কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা সংকটে জনজীবন, জরুরি বিভাগসহ বন্ধ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল এই সরকারি হাসপাতালটিতে এখন দীর্ঘ হচ্ছে ভোগান্তির তালিকা। শুধু সাধারণ চিকিৎসাসেবা নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও অনেক সময় চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা। সেই সঙ্গে হাসপাতালের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিভাগ বর্তমানে বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দরিদ্র রোগীদের এই অবস্থায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুচিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না।

চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, দৌলতপুর উপজেলার চিলমারির মতো দুর্গম চরাঞ্চল থেকে জীবন হাতে নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে ছুটে আসছেন, তাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পরেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের জনবল সংকট এতটাই প্রকট যে, জরুরি বিভাগে সবসময় চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট একাধিক বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে যেসব বিভাগে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক রোগী ভিড় করেন, সেই বিভাগগুলো বন্ধ থাকায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রচণ্ড ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে তা সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি কিংবা বদলির কারণে পদগুলো খালি পড়ে আছে, কিন্তু নতুন করে নিয়োগ বা পদায়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে হাসপাতালটির সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক সংকট কাটাতে ঊর্ধ্বতন মহলে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান আসেনি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল শুধু সদর উপজেলার রোগীদের জন্যই নয়, পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর, ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতেই যদি জরুরি সেবার সংকট তৈরি হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় জনমনে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ চায় দ্রুত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ, যাতে তাদের আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুষ্টিয়ার মতো জনবহুল এলাকায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের বড় দায়িত্ব। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল, তাদের স্বার্থে দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন করে বন্ধ থাকা বিভাগগুলো সচল করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, চিকিৎসাসেবার অভাবে জেলাটিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন