খুঁজুন
, ,

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ‘বিগ‑বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ উদ্যোগের বিস্তার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ‘বিগ‑বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ উদ্যোগের বিস্তার

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরটি দেশের অর্থনৈতিক কৌশলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরের মূল আলোচনার মধ্যে অন্যতম ছিল বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়, যাকে প্রায়ই ‘বিগ‑বি’ বলা হয়, এবং এই উদ্যোগকে ‘বিগ‑বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে একটি নতুন কাঠামোতে প্রসারিত করার পরিকল্পনা।

সফরের সময় জাপানি পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনা করে উভয় দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মডেল গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। এই মডেলটি শুধুমাত্র বিনিয়োগের মাত্রা বাড়াবে না, বরং স্থানীয় উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষ করে, জাপানের উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও গবেষণা সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত শিল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় জাপান সরকারও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দু’দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে চলমান রপ্তানি-আমদানি চুক্তিগুলোকে ভিত্তি করে নতুন সেক্টরে, যেমন ইলেকট্রনিক্স, রসায়ন, জ্বালানি ও পরিবহন, যৌথ প্রকল্প চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোকে ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে উভয় দেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

বিগ‑বি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বঙ্গোপসাগরের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে একত্রে আনা এবং একটি সমন্বিত শিল্প প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক গঠন করা। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য, সরবরাহ শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। জাপান সফরে উল্লিখিত ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ মডেলটি এই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে, যেখানে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি করা হবে এবং লাভের অংশীদারিত্বও সমানভাবে বণ্টন করা হবে।

সফরের পরিপ্রেক্ষিতে, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাংলাদেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে মজবুত করবে। বিশেষ করে, জাপানের উচ্চমানের প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মশক্তি বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করলে রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান উন্নত হবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরটি কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘বিগ‑বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ কাঠামোটি বাস্তবায়নের জন্য উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বেসরকারি সংস্থা এবং শিল্প সমিতিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনসাধারণের জীবনের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চোটের কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে গেলেন রোনান সুলিভান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
   
চোটের কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে গেলেন রোনান সুলিভান

আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ স্ট্রাইকার রোনান সুলিভান ইনজুরির কারণে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটবলারের ছিটকে পড়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে রোনানকে দলে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাওয়া চোট তার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই রোনান সুলিভানের পারফরম্যান্সের দিকে নজর ছিল জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের। তার খেলার ধরণ এবং ড্রিবলিংয়ের দক্ষতা বাংলাদেশ দলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে সাফ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শনিবার তার ঢাকার উদ্দেশে বিমানে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ইনজুরি সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। খেলোয়াড় এবং দলের সংশ্লিষ্টদের জন্য এটি অত্যন্ত হতাশাজনক একটি সংবাদ।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগমুহূর্তে রোনান চোট পেয়েছেন। এই ইনজুরি কতটা গুরুতর এবং সেরে উঠতে কতদিন সময় লাগতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে আপাতত তাকে মাঠের বাইরেই থাকতে হবে। এর ফলে সাফের আসন্ন আসরে বাংলাদেশ দলের আক্রমণভাগে তাকে পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। দলের জন্য এটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। রোনানকে হারানোর ফলে বাংলাদেশ দলকে এখন নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হবে এবং বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে ভাবতে হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তরুণ ফুটবলাররা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, তাতে রোনানের মতো প্রবাসী প্রতিভাবান ফুটবলারদের অংশগ্রহণ ছিল বাড়তি অনুপ্রেরণার। প্রবাসী ফুটবলারদের জাতীয় দলের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার যে চেষ্টা বাফুফে চালিয়ে যাচ্ছে, রোনানের ইনজুরি সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ছেদ ফেললেও তারা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রোনান বর্তমানে চিকিৎসার অধীনে রয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় আছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের সেই স্বপ্ন আপাতত স্থগিত হলেও, ভবিষ্যতে তাকে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেখার প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এখন দেখার বিষয়, রোনানের অনুপস্থিতিতে জাতীয় দলের কোচ সাফের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে কাকে বেছে নেন এবং মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয়।

সাজেক রুটে পাল্টাপাল্টি অবরোধে স্থবির যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পর্যটক ও স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাজেক রুটে পাল্টাপাল্টি অবরোধে স্থবির যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পর্যটক ও স্থানীয়রা

রাঙামাটির পর্যটন এলাকা সাজেকের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাজেকগামী দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। মূলত দুটি সংগঠনের ডাকা পূর্বনির্ধারিত অবরোধ কর্মসূচি একদিনের জন্য শিথিল করার ঘোষণা এলেও, নতুন করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে সাজেক ভ্রমণে আসা অসংখ্য পর্যটক আটকা পড়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করতে গিয়ে নানামুখী সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকায় এই অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে মূলত বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সাজেক রুটে গাড়ি চালক ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। রোববার সকাল থেকেই এই ধর্মঘট কার্যকর হয়েছে, যার ফলে দীঘিনালা থেকে সাজেক এবং বাঘাইছড়ি পর্যন্ত কোনো ধরনের যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের দাবি, তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বারবার উপেক্ষিত হওয়ার কারণে তারা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর আগে সাজেক সড়কে যে অবরোধ চলছিল, সেটি শিথিল করার ঘোষণা আসার পরপরই পরিবহন শ্রমিকদের এই পাল্টা কর্মসূচি সড়কে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

তবে আন্তজেলা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন জেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। শুধুমাত্র সাজেক রুটের নির্দিষ্ট অংশেই এই অচলাবস্থা বিদ্যমান। হঠাৎ করে এমন ধর্মঘটের ঘোষণায় পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক পর্যটক গাড়ি না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ফেরত যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি।

সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেক উপত্যকায় আটকা পড়া পর্যটকদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা দুর্গম এলাকায় অবস্থান করছেন, তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়েছে, তবে কবে নাগাদ এই অচলাবস্থা কেটে যাবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগী পরিবহন চালকরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দ্রুত নিরসন করা সম্ভব হয়। যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রার্থী মনোনয়ন পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোতে জবাবদিহিতার জায়গাটি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের চেয়ে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশেষ করে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং পারিবারিক নেতৃত্বের প্রভাব দলগুলোর গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

রাজনীতিতে মনোনয়ন বাণিজ্য এমন একটি ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দলের তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। বিএনপির মতো বড় দলে প্রায় এক দশক ধরে কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়া অভ্যন্তরীণ স্থবিরতারই বহিঃপ্রকাশ। এই দীর্ঘ সময়ে দলে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথ যেমন রুদ্ধ হয়েছে, তেমনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতের গুরুত্ব কমে গেছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাউন্সিল না হওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই চিত্র দেখা যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোর ক্ষেত্রেও। অভিযোগ রয়েছে, এই দলগুলোতেও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে মেধা বা যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেন ও লবিংয়ের প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু এই তিনটি দলই নয়, দেশের অন্তত দশটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের কাঠামো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। অধিকাংশ দলেই শীর্ষ নেতৃত্ব বংশপরম্পরায় বা পারিবারিক বলয় থেকে নির্ধারিত হচ্ছে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভবন দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যখন কোনো দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একটি পরিবারের বা অল্প কিছু ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে, তখন সেখানে সাধারণ কর্মী বা ত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এটি দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করছে এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি নির্ভর করে তার তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয়তা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর। কিন্তু বর্তমানে দেশের অধিকাংশ দলই ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের প্রভাব এতটাই বেশি যে, সেখানে দলের গঠনতন্ত্রের চেয়েও ব্যক্তির ইচ্ছাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হচ্ছে। কাউন্সিল না করার প্রবণতা বা নামকাওয়াস্তে কাউন্সিল করার সংস্কৃতি দলগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। মনোনয়ন বাণিজ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে এবং অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নির্বাচনের এই রেওয়াজ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাজনৈতিক দলগুলোতে সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এই সংকট নিরসন হচ্ছে না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং তৃণমূলের প্রকৃত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে মূল ভিত্তি, তা নড়বড়ে হয়ে পড়বে এবং সাধারণ জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা আরও হ্রাস পাবে।

সর্বশেষ
চোটের কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে গেলেন রোনান সুলিভান সাজেক রুটে পাল্টাপাল্টি অবরোধে স্থবির যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পর্যটক ও স্থানীয়রা রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড মিরপুর‑১০-এ শ্রমিকদের প্রতিবাদে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন মৌসুমের সূচনা, তবে জাহাজ চলাচল এখনও স্থগিত ইরান তেহরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলার হুমকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বন্ধুসভার পাঠচক্রে সুকুমার রায় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ‘বিগ‑বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ উদ্যোগের বিস্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজকে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার
Advertisement