সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে একটি খাবার হোটেলের বেসিনের সামনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সার ডিলারের লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন রূপবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আকরাম হোসেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডিলারশিপ পেতে হলে আবেদনকারীর নিজস্ব বা ভাড়ায় নেওয়া সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত জায়গাসম্পন্ন গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন যে স্থানটিকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়েছেন, সেটি মূলত একটি সাধারণ খাবার হোটেলের অংশ। হোটেলের বেসিনের মতো ছোট ও অস্বাস্থ্যকর জায়গায় কীভাবে সারের মতো রাসায়নিক দ্রব্য মজুত রাখা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। সারের গুদাম হতে হলে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকার কথা। কিন্তু এখানে সেই সব শর্তের কোনো বালাই নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কৃষি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তিনি এমন অবিশ্বাস্যভাবে গুদামের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছেন।
ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের তদন্তের যে বিধান রয়েছে, সেটি কতটা কার্যকরভাবে পালিত হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরেজমিনে সেই জায়গা পরিদর্শনের পর সত্যতা যাচাই করে ডিলারশিপের সুপারিশ করার কথা। যদি তাই করা হতো, তবে একটি হোটেলের বেসিন কীভাবে গুদামের মর্যাদা পেল, তা সহজেই দৃশ্যমান হতো। সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে এবং যোগসাজশের মাধ্যমেই মূলত এই অনিয়মটি করা হয়েছে। এতে করে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। নিয়ম ভেঙে এভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে, যখন কৃষকরা মৌসুমের সময় সারের জন্য হাহাকার করেন, তখন সঠিক গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা ছাড়া ডিলারশিপের লাইসেন্স দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকার দিকে নজর দিয়েছেন এলাকাবাসী।
সার ডিলার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে সার ব্যবসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হোটেলের বেসিনে সাইনবোর্ড লাগানোর এই ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ধরনের অনিয়ম যদি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কৃষক পর্যায়ে সারের সঠিক বিতরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিল এবং এই জালিয়াতির পেছনে থাকা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৪ অপরাহ্ণ