সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে একজনের মৃত্যু, টানা তিন দিন লুটপাটের শিকার ৪০ বাড়ি
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রামের পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তার ও হামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে গ্রামটি বর্তমানে অনেকটা পুরুষশূন্য অবস্থায় রয়েছে। অসহায় নারী ও শিশুরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে টানা তিন দিন ধরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের প্রভাবশালী দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরে সম্প্রতি এক সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্রতিপক্ষের লোকজন মৃত ব্যক্তির স্বজনদের বসতবাড়িগুলোতে হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভাষ্যমতে, অন্তত ৪০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছেন, হামলাকারীরা ঘর থেকে গরু, ধান, পাওয়ার টিলার, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা লুট করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রামের পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তার এড়াতে এবং প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ায় বাড়িগুলোতে এখন কেবল নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা অবস্থান করছেন। গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এতটাই প্রকট যে, অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারছেন না। ঘরে থাকা খাবার বা গবাদি পশুও নিরাপদ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। নিরাপত্তার অভাবের কারণে তারা কোনো প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছেন না। লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে, তবে হামলাকারীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা অবিলম্বে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা বা ঘটনার বিশদ তদন্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পুলিশের একটি দল এলাকাটিতে টহল জোরদার করেছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং লুটপাটের অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। জনশূন্য এই গ্রামে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। আপাতত গ্রামটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]