খুঁজুন
, ,

সিটি করপোরেশনের আওতায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নিয়ম ও ফি নির্ধারণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
সিটি করপোরেশনের আওতায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নিয়ম ও ফি নির্ধারণ

দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে যান্ত্রিক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।

নতুন এই বিধিমালার আওতায় এখন থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে। এতদিন এসব যানের চলাচল নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা বা আইনি কাঠামোর অভাব ছিল, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এবং যানজটের মতো সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ রিকশা চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে। একই সঙ্গে, অবৈধ বা অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করাও সহজ হবে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নীতিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যকর হবে। এর ফলে রিকশা মালিক ও চালকদের এখন থেকে আইন মেনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যারা এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে, তারা আইনি বৈধতা পাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে তাদের পেশা পরিচালনা করতে পারবে। তবে যারা এই নিয়মের তোয়াক্কা করবে না বা নিবন্ধন করবে না, তাদের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

সড়ক পরিবহন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা গ্রাম বা মফস্বল এলাকায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলেও সিটি করপোরেশন এলাকায় এর প্রভাব অনেক সময় নেতিবাচক হয়। অনেক সময় যথাযথ প্রশিক্ষণহীন চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। নতুন এই বিধিমালা কেবল ফি আদায়ের জন্য নয়, বরং এই যানবাহনের প্রযুক্তিগত মান এবং চালকদের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি সুযোগ তৈরি করবে।

তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের সুনির্দিষ্ট ফি বা আবেদনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অতি দ্রুত এই বিষয়ে নির্দেশনা আসবে এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এর মাধ্যমে নগরের সড়কে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে সাধারণ যাত্রী এবং রিকশা চালকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ছিল, অন্যদিকে চালকদের দাবি, ফি যেন তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, জনস্বার্থ এবং সড়ক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই সব সিটি করপোরেশন এলাকায় এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু হবে।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এই নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিজয়ী প্রার্থী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই পরাজয়ের মাধ্যমে দেলাওয়ার হোসেন এই নির্বাচনী এলাকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এবারের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন, তা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত নির্বাচনের সেই ভোটের চেয়ে এবারের নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কয়েক হাজার কমেছে। বড় ব্যবধানে পরাজয় এবং আগের চেয়ে কম ভোট পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনের সামগ্রিক রাজনৈতিক আবহে পরিবর্তন আসার ফলে এই ফলাফলের প্রতিফলন ঘটেছে।

সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও দিন শেষে ফলাফলের দিক থেকে দেলাওয়ার হোসেনের জন্য তা ছিল হতাশাজনক। বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস দেখা দেয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রচারণায় ঘাটতি ছিল কি না কিংবা ভোটাররা কেন তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা নিয়েও চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ।

উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দেলাওয়ার হোসেন একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু সেইবারও তিনি সফল হতে পারেননি। এবার উপনির্বাচনের সুযোগ পেয়েও তিনি ভোটের ব্যবধান কমাতে পারেননি, বরং গত নির্বাচনের চেয়েও তার ভোটের হার নিম্নমুখী হয়েছে। এটি ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নেই তারা মির্জা ফয়সল আমীনকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।

নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন মির্জা ফয়সল আমীনের কর্মী ও সমর্থকরা। দেলাওয়ার হোসেনের পরাজয়ের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পরাজয় সামনের দিনগুলোতে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার একটি সুযোগ হতে পারে। ভোটের এই বিশাল ব্যবধান ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে বিএনপি তথা মির্জা ফয়সল আমীনের অবস্থানকে আরও সুসংহত করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি

রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুলিস্তানে পুনরায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং যানজট নিরসনে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত রাখতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী দুই দফায় পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে প্রথম দফায় অভিযান শুরুর পর হকাররা সরে গেলেও দুপুরের পর ফের তারা ফুটপাতে বসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে দ্বিতীয় দফায় আবারও মাঠে নামে ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কোনো অজুহাতেই জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বা ফুটপাত হকারদের দখলে থাকতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকাররা নানা যুক্তি বা অজুহাত প্রদর্শনের চেষ্টা করলেও সিটি করপোরেশনের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। জনস্বার্থ রক্ষায় ফুটপাত ও রাস্তা সবসময় উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

গুলিস্তান এলাকাটি ঢাকার প্রধান প্রবেশদ্বার এবং গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত থাকে। ফুটপাতে হকারদের পসরা সাজিয়ে বসার কারণে পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না, ফলে বাধ্য হয়ে তাদের মূল রাস্তায় নামতে হয়। এতে চরম যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। স্থানীয় পথচারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পর আবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। এবার ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল উচ্ছেদ নয়, বরং এই এলাকাকে নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে যাতে পুনরায় দখল না হতে পারে।

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ফুটপাতে ব্যবসা করার অনুমতি নেই। যারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সড়ক ও ফুটপাত দখল করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবারের এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা কোনো সমাধান নয়। এর আগে উচ্ছেদের পর অনেক হকারই দাবি করেছিলেন যে, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে ডিএসসিসি এখন পর্যন্ত কোনো নতুন হকার পুনর্বাসন প্রকল্পের কথা জানায়নি।

রাজধানীর যানজট নিরসনে গুলিস্তান এলাকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে যান চলাচলের গতিও স্বাভাবিক থাকে। তাই নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনস্বার্থের বিপরীতে কোনো অবস্থানই বরদাস্ত করা হবে না এবং আগামী দিনগুলোতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দামের কাঠামোতে আমদানিকারক বা অপারেটরের জন্য নির্ধারিত মূল্য ১,৭৪২ টাকা, পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান মিলিয়ে মোট অনুমোদিত মূল্য ১,৮৩৭ টাকা হয়ে দাঁড়ায়।

তবে বাজারে দেখা যাচ্ছে, ভোক্তারা একই সিলিন্ডার কিনতে ২,৩০০ টাকা থেকে ২,৪০০ টাকার মধ্যে পরিশোধ করছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৬৩ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এই পার্থক্যটি ভোক্তাদের গৃহস্থালির বাজেটের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য।

বিইআরসির মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল এলপিজি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত মুনাফা সীমাবদ্ধ করা। তবে বাস্তবে, সিলিন্ডার বিক্রেতা, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতা প্রত্যেকেরই নির্ধারিত কমিশন পাওয়ার পরও অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কিছু বিশ্লেষক দাবি করছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে লজিস্টিক খরচ, সঞ্চয় ও পরিবহন সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনিয়মিত বাজার নিয়ন্ত্রণের ফলে এই অতিরিক্ত মূল্য গঠন হতে পারে।

এলপিজি বাজারে এই ধরনের মূল্য পার্থক্য ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকরা সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ করছেন যে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে, যদিও সরকারী নিয়মাবলী স্পষ্টভাবে কম দামের নির্দেশ দিচ্ছে। কিছু গ্রাহক উল্লেখ করেছেন, একই এলাকার দুইটি বিক্রয় পয়েন্টে দামের পার্থক্য ১০০ টাকার বেশি হতে পারে, যা বাজারে স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

বিইআরসি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। কমিশন সদস্যরা বলেছেন, তারা বাজারে অনিয়মিত মূল্য নির্ধারণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করবে। তদুপরি, তারা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটর সংস্থাগুলোও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক গ্যাসের দাম, শিপিং খরচ এবং স্থানীয় ট্যাক্সের পরিবর্তন তাদের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা কখনো কখনো নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে। তবে, এই ব্যাখ্যাগুলোকে ভোক্তারা যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে মনে করেন না, কারণ তারা সরাসরি বেশি দামের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে বাজারে সরাসরি পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে, অনিয়মিত বিক্রয় পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা উচিত। এছাড়া, ভোক্তাদের জন্য একটি হটলাইন বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে তারা অতিরিক্ত দামের অভিযোগ জানাতে পারবে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারসংক্ষেপে, বি.ই.আর.সির নির্ধারিত ১,৮৩৭ টাকার দামের তুলনায় ভোক্তারা ২,৩০০‑২,৪০০ টাকার মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৬৩ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করছে। এই পার্থক্যটি বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার অভাবের ইঙ্গিত দেয় এবং ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়ানো, বিক্রেতা-পরিবেশক-খুচরা বিক্রেতা সকল স্তরে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে সিটি করপোরেশনের আওতায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নিয়ম ও ফি নির্ধারণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা জারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির বড় জয়: বিপুল ভোটে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ ‘এই লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে’, শরীর প্রদর্শন বিতর্কে জাহ্নবী কাপুর ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি
Advertisement