খুঁজুন
, ,

আমরা ঘরে বসে রাজনীতি করি না, আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন অটুট: মির্জা আব্বাস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
আমরা ঘরে বসে রাজনীতি করি না, আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন অটুট: মির্জা আব্বাস

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এক জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করার কোনো অবকাশ নেই। তিনি দাবি করেন যে, দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি যেমন শক্তিশালী, তেমনি দেশের সাধারণ জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনও তাদের রয়েছে। মির্জা আব্বাস দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, তারা কেবল ঘরে বসে রাজনীতি বা লড়াই চালিয়ে যান না। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি তাদের সাংগঠনিক শক্তির শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত রয়েছে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে যে ধরনের তীর্যক মন্তব্য বা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক খুঁটি অত্যন্ত মজবুত। দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে গিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কেবল বাহ্যিক কোনো উপায়ে বা সাময়িক উত্তেজনার মাধ্যমে এই দলকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তার ভাষ্যমতে, বিএনপির শক্তির উৎস হলো সাধারণ মানুষ, যারা সবসময়ই তাদের পাশে ছিল। দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে দলের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং রাজপথে সক্রিয় থেকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।

একই সঙ্গে দলের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, অনেকে বিএনপিকে দুর্বল মনে করে ভুল করছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপির কর্মপদ্ধতি ও আদর্শের পার্থক্য রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কোনো বিচ্ছিন্ন দল নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি, যারা তৃণমূলের মানুষের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, যখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন দলের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাহস জোগাতে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মির্জা আব্বাস আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থাই তাদের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। যারা মনে করেন বিএনপি ভেসে এসেছে, তারা মাঠপর্যায়ের রাজনীতির বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তিনি মনে করেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দৃঢ় মনোবল থাকলে যে কোনো রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাদের শক্তি কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমষ্টিগত ও সাংগঠনিক। দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের শক্তি হিসেবে কাজ করে। বিরোধী পক্ষকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় লিপ্ত না হয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, বিএনপি আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তারা তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়তে রাজি নয়। মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়েই দলটি এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

স্পিনের ফাঁদ নিজেদেরই গলার কাঁটা, মিরপুর টেস্টে টাইগারদের হতাশাজনক পরাজয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
স্পিনের ফাঁদ নিজেদেরই গলার কাঁটা, মিরপুর টেস্টে টাইগারদের হতাশাজনক পরাজয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মিরপুর টেস্টে যে কৌশল নিয়ে নেমেছিল, তা শেষ পর্যন্ত নিজেদের জন্যই বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা নিয়ে স্পিনের যে জাল বিছানো হয়েছিল, সেই জালের ফাঁসেই আটকা পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে পরাজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে দলের ব্যাটারদের স্পিন খেলার অদক্ষতা এবং বোলারদের পর্যাপ্ত ধারহীনতা। চার দিনের মাথায় ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় মেনে নেওয়ার পর অধিনায়ক শান্ত নিজেও স্বীকার করেছেন যে, পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছে দল।

ক্রিকেট বিশ্বে ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। প্রতিটি দলই চেষ্টা করে নিজেদের কন্ডিশন অনুযায়ী পিচ প্রস্তুত করতে। তবে সেই সুবিধা নিতে হলে যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, এই টেস্টে বাংলাদেশ সেটি দেখাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে ক্যারিবীয় স্পিনাররা যে পরিমাণ টার্ন আদায় করেছেন, তার তুলনায় বাংলাদেশের স্পিনাররা ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা উইকেট থেকে গড়ে সাড়ে ৩ ডিগ্রি টার্ন পেয়েছেন। বিপরীতে স্বাগতিক বোলারদের টার্ন ছিল গড়ে ৩ ডিগ্রি। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো কোনো ডেলিভারি ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরেছে, যা বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য সামলানো প্রায় দুঃসাধ্য ছিল। বাংলাদেশের স্পিনাররা যে টার্ন পাচ্ছিলেন, তা ছিল অনেকটাই ধীরগতির এবং নিচু বাউন্সের, যা ক্যারিবীয়দের জন্য খুব একটা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

ম্যাচের চতুর্থ দিনের চিত্রটা ছিল আরও করুণ। জয়ের জন্য খুব বড় লক্ষ্য তাড়া করার প্রয়োজন ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের, কিন্তু তার আগেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ যেভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, তা ছিল হতাশাজনক। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার রোস্টন চেজ এবং জোমেল ওয়ারিক্যান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া ওয়ারিক্যান দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন চার উইকেট। অন্যদিকে রোস্টন চেজ ঘূর্ণিজাদু দেখিয়ে নিজের ঝুলিতে ভরেছেন পাঁচটি উইকেট। আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে খেলতে নামা বাংলাদেশ মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই তাদের অবশিষ্ট সব উইকেট হারায়।

স্পিনের ফাঁদ পেতে উল্টো নিজেরাই যে সেই ফাঁদে আটকা পড়া যায়, তা এই টেস্টে যেন হাতে-কলমে শিখিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে কেবল উইকেটের সুবিধা নিলে চলে না, সেই উইকেটে ব্যাট ও বল হাতে টিকে থাকার মতো পারদর্শিতাও দেখাতে হয়। এই সিরিজে বাংলাদেশ সেই জায়গাতেই পিছিয়ে ছিল। টেস্টের আরও অনেক খুঁটিনাটি ভুলত্রুটি সামনে এলেও, মিরপুরের এই পরাজয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। স্পিনিং ট্র্যাকের সুবিধা নিতে গিয়ে নিজেরা যে ভুলটি করেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সঠিক পরিকল্পনা না সাজালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন হারের পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা থেকেই যাবে।

এক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলে ইলন মাস্ক কী করতে পারতেন?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
এক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলে ইলন মাস্ক কী করতে পারতেন?

বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় ইলন মাস্ক নিয়মিত শিরোনামে থাকেন। তাঁর প্রযুক্তিবান্ধব উদ্ভাবন এবং মহাকাশ গবেষণার নেশা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি কখনো ইলন মাস্কের নিট সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে, তবে সেই অভাবনীয় পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি কী কী করতে পারবেন? সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে থাকা এই বিশাল অংকের টাকা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে সক্ষম।

এক ট্রিলিয়ন ডলার হলো ১০ লক্ষ কোটি ডলার। বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিশ্বের বড় বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। প্রথমত, ক্ষুধার সমস্যা সমাধানে এই অর্থের বিশাল ভূমিকা থাকতে পারে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বড় একটি অংশের মানুষের সুষম খাদ্যের অভাব রয়েছে। মাস্ক চাইলে তাঁর সম্পদের একটি বড় অংশ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কৃষিব্যবস্থা ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, যা কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এই অর্থ দিয়ে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ এক বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। মাস্কের আগ্রহ যেহেতু নবায়নযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জি নিয়ে, তাই এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে তিনি সারা পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বায়ুবিদ্যুৎ বা উন্নত মানের ব্যাটারি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং পরিবেশ রক্ষা পাবে।

তৃতীয়ত, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সারা বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে উন্নত মানের আধুনিক হাসপাতাল তৈরি এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা যেতে পারে। ক্যান্সার বা দুরারোগ্য ব্যাধির গবেষণায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ঢেলে দিলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

চতুর্থত, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ইলন মাস্কের যে আকাঙ্ক্ষা, তা এই অর্থে পূর্ণতা পেতে পারে। মঙ্গল গ্রহে মানববসতি স্থাপনের যে স্বপ্ন তিনি দেখেন, তাতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তাকে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিতে পারে। মহাকাশ স্টেশনে নতুন প্রজন্মের রকেট পাঠানো, আন্তঃগ্রহ যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি এবং মানুষের জন্য বিকল্প আবাসস্থল তৈরির পরিকল্পনা এই বাজেটে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে।

সবশেষে, এই বিশাল অর্থ কেবল ব্যক্তিগত খামখেয়ালিতে ব্যয় না করে যদি মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবে তা পৃথিবীর ইতিহাসে ইলন মাস্ককে অমর করে রাখবে। যদিও সম্পদ থাকলেই তা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের মতো বিশাল পরিমাণ মূলধন সঠিক খাতে বিনিয়োগ করতে পারলে তা বর্তমান পৃথিবীর আর্থ-সামাজিক কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। মাস্কের মতো দূরদর্শী চিন্তার একজন মানুষের হাতে এই পরিমাণ অর্থ থাকলে তা প্রযুক্তি এবং মানবতা—উভয় ক্ষেত্রেই অভাবনীয় গতি আনতে সক্ষম। বর্তমান সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মাঝে এমন বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।

রাজধানীর পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়িচাপায় গুরুতর আহত রিকশাচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রাজধানীর পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়িচাপায় গুরুতর আহত রিকশাচালক

রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা পল্টনের কালভার্ট রোডে শনিবার রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক রিকশাচালক। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিনগত রাতের কোনো এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে আগারগাঁওয়ের পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তিগত গাড়িটির মালিক অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি তিনি নিজে চালাচ্ছিলেন না, বরং গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন তার ছেলে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। দ্রুতগামী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালকসহ রিকশাকে আঘাত করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিবারের সাথে আলোচনার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে প্রায়ই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। বিশেষভাবে রিকশাচালক বা পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পল্টনের এই ঘটনাটি ফের সড়কের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের জড়িত থাকার কারণে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, গাড়ি চালানোর সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন সবার জন্য সমান। সুতরাং অপরাধ বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি থাকা রিকশাচালকের সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাড়িটি বেশ দ্রুতগতিতে আসছিল, যার ফলে রিকশাচালক নিজেকে বা তার রিকশাটিকে রক্ষা করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। সব মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ এখন ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি আশেপাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করছে। গাড়ির চালক অর্থাৎ সাবেক সিআইডি প্রধানের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে কি না, সেটিও এখন সময়ের অপেক্ষা।

সর্বশেষ
স্পিনের ফাঁদ নিজেদেরই গলার কাঁটা, মিরপুর টেস্টে টাইগারদের হতাশাজনক পরাজয় এক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলে ইলন মাস্ক কী করতে পারতেন? রাজধানীর পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়িচাপায় গুরুতর আহত রিকশাচালক আজ টিভিতে যা দেখবেন (১ নভেম্বর ২০২৬) এইচএসসির ফল প্রকাশ: সন্তানের কৃতিত্ব দেখার আগেই নিথর হলো বাবার বুক জামালপুরে চারটি কলেজে এইচএসসিতে শূন্য পাস, হতাশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আমরা ঘরে বসে রাজনীতি করি না, আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন অটুট: মির্জা আব্বাস কৃষিপণ্যের স্থায়িত্ব বাড়াতে বিনায় উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র জোরারগঞ্জে ড্রাম ট্রাকে সার পাচারের চেষ্টা: ৩০১ বস্তা সারসহ আটক ৮ ইরানে হামলা চালালে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির
Advertisement