঙ্গারকে খরচ করতে হয়েছে ২০৫ কোটি টাকা। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই খাতে ব্যয় ছিল ১৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুদের বোঝা বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। এছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিল বাবদ কোম্পানিটির খরচ হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৭ কোটি টাকা বেশি। এসবের পাশাপাশি সরকারের কর বাবদ ১১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে যাবতীয় ব্যয় সমন্বয় করার পর দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাস শেষে সিঙ্গার বাংলাদেশের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এক বছরে কোম্পানিটির লোকসান বেড়েছে ৫ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা বাড়া সত্ত্বেও লোকসান বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং পরিচালন ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে সিঙ্গার বাংলাদেশ এখন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের দিকে নজর দেবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঋণের সুদ পরিশোধের দায় অনেক কোম্পানির জন্যই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি নিট মুনাফাকে প্রভাবিত করছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]