খুঁজুন
, ,

এইচএসসির ফল প্রকাশ: গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশ: গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হলো চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত এই পাবলিক পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত তথ্য অনুযায়ী, এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ থাকলেও তা পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেই ঘোষণা অনুযায়ীই ফল প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর সামগ্রিক পাসের হারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, বিগত বছরের তুলনায় এবারে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলের বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পাসের হার ৬১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সকল বোর্ডের ফলাফল যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পাসের হার হ্রাসের কারণ সম্পর্কে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ফল কিছুটা বিপর্যয়কর হওয়ার কারণে সামগ্রিক পাসের হার কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য যে, সারা দেশে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম-বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স এই সকল ধারার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য ফলাফল উন্মুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকলে বা প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বর না পেলে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া এবং নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নোটিশে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকে বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তাদের ফলাফল দ্রুত জানতে সক্ষম হয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে চলমান একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া। সামগ্রিকভাবে এবারের এইচএসসির ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

এইচএসসি পরীক্ষায় বিদেশের কেন্দ্রে নজরকাড়া সাফল্য, পাসের হার নব্বই শতাংশের বেশি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
এইচএসসি পরীক্ষায় বিদেশের কেন্দ্রে নজরকাড়া সাফল্য, পাসের হার নব্বই শতাংশের বেশি

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশজুড়ে ফলাফলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বিদেশের কেন্দ্রগুলোর ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এবার বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত সময়ের তুলনায় বেশ ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ফলাফলের বিভিন্ন দিক ও পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান যে, দেশের বাইরের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে এবার শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং পরীক্ষার ফলাফল বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক হয়েছে।

বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে পাসের এই হার শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের নির্দেশনার প্রতিফলন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিদেশের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং পাঠদান পদ্ধতিতে যে আধুনিকায়ন আনা হয়েছে, তার সুফল এবারের পরীক্ষায় পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠদান এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান যে, বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম সুযোগ-সুবিধা পেয়েও যে সাফল্যের হার দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া এবং সময়মতো ফলাফল প্রকাশের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমানের শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।

ফলাফল প্রকাশের পর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও দেশের অভ্যন্তরে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে, তবে বিদেশের কেন্দ্রগুলোর এই সাফল্য শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বাইরের শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা যেভাবে ভালো ফলাফল করছে, তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী বছরগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সামগ্রিক ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও বোর্ডভিত্তিক তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং স্ব স্ব শিক্ষাবোর্ডের প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

মিরপুরে ধুঁকছে বাংলাদেশ, জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
মিরপুরে ধুঁকছে বাংলাদেশ, জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৪২ রানে। জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৭০ রান। এই রান তাড়া করতে নেমে দারুণ ছন্দে শুরু করেছে ক্যারিবীয়রা। অথচ টাইগার বোলাররা বারবার চেষ্টা করেও কোনো উইকেট তুলে নিতে পারছেন না।

ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তারা এখন পর্যন্ত ১৪.১ ওভার ব্যাট করেছে। এর মধ্যেই কোনো উইকেট না হারিয়ে তুলে ফেলেছে ৬৪ রান। উইকেটে টিকে থাকা দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ দলের বোলাররা উইকেট নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের সব পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত বিফল হয়েছে।

উইকেটের খোঁজে থাকা টাইগারদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর হলো আলোকস্বল্পতা। মাঠের পর্যাপ্ত আলোর অভাবে আম্পায়াররা খেলা সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেছেন। দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল যথাক্রমে ২৭ এবং ব্র্যান্ডন কিং ২৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ের কবলে পড়েছিল, যার ফলে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে স্বাগতিকরা।

সিরিজের প্রথম টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতার পর বোলিংয়েও ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। উইকেটে স্পিন বা পেস কোনোটিই খুব একটা কার্যকর করতে পারছেন না বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ সামলে দারুণভাবে রান তুলে চলেছেন। ম্যাচের এই পর্যায়ে বোলাররা যদি দ্রুত উইকেট নিতে না পারেন, তবে জয়ের পথ অনেক বেশি সুগম হয়ে যাবে সফরকারী দলের জন্য।

এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে খেলা আবার শুরু হওয়ার পর টাইগার বোলাররা কতটা বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করতে পারেন তার ওপর। বোলিং লাইনআপে পরিবর্তন বা কৌশলে নতুনত্ব না আনলে এই রান তাড়া করে জেতা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন দিনের পরের অংশের দিকে, যখন খেলা আবার শুরু হলে বোলাররা কোনো ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারেন কিনা। মিরপুরের পিচে এই মুহূর্তে টিকে থাকাটাই ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনাররা সেটি অনায়াসেই সামলে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রথম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন সফরকারীদের হাতেই।

জাপানে নিজের হাতে ট্রেন চালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
জাপানে নিজের হাতে ট্রেন চালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

জাপান ভ্রমণ মানেই প্রযুক্তির চমক আর নান্দনিক সব অভিজ্ঞতার সমাবেশ। সেই অভিজ্ঞতার তালিকায় এবার যোগ হয়েছে এক অভিনব এবং মজাদার সুযোগ। আপনি কি কখনো স্বপ্ন দেখেছেন ট্রেন চালানোর? সেই স্বপ্ন পূরণ করার দারুণ এক ব্যবস্থা রয়েছে জাপানের সাইতামা শহরে অবস্থিত একটি রেল জাদুঘরে। যেখানে পর্যটকরা কেবল ট্রেনের যাত্রী হয়েই গন্তব্যে পৌঁছান না, বরং চাইলে নিজেরাই হয়ে উঠতে পারেন ট্রেনের চালক। এই আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো ভার্চুয়াল গেম নয়, বরং বাস্তবের আদলে তৈরি রেললাইনে ছোট্ট ট্রেন চালানোর সুযোগ পান দর্শনার্থীরা।

জাপানের রেলওয়ে যাদুঘরগুলো বিশ্বের নানা প্রান্তের পর্যটকদের কাছে সব সময়ই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সাইতামার এই জাদুঘরটি তার চমৎকার সব আয়োজনের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও ট্রেন চালানোর আগ্রহ অনেক বেশি। সেই আগ্রহকে সম্মান জানাতেই তারা এমন একটি ট্র্যাক তৈরি করেছে, যা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসা হয়েছে। পুরো অভিজ্ঞতার জন্য খরচ ধরা হয়েছে মাত্র ৪৭০ টাকা বা সমমূল্যের জাপানি ইয়েন। এতো কম খরচে এমন একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ থাকায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে এই জাদুঘরে।

জাদুঘরটি পরিদর্শন করলে দেখা যায়, সেখানে ছোট ছোট ট্রেনের সারি সাজানো আছে। প্রতিটি ট্রেনের সঙ্গে চালকের জন্য আলাদা কেবিন বা ড্রাইভারস সিট রাখা হয়েছে। পর্যটকরা যখন এই কেবিনে প্রবেশ করেন, তখন তাদের মনে হতে পারে তারা যেন সত্যি কোনো ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চালক। রেললাইনগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে, তা আসল ট্রেন লাইনের ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে কাজ করে। সিগন্যাল মেনে চলা, গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্টেশনে ট্রেন থামানোর প্রতিটি ধাপ পর্যটকরা নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাপানি রেলওয়ের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও দর্শনার্থীদের মনে এক গভীর ছাপ ফেলে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার ভ্রমণের ভিডিওতে তুলে ধরেছেন কিভাবে সাধারণ পর্যটকরা খুব সহজেই লাইসেন্স ছাড়া বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই এই ট্রেনগুলো পরিচালনা করছেন। ভিডিওতে ট্রেনের রঙিন বগি এবং তার পেছনে চালকের আসন দেখে অনেকেই মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, জাপানে গিয়ে কেবল ফুজু পর্বত দেখা বা সুশি খাওয়ার বাইরে এমন সৃজনশীল কাজ তাদের ভ্রমণ আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাপানি পর্যটন কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই ধরনের ছোট আয়োজন পর্যটকদের মনে দেশের রেলওয়ে সংস্কৃতি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। এটি একইসাথে বিনোদন এবং শিক্ষার একটি মাধ্যম। যারা জাপানে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা চাইলে সাইতামার এই রেল জাদুঘরটিকে নিজেদের ভ্রমণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। প্রযুক্তির সাথে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে গড়ে তোলা এই জাদুঘরটি আগত পর্যটকদের জন্য জাপানের আধুনিক রেল খাতের এক অনন্য স্বাদ উপহার দিচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজের হাতে ট্রেনের হুইল ঘোরানোর এই অভিজ্ঞতা নিশ্চিতভাবেই যে কারো স্মৃতির পাতায় এক উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ
এইচএসসি পরীক্ষায় বিদেশের কেন্দ্রে নজরকাড়া সাফল্য, পাসের হার নব্বই শতাংশের বেশি মিরপুরে ধুঁকছে বাংলাদেশ, জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাপানে নিজের হাতে ট্রেন চালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস ফ্লোরিডায় নির্বাচনী প্রচারণায় বিক্ষোভের মুখে ট্রাম্প, মেজাজ হারিয়ে গালি দিলেন প্রতিবাদীকে যশোর বোর্ডে এইচএসসির ফলাফলে বড় ধস, একে ‘সঠিক মূল্যায়ন’ বলছে শিক্ষা বোর্ড এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে হত্যা মামলা, বন্ধু গ্রেফতার এইচএসসির ফল প্রকাশ: গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে
Advertisement