খুঁজুন
, ,

সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে একজনের মৃত্যু, টানা তিন দিন লুটপাটের শিকার ৪০ বাড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে একজনের মৃত্যু, টানা তিন দিন লুটপাটের শিকার ৪০ বাড়ি

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রামের পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তার ও হামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে গ্রামটি বর্তমানে অনেকটা পুরুষশূন্য অবস্থায় রয়েছে। অসহায় নারী ও শিশুরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে টানা তিন দিন ধরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের প্রভাবশালী দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরে সম্প্রতি এক সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্রতিপক্ষের লোকজন মৃত ব্যক্তির স্বজনদের বসতবাড়িগুলোতে হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভাষ্যমতে, অন্তত ৪০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছেন, হামলাকারীরা ঘর থেকে গরু, ধান, পাওয়ার টিলার, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা লুট করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রামের পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তার এড়াতে এবং প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ায় বাড়িগুলোতে এখন কেবল নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা অবস্থান করছেন। গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এতটাই প্রকট যে, অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারছেন না। ঘরে থাকা খাবার বা গবাদি পশুও নিরাপদ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। নিরাপত্তার অভাবের কারণে তারা কোনো প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছেন না। লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে, তবে হামলাকারীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা অবিলম্বে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা বা ঘটনার বিশদ তদন্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পুলিশের একটি দল এলাকাটিতে টহল জোরদার করেছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং লুটপাটের অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। জনশূন্য এই গ্রামে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। আপাতত গ্রামটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হয়েছে।

পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত তৈরি পোশাক শিল্পে গত কয়েক দিন ধরে যে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তা এখন অনেকটাই থিতু হওয়ার পথে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং কর্মস্থলে অসন্তোষের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া যে বাধার সম্মুখীন হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রচেষ্টায় আগামী রবিবার থেকে শিল্পখাতটি আবারও তার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই রবিবার সকালে কারখানাগুলোর গেট খুলে দেওয়া হবে এবং পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। বিগত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে যে ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করাই এখন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।

মূলত অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের বিষয়টি এই স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে বেতন প্রদানের উদ্যোগটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মালিকদের ভাষ্যমতে, সঠিক সময়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারলে তাদের মধ্যে থাকা অসন্তোষ অনেকটাই প্রশমিত হবে এবং কারখানার ভেতরে কর্মপরিবেশ অনুকূল হবে। শ্রমিকদের দাবি ছিল যৌক্তিক এবং সেই দাবি পূরণে মালিকপক্ষও আন্তরিকতা দেখিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

পোশাক শিল্প যেহেতু একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত এবং এর সঙ্গে সরাসরি লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত, তাই এই খাতের অচল অবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অস্থিরতার দিনগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় যে সাময়িক ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে কারখানায় অতিরিক্ত শ্রম ও সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, শ্রমিকদের সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলে খুব দ্রুতই এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। রবিবার থেকে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অটুট থাকবে এবং রপ্তানি আদেশগুলো সময়মতো পূরণ করা সহজ হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল কারখানার মালিকদের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পোশাক শিল্পের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা সরকার এবং শিল্প মালিক—উভয়েরই অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই উৎপাদন কাজ চলতে থাকে।

সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মমুখর পরিবেশ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে একটি অস্থির সময়ের অবসান হতে যাচ্ছে বলে আশা করা যায়। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের ফলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই শিল্পাঞ্চলে যারা শ্রম দিচ্ছেন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও মালিকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পখাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেছেন বলে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই বৈঠকটি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যেকার সম্পর্কের টানাপোড়েন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এই ধরনের সামরিক আলোচনার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে যে, ট্রাম্প তার নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার উপায়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। তবে এই সম্ভাব্য সামরিক হামলার ধরন বা সময়সীমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো আক্রমণ বা চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এই রণকৌশলটি মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান যেকোনো সময় তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের নিরাপত্তা টিমকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের অবস্থান এবং সেখানে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, ইরানের বর্তমান সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সেই হুমকি মোকাবিলার জন্য ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি খোলা রাখছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখনই জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন, তখন তা কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস দেয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ইরান কি ধরনের পাল্টা জবাব দেবে, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তেহরান অবশ্য মার্কিন হুমকির বিষয়টি সবসময়ই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান তাদের সীমান্ত ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন করে সামরিক হামলার আলোচনার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্বনেতারা এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন যাতে কোনো বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে না পড়ে।

হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে একটি খাবার হোটেলের বেসিনের সামনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সার ডিলারের লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন রূপবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আকরাম হোসেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডিলারশিপ পেতে হলে আবেদনকারীর নিজস্ব বা ভাড়ায় নেওয়া সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত জায়গাসম্পন্ন গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন যে স্থানটিকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়েছেন, সেটি মূলত একটি সাধারণ খাবার হোটেলের অংশ। হোটেলের বেসিনের মতো ছোট ও অস্বাস্থ্যকর জায়গায় কীভাবে সারের মতো রাসায়নিক দ্রব্য মজুত রাখা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। সারের গুদাম হতে হলে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকার কথা। কিন্তু এখানে সেই সব শর্তের কোনো বালাই নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কৃষি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তিনি এমন অবিশ্বাস্যভাবে গুদামের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছেন।

ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের তদন্তের যে বিধান রয়েছে, সেটি কতটা কার্যকরভাবে পালিত হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরেজমিনে সেই জায়গা পরিদর্শনের পর সত্যতা যাচাই করে ডিলারশিপের সুপারিশ করার কথা। যদি তাই করা হতো, তবে একটি হোটেলের বেসিন কীভাবে গুদামের মর্যাদা পেল, তা সহজেই দৃশ্যমান হতো। সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে এবং যোগসাজশের মাধ্যমেই মূলত এই অনিয়মটি করা হয়েছে। এতে করে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। নিয়ম ভেঙে এভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে, যখন কৃষকরা মৌসুমের সময় সারের জন্য হাহাকার করেন, তখন সঠিক গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা ছাড়া ডিলারশিপের লাইসেন্স দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকার দিকে নজর দিয়েছেন এলাকাবাসী।

সার ডিলার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে সার ব্যবসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হোটেলের বেসিনে সাইনবোর্ড লাগানোর এই ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ধরনের অনিয়ম যদি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কৃষক পর্যায়ে সারের সঠিক বিতরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিল এবং এই জালিয়াতির পেছনে থাকা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সর্বশেষ
পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে?