ধামরাইয়ে দুই রাতে দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ: আতঙ্কে এলাকাবাসী
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় একের পর এক বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনকভাবে পরপর দুই রাতে পার্কিং করে রাখা দুটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তে নেমেছে। অগ্নিকাণ্ডের এসব ঘটনায় গাড়ির মালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ধামরাই থানা রোড এলাকায়। সেখানে মেরামত করার জন্য রাখা একটি বাসে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই পরের রাতে অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শ্রীরামপুর এলাকায় আরও একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা বাসটিতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। দুই রাতের এই অগ্নিকাণ্ডে বাস দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ৯ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের মালামাল ও আশেপাশের স্থাপনা আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
পরপর দুই রাতে একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে পার্কিং করা গাড়িতে এভাবে আগুন লাগার ঘটনা জনমনে নিরাপত্তার অভাব বোধ তৈরি করেছে। এলাকাটিতে এর আগেও এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাস মালিকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্য থাকলে বা পরিকল্পিতভাবে কেউ এই অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে বাস দুটির মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে আরও স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় এখনই কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। মহাসড়ক ও থানা রোড এলাকায় রাতে টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণেও কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে কে বা কারা রাতের আঁধারে এই কাজ করছে, তা নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে ধামরাই ও এর আশপাশের এলাকায় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]