চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশজুড়ে ফলাফলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বিদেশের কেন্দ্রগুলোর ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এবার বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত সময়ের তুলনায় বেশ ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ফলাফলের বিভিন্ন দিক ও পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান যে, দেশের বাইরের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে এবার শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং পরীক্ষার ফলাফল বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক হয়েছে।
বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে পাসের এই হার শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের নির্দেশনার প্রতিফলন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিদেশের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং পাঠদান পদ্ধতিতে যে আধুনিকায়ন আনা হয়েছে, তার সুফল এবারের পরীক্ষায় পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠদান এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান যে, বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম সুযোগ-সুবিধা পেয়েও যে সাফল্যের হার দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া এবং সময়মতো ফলাফল প্রকাশের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমানের শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।
ফলাফল প্রকাশের পর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও দেশের অভ্যন্তরে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে, তবে বিদেশের কেন্দ্রগুলোর এই সাফল্য শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বাইরের শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা যেভাবে ভালো ফলাফল করছে, তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী বছরগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সামগ্রিক ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও বোর্ডভিত্তিক তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং স্ব স্ব শিক্ষাবোর্ডের প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ অপরাহ্ণ