খুঁজুন
, ,

দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায়

দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। মূল্যবান এই ধাতুর দরপতনের ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ ক্রেতারা। নতুন দামে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি ১৬৩৩ টাকা কমেছে।

দেশের বাজারে সোনার দাম ফের কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা সোনার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দামে ১৬৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। গহনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমায় বেচাকেনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজারে সোনার দামের এই পরিবর্তন হুট করে আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। যদিও গত কয়েক দিনে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২২ ক্যারেটের সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর এসেছে উচ্চমানের বা ২২ ক্যারেটের গহনার ক্ষেত্রে, যা অধিকাংশ গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।

উল্লেখ্য, সোনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জুয়েলার্স সমিতি সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনার বাজারে যে উত্তাপ ছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় নতুন করে এই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক ক্রেতা গত কয়েকদিন ধরে সোনার দাম কমার অপেক্ষায় ছিলেন। দাম কমানোর ফলে এখন যারা বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারবেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সোনার দামের প্রভাব সবসময়ই অনস্বীকার্য। সোনা কেবল একটি মূল্যবান ধাতু নয়, এটি অনেক পরিবারের জন্য আস্থার জায়গা ও বিনিয়োগের মাধ্যম। তাই দামের এমন পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। জুয়েলারি মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, বাজারে সোনার সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই দাম কমানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, সামনে বাজার পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা নতুন দামের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, দাম কমার খবর শোনার পর গয়না কেনার আগ্রহ বেড়েছে। গত কয়েক মাসে সোনার দাম অনেকটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল, যার ফলে বিক্রিবাট্টা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। এখন দামের এই সমন্বয়ের ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক গতি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে, তারা সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সোনার দামের এই হ্রাস সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে সোনার দামের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম

ফুটবল বিশ্বের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচে তার মাঠে নামার ওপর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সাধারণত পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখার পর সংশ্লিষ্ট ফুটবলারকে এক ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয়। তবে বর্তমান সময়ে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে এই প্রথাগত নিয়মটি কার্যকর হচ্ছে না। চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা মেসি পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখে ফেলার পরেও তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। আর এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মেজর লিগ সকারের বা এমএলএসের এক বিশেষ আইন।

এমএলএসের নিয়মনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা পরিচিত গুড বিহেভিয়ার পলিসি বা ভালো আচরণ নীতি নামে। এই নীতিটি মূলত খেলোয়াড়দের মাঠের ভেতরে এবং বাইরের আচরণগত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। লিগ কর্তৃপক্ষের এমন নমনীয় বা কৌশলগত নিয়মের কারণেই মেসি এখন শাস্তির আওতামুক্ত থাকতে পারছেন। মূলত, অনেকগুলো হলুদ কার্ড জমলেও যদি খেলোয়াড়ের আচরণগত রেকর্ড ভালো থাকে এবং গুরুতর কোনো অখেলোয়াড়সুলভ কর্মকাণ্ড না থাকে, তবে লিগ কর্তৃপক্ষ এই নীতি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা মকুফ করতে পারে বা শাস্তির ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে।

মেজর লিগ সকারের মতো লিগগুলোতে অনেক সময় দীর্ঘ মৌসুমে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও দলের সংহতি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন নিয়মকানুন রাখা হয়। ইউরোপের লিগগুলোর সঙ্গে আমেরিকার এই ফুটবল লিগের নিয়মের কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মেসির মতো বড় মাপের একজন তারকাকে মাঠে দেখার জন্য দর্শকদের আগ্রহের বিষয়টিও অনেক সময় কর্তৃপক্ষ মাথায় রাখে, তবে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো লিগের এই নির্দিষ্ট আইনগত কাঠামো। ইন্টার মায়ামির জার্সি গায়ে মেসি ইতিমধ্যে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন। সিনসিনাটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার উপস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই বিশেষ নিয়মের ব্যাখ্যায় তা দূর হয়েছে। ফলে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই পরবর্তী ম্যাচে দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিতে পারবেন আর্জেন্টাইন এই অধিনায়ক।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেজর লিগ সকারে এই গুড বিহেভিয়ার পলিসি বা ভালো আচরণ নীতি বেশ আগে থেকেই চালু রয়েছে। এটি মূলত রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। যদি কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে বা বারবার একই ধরনের ফাউল না করেন, তবে পাঁচটি হলুদ কার্ডের পরেও তাকে সরাসরি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বদলে সতর্কবার্তা বা অন্য কোনো বিকল্প শাস্তির মাধ্যমে লিগ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সামাল দিতে পারে। যদিও সাধারণ দর্শকদের জন্য এটি কিছুটা বিস্ময়কর মনে হতে পারে, তবে লিগের নিজস্ব নিয়মাবলি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ একটি প্রক্রিয়া।

এই ঘটনাটি আবারও ফুটবল বিশ্বে লিগ ভেদে নিয়মের ভিন্নতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপীয় লিগগুলোর কড়া নিয়মের চেয়ে এমএলএসের এই নিয়ম কিছুটা আলাদা মনে হলেও, এটি লিগ পরিচালনার একটি অংশ। লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এমএলএসের জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই তার প্রতিটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞার খড়গ থেকে মেসির মুক্তি পাওয়া ইন্টার মায়ামি সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে ভবিষ্যতে এই নিয়মের কারণে অন্য কোনো বিতর্ক তৈরি হয় কি না, তা নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আপাতত, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তার ভক্তরা তাকে আবারও গোল করতে দেখার প্রত্যাশায় আছেন।

গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ৩০ অক্টোবর সকাল সোয়া ৭টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে এবং আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। নিহত শ্রমিকের নাম সাকিব বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নাওজোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছিল। ঘটনার সময় শ্রমিকরা ট্যাংকের ভেতরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই সাকিব নামের ওই শ্রমিক প্রাণ হারান এবং তার সঙ্গে কাজ করা অন্য দুইজন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের চাপে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে কারিগরি কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব হবে।

এদিকে কর্মস্থলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। ঘটনার পর ভবন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই দুর্ঘটনায় অবহেলার কোনো বিষয় আছে কিনা বা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে এই দুর্ঘটনার ফলে। এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সতর্কতা অবলম্বন না করায় প্রায়শই এমন প্রাণহানি ঘটে থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত শীর্ষ সামরিক কমান্ডার। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিগুলোতে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং এর বিভিন্ন বিকল্প দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্রিফিং প্রদান করেছেন। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় এবং বিভিন্ন সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিদেশি সামরিক বিমানের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক দিনে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন পরিবহন বিমানগুলোর অস্বাভাবিক আনাগোনা শুরু হয়েছে। সাধারণত সামরিক রসদ বা বিশেষায়িত সরঞ্জাম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়। তবে এই তৎপরতার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন তাদের মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমান্ডার পর্যায়ের এই ব্রিফিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে অবহিত করা। ইরান কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েই মূলত প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া মার্কিন উড়োজাহাজগুলো এই আলোচনারই একটি বাস্তব প্রতিফলন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে থেকেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরাসরি সক্রিয়তা এই পরিস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী এই ঘটনাপ্রবাহে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের সামরিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েলের আকাশপথে মার্কিন পরিবহন বিমানের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবুও তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট যে, ইরানকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না ওয়াশিংটন। সামরিক সক্ষমতা যাচাই এবং মোতায়েনের বিষয়টি এখন মার্কিন বিদেশ ও প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে ইরান ও ইসরায়েলের বৈরিতা মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। এখন এর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক তৎপরতা যোগ হওয়ায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক বা সামরিক কোনো নতুন মেরুকরণ হয় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

সর্বশেষ
পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ভিয়েতনামের ফু কুক দ্বীপ: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর নির্জনতার খোঁজে দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে বন্ধু দীপ পিবিআই হেফাজতে শূন্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পূর্ণতার গল্প এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ সালমান শাহ-শাবনূরের পর এবার নতুন রূপে সাইমন-মাহির আনন্দ অশ্রু
Advertisement