খুলনায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপন: তদন্তে পুলিশ
খুলনা রেল স্টেশনের দেয়ালে শিল্পীদের নিপুণ হাতে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্রাফিতি বা প্রতিকৃতি কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসীর নজরে আসলে বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হয়। প্রতিকৃতিটি নষ্ট করার পাশাপাশি ঠিক তার পাশেই রাজনৈতিক প্রচারপত্র বা পোস্টার সেঁটে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিল্পকর্মটি এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা বিষয়টি লক্ষ্য করার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। শুক্রবার দিনগত দুপুরের দিকে প্রথম স্থানীয়দের চোখে পড়ে যে, রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির ওপর কালির আস্তরণ দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রেল স্টেশনের মতো একটি জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দেয়ালে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর খুলনা সদর থানা পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। তবে ঘটনার সময় এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় রেল স্টেশনের বিপরীত পাশের বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাট বন্ধ ছিল। জনসমাগম কম থাকায় দুর্বৃত্তরা খুব সহজেই এই অঘটনটি ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, আশেপাশের এলাকার তথ্য যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি কেবল শিল্পকর্মের ওপর হামলা নয়, বরং এটি সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের অনুভূতির ওপর আঘাত বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বমানের ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি এভাবে কালি লেপে নষ্ট করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর আগে এই গ্রাফিতিটি স্থানীয় শিল্পীরা যত্ন সহকারে অঙ্কন করেছিলেন, যা স্টেশনের সৌন্দর্য বর্ধনে ভূমিকা রাখছিল। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রেল স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং শীঘ্রই দায়ীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]