খুঁজুন
, ,

কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা সংকটে জনজীবন, জরুরি বিভাগসহ বন্ধ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা সংকটে জনজীবন, জরুরি বিভাগসহ বন্ধ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি বিভাগেও পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল এই সরকারি হাসপাতালটিতে এখন দীর্ঘ হচ্ছে ভোগান্তির তালিকা। শুধু সাধারণ চিকিৎসাসেবা নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও অনেক সময় চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা। সেই সঙ্গে হাসপাতালের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিভাগ বর্তমানে বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দরিদ্র রোগীদের এই অবস্থায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুচিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না।

চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, দৌলতপুর উপজেলার চিলমারির মতো দুর্গম চরাঞ্চল থেকে জীবন হাতে নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে ছুটে আসছেন, তাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পরেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের জনবল সংকট এতটাই প্রকট যে, জরুরি বিভাগে সবসময় চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট একাধিক বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে যেসব বিভাগে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক রোগী ভিড় করেন, সেই বিভাগগুলো বন্ধ থাকায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রচণ্ড ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে তা সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি কিংবা বদলির কারণে পদগুলো খালি পড়ে আছে, কিন্তু নতুন করে নিয়োগ বা পদায়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে হাসপাতালটির সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক সংকট কাটাতে ঊর্ধ্বতন মহলে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান আসেনি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল শুধু সদর উপজেলার রোগীদের জন্যই নয়, পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর, ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতেই যদি জরুরি সেবার সংকট তৈরি হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় জনমনে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ চায় দ্রুত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ, যাতে তাদের আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুষ্টিয়ার মতো জনবহুল এলাকায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের বড় দায়িত্ব। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল, তাদের স্বার্থে দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন করে বন্ধ থাকা বিভাগগুলো সচল করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, চিকিৎসাসেবার অভাবে জেলাটিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আয়োজিত এই বৈঠকে ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি, ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা এবং নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর্থিক খাতের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করে।

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্ষদ সদস্যরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় উপস্থিত পর্ষদ সদস্যদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ব্যাংকের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া, আমানত সংগ্রহ এবং ব্যাংকিং খাতে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার কৌশল। এছাড়া, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্থিতিশীল আর্থিক কাঠামো বজায় রাখতে ইসলামী ব্যাংক কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আস্থার জায়গায় অটুট থাকতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের এই ধরনের বোর্ড সভাগুলোতে সাধারণত ব্যাংকের গত তিন মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। চলতি বছরের শেষ দিকে ব্যাংকের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি শাখা ও জোনকে আরও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা প্রদান এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান রাখার ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত পরিচালকরা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করলে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এছাড়াও, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাব যাতে দেশের ব্যাংক খাতের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও পর্ষদ একমত পোষণ করেছে।

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে ব্যাংকের করপোরেট সংস্কৃতিকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গ্রাহকদের সর্বাধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

পরিশেষে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদানকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্ষদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আগামী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে আহত যুবদলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে আহত যুবদলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত যুবদলকর্মী আবু ইউসুফ জীবনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অতর্কিত হামলার শিকার হয়ে আবু ইউসুফ ওরফে জীবন নামের এক যুবদলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত আবু ইউসুফ বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী তিনি যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রাথমিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তদের একটি দল আবু ইউসুফের ওপর চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করতে শুরু করে। হামলায় গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে গভীর ক্ষত থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। আবু ইউসুফের ওপর হামলার মোটিভ বা কারণ সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটি বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তার অকাল মৃত্যুতে দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল কি না, অথবা এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা কাজ করেছে কি না—সেই বিষয়টি এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না, ফলে জনমনে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হ্যান্ডবলে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেসকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। আসন্ন নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফলের প্রত্যাশায় এই বিদেশি বিশেষজ্ঞের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে।

বাংলাদেশের হ্যান্ডবল অঙ্গনে নতুন হাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের খেলার মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলী করে তোলার লক্ষ্যে এবার বিদেশি কোচের ওপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। পর্তুগালের অভিজ্ঞ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেস দায়িত্ব বুঝে নিতে ঢাকায় পা রাখছেন। মূলত আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে আরও ধারালো ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটি চলবে টানা ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলার নতুন কৌশল রপ্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই পর্তুগিজ কোচকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ফেডারেশন চাইছে নারী হ্যান্ডবল দলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং মহাদেশীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করতে।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খেলার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ফেডারেশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফার্নান্দো মিগুয়েল এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হ্যান্ডবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, যার ফলে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে বলে মনে করছে হ্যান্ডবল সংশ্লিষ্টরা। এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের হ্যান্ডবল খেলার বর্তমান মানদণ্ড যাচাই করবেন এবং খেলোয়াড়দের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য নিবিড় কাজ করবেন।

আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের জন্য এই প্রশিক্ষণ সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আধুনিক হ্যান্ডবলের যে কৌশলগত পরিবর্তনগুলো বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আয়ত্তে আনার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এই ক্যাম্পের সফলতা কেবল একটি টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই এই পর্তুগিজ কোচের শরণাপন্ন হওয়া।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপরও বেশ কিছু সেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফার্নান্দো মিগুয়েল দলের সাথে যোগ দেওয়ার পর থেকে মূলত আধুনিক হ্যান্ডবল টেকনিক ও গেম প্ল্যানিংয়ের ওপর বেশি নজর দেবেন। বিশেষ করে আক্রমণ ও রক্ষণভাগের সমন্বয় সাধনে তিনি কাজ করবেন। ফেডারেশন আশা করছে, বিদেশি এই কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলনের ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের হ্যান্ডবল দল আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

সব মিলিয়ে আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন্দ্র করে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। পর্তুগিজ এই প্রশিক্ষকের অধীনে কঠোর অনুশীলনের পর খেলোয়াড়রা কতটা উন্নতি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সার্বিক সফলতার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

সর্বশেষ
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে আহত যুবদলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা সংকটে জনজীবন, জরুরি বিভাগসহ বন্ধ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: তদন্তের আগে মন্তব্য করতে নারাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, স্বস্তি প্রকাশ ইসির স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে, মন্তব্য থেকে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তা: সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যের জট কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, হতাশ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
Advertisement