খুঁজুন
, ,

হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা

চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যে মানুষগুলো দর্শককে হাসিয়েছেন কিংবা কাঁদিয়েছেন, সময়ের ব্যবধানে তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। এক সময়ের ব্যস্ত কর্মময় জীবন, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ঝনঝনানি আর সহকর্মীদের সাথে খুনসুটির দিনগুলো হঠাৎ করেই যেন অনেকটা থমকে দাঁড়ায় যখন পুরনো কোনো স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। প্রিয় সহকর্মীদের হারানোর বেদনা এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে, যা সময়ের সাথে সাথে কেবল বাড়তেই থাকে। এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসলেন বর্তমান প্রজন্মের এক শিল্পী, যেখানে বারবার ঘুরে ফিরে আসছিল প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পীদের কথা।

কথায় কথায় উঠে এল এটিএম শামসুজ্জামানের মতো দাপুটে অভিনেতার কথা। মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের এই কালজয়ী শিল্পী কেবল সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন অভিনয়ের এক জীবন্ত পাঠশালা। শুটিং সেটে তার উপস্থিতি মানেই ছিল শেখার এক দারুণ সুযোগ। সেই মানুষটি আজ নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া অভিনয়ের ছাপ এখনো প্রতিটি শটে জীবন্ত হয়ে ওঠে। একইসাথে উঠে এল পারভিন সুলতানা দিতি, যিনি তার সাবলীল অভিনয় আর অমায়িক ব্যবহারের জন্য সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার অকাল প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই রয়ে গেছে। সায়েমাসহ আরও যারা কাজ করতে করতে আজ ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের স্মৃতিই আজ এক মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে রেখেছে বেঁচে থাকা শিল্পীদের।

কাজের ফাঁকে আড্ডার ছলে যখন পুরনো দিনের শুটিংয়ের গল্প হয়, তখন মনে হয় যেন এই তো সেদিন তারা ছিলেন। ক্যামেরা সেটে মেকআপ নিতে নিতে কতশত হাসি-ঠাট্টা, দুপুরের খাবার শেয়ার করা কিংবা স্ক্রিপ্ট নিয়ে তুমুল আলোচনা—সবই যেন চোখের পলকের ঘটনা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দেয়াল যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন উপলব্ধি হয় পৃথিবীটা কত দ্রুত বদলে যায়। যেসব মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা হয়েছে, তারা আজ শুধুই স্মৃতি। এই শূন্যতা কি কখনো পূরণ হওয়ার মতো? প্রশ্ন জাগে, শিল্পের টানে মানুষ কত আপন হয়ে ওঠে, আবার সময়ের নিয়মে তারাই কত দূরে সরে যায়।

প্রয়াত শিল্পীদের সেই কাজগুলো এখন টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যখন দেখা যায়, তখন মনে হয় তারা যেন এখনো আমাদের আশেপাশেই আছেন। তাদের রেখে যাওয়া সৃষ্টিগুলোই তাদের অমর করে রেখেছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাদের কাছ থেকে শিখেছেন, অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নিয়েই এগিয়ে চলা। আজ যখনই কোনো শুটিং ফ্লোরে পা রাখা হয়, অবচেতনভাবেই পুরনো সেই চেনা মুখগুলো খুঁজে ফেরে মন। ক্যামেরা অন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তের সেই নীরবতায় প্রিয় মানুষগুলোর উপস্থিতি যেন আজও অনুভব করা যায়।

একজন শিল্পীর জন্য তার সহকর্মীদের হারানো মানে নিজের জীবনের একটি অংশ হারিয়ে ফেলা। কারণ, শুটিং ফ্লোরের দীর্ঘ সময়গুলোয় সহকর্মীরাই হয়ে ওঠেন দ্বিতীয় পরিবার। সেই পরিবারের সদস্য কমে যাওয়া মানে নিজের একান্ত ভুবনে একাকী হয়ে পড়া। তবে মৃত্যুর অমোঘ নিয়মে যারা চলে গেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানিয়েই বর্তমানের শিল্পীরা কাজ করে যাচ্ছেন। তারা মনে করেন, প্রিয় সহকর্মীদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাদের প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি। স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে না যাওয়া এই মানুষগুলো চিরকাল আমাদের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং দর্শকদের হৃদয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন। তাদের শূন্যতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু শিল্প অমর।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন ড. শহীদ উজ জামান

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
   
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন ড. শহীদ উজ জামান

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ স্টার্ট নেটওয়ার্কের বার্ষিক অ্যাসেম্বলি, কপ৩১ ও সেভ দ্য চিলড্রেনের এশিয়া আঞ্চলিক নেতৃত্ব সভায় অংশ নেবেন তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা, স্থানীয় নেতৃত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছেন ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং স্টার্ট বাংলাদেশ হাবের চেয়ার ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।

আগামী নভেম্বর মাসে তুরস্কে স্টার্ট নেটওয়ার্কের বার্ষিক অ্যাসেম্বলি ও জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া আঞ্চলিক নেতৃত্ব দলের সভায় অংশ নেবেন তিনি।

আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে স্টার্ট নেটওয়ার্কের বার্ষিক অ্যাসেম্বলি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে নেটওয়ার্কের শক্তি’। ৫ নভেম্বর ওয়ার্ল্ড ক্যাফে আলোচনায় তিনি এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের যৌথ তহবিল গঠনে স্টার্ট বাংলাদেশ হাবের উদ্যোগ, দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। একই দিনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি নিয়েও একটি বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এ ছাড়া ৩ নভেম্বর স্টার্ট নেটওয়ার্কের বার্ষিক সাধারণ সভায় মেম্বার ট্রাস্টি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। এ সময় মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১।

সম্মেলনের ৯ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ‘From Loss and Damage to Local Resilience’ শীর্ষক আয়োজনে ইএসডিওর পক্ষ থেকে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। এতে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে।

১৪ নভেম্বর ‘Community-led Adaptation and Climate Justice’ শীর্ষক অধিবেশনে ‘From Vulnerability to Agency’ শিরোনামে উপস্থাপনা দেবেন তিনি। জামালপুরে নারীদের জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে তাঁর ও ড. সেলিমা আখতারের যৌথ গবেষণার আলোকে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সম্পদ ও সেবায় প্রবেশাধিকার এবং জেন্ডার সংবেদনশীল জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। গবেষণাটি ২০২৫ সালে MOJ Public Health সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়া ১১ নভেম্বর নারী নেতৃত্ব ও জলবায়ু উদ্যোগবিষয়ক একটি অধিবেশনের আলোচনা পর্ব এবং ১২ নভেম্বর সুন্দরবন অঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন ও জেন্ডার সংবেদনশীল প্রকৃতিভিত্তিক অভিযোজনবিষয়ক আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

তুরস্কের কর্মসূচি শেষে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের আমন্ত্রণে ১৬ থেকে ২০ নভেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া আঞ্চলিক নেতৃত্ব দলের (আরএলটি) সভায় অংশ নেবেন তিনি। এ সভায় আঞ্চলিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি ইএসডিওর উন্নয়ন কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইএসডিও দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য বিমোচন, শিশুর অধিকার সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। আন্তর্জাতিক এসব আয়োজনে ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, মানবিক কার্যক্রম এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন উদ্যোগ বিশ্বপরিমণ্ডলে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মালয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মালয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

ভারতের জলন্ধরে চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশ গোল হজম করেছে ছয়টি, বিপরীতে গোল এসেছে মাত্র একটি। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছে দলের পারফরম্যান্সে।

ভারতের জলন্ধরে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স চরম হতাশাজনক। টুর্নামেন্টের নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়ে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ছয়টি গোল হজম করে জিমি-আমিরুলদের দল। ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি আসে আমিরুল ইসলামের স্টিক থেকে। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মোট বিশটি গোল হজম করেছে, যা দলের সামগ্রিক প্রস্তুতির অভাবকে ফুটিয়ে তুলছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মালয়েশিয়ার দাপটের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারে এক গোল হজম করার পর থেকেই রক্ষণভাগে চাপ বাড়তে থাকে। তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ওই সময়ে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায় করে নিয়ে স্কোরলাইন ১-১ এ সমতায় ফেরান আমিরুল ইসলাম। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল ম্যাচে লড়াই হবে, কিন্তু সেই আশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকেই মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড লাইন বাংলাদেশের রক্ষণব্যুহ ভেঙে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে।

পরবর্তী কোয়ার্টারগুলোতে মালয়েশিয়ার গতিময় হকির সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। একের পর এক গোল হজম করার ফলে ব্যবধান বাড়তেই থাকে। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের অগোছালো খেলা এবং গোলকিপিংয়ের দুর্বলতা মালয়েশিয়ার কাজ সহজ করে দেয়। ম্যাচে কোনোভাবেই মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগকে রুখতে সক্ষম হননি জিমি-আমিরুলরা। খেলা শেষে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মালয়েশিয়া। হারের ব্যবধান এবং গোল হজমের সংখ্যা বাংলাদেশের হকির বর্তমান সংকটকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সব মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে বিশ গোল হজম করাটা জাতীয় দলের জন্য বড় ধরনের লজ্জা। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের কৌশল ঠিক রাখতে না পারা এবং প্রতিপক্ষের গতি ও টেকনিকের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। এমন পারফরম্যান্সের পর কোচিং প্যানেলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে রক্ষণভাগকে মেরামত করা।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আমিরুল ইসলাম গোলটি পেলেও দলের সামগ্রিক খেলায় সমন্বয়ের বড় অভাব চোখে পড়েছে। বিশেষ করে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে দূরত্ব ছিল স্পষ্ট। মালয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা মাঠের দখল নিয়ে বারবার বাংলাদেশের সার্কেলে ঢুকে পড়ছে এবং সহজ গোল করার সুযোগ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক হকিতে এই ধরণের ভুলগুলো বড় মাশুল দাবি করে, যা আজকের ম্যাচটিতে প্রমাণিত হলো। এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পুরো দলের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের বিকল্প নেই। ভারতের জলন্ধরের এই আসরে বাংলাদেশের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স হকির উন্নতির পথে নতুন করে চিন্তার উদ্রেক করেছে।

রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত দুই বছর বেশ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে। সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই বছরে অন্তত পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়গুলো বারবার দুর্বৃত্তদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকলেও, রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডিতে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় কার্যালয়গুলোতে ভাঙচুর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহিংসতা অতীতেও দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যাপকতা ও পৌনঃপুনিকতা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

আওয়ামী লীগ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এবং বাংলাদেশ জাসদ। এই দলগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও বিভিন্ন সময়ে হামলা চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই দলগুলোর ওপর আক্রমণ এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে এই ধরনের কর্মকাণ্ড সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কার্যালয়ে হামলার এই প্রবণতা কেবল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিই করছে না, বরং এটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হলো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু এবং মত প্রকাশের স্থান। সেখানে হামলা চালানো মানে হলো ভিন্নমতকে দমন করার একটি অপপ্রয়াস। তাছাড়া, বারবার এই ধরনের হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার ওপরও এক ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

এই সহিংসতার পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে জনমনে নানামুখী গুঞ্জন ও প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের মতে, রাজনৈতিক শূন্যতা বা অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গত দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামলার শিকার দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ বা অবস্থান যাই হোক না কেন, আক্রমণের ধরন ও কৌশল প্রায় একই রকম ছিল। যা থেকে এটি স্পষ্ট যে, এই হামলাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একের পর এক হামলায় সেই অধিকার চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে একে অপরের প্রতি সহনশীল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তবে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন কৌশল অবলম্বন করে।

সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন ড. শহীদ উজ জামান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মালয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ খুলনা রেঞ্জে শুদ্ধি অভিযান: ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও আজকের আলোচিত ঘটনাবলি নিহত তাহসিফের বাবার প্রশ্ন: চমৎকার সরকার থাকতে বিচার পেতে মামলা করতে হবে কেন টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা ব্রাজিলের বৈধ নেতা হিসেবে বলসোনারোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন
Advertisement