শীতের রুক্ষতা দূর করতে স্কিন কেয়ারে মানুন সি-টি-এম-এল রুটিন
শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের ত্বকের ধরনেও আসে নানা পরিবর্তন। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে পড়ে এবং উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করে। অনেকেই এই রুক্ষতা দূর করতে বাজারের হাজারো প্রসাধনী ব্যবহার শুরু করেন, যার ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। রূপচর্চার আধুনিক বিশ্বে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্কিনিমালিজম বা পরিমিত রূপচর্চার ধারণা। অতিরিক্ত উপকরণের ভিড়ে না গিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই সুস্থ ও সতেজ রাখা যায় ত্বক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শীত কিংবা গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই ত্বকের যত্নে চারটি প্রাথমিক ধাপ অনুসরণ করা যথেষ্ট, যা সি-টি-এম-এল বা C-T-M-L নামে পরিচিত।
রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় অনেকে আজকাল আট থেকে দশ ধাপের জটিল রূপচর্চায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সুস্থ ত্বকের জন্য এত উপকরণের কোনো প্রয়োজন নেই। ত্বকের স্বাভাবিক গঠন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সি-টি-এম-এল রুটিন একটি বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যকর সমাধান। এই পদ্ধতির প্রথম ধাপ হলো সি বা ক্লিনজিং। শীতকালে আমাদের ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ধুলাবালু এবং মৃত কোষ বেশি জমে থাকে। তাই ত্বক পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। এসময় সাধারণ ফোম ক্লিনজারের পরিবর্তে তেলভিত্তিক ক্লিনজার ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। সম্ভব হলে ডাবল ক্লিনজিং পদ্ধতি বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রথমে তেলভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মুখ ভালো করে মালিশ করলে ত্বকের ওপরের ময়লা আলগা হয়ে যায়, এরপর পানি বা জেলভিত্তিক ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়।
পরবর্তী ধাপ হলো টি বা টোনিং। অনেকে মুখ ধোয়ার পরপরই সরাসরি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন, যা ভুল। কারণ পরিষ্কারের সময় মৃদু ঘষায় ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং ত্বককে কোমল রাখতে টোনার অপরিহার্য। আমাদের দেশের আবহাওয়া উপযোগী পানিভিত্তিক টোনার ব্যবহার করা সবথেকে ভালো। এটি ত্বকের ছিদ্রগুলো ছোট করতে এবং পরবর্তী ধাপের প্রসাধনী শোষণে সাহায্য করে।
তৃতীয় ধাপে আসে এম বা ময়েশ্চারাইজিং। শীতকালে ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো শুষ্কতা। এই রুক্ষতা থেকে মুক্তি পেতে ত্বককে আর্দ্র রাখা জরুরি। ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক ময়েশ্চারাইজার বাছাই করা প্রয়োজন। যারা অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকে ভোগেন, তারা একটু ঘন বা ভারী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। তবে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
সর্বশেষ ধাপ হলো এল বা লেয়ারিং অব সানস্ক্রিন। অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে শীতকালে রোদে পোড়ার ভয় নেই। অথচ শীতের মিষ্টি রোদও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দিনের বেলা ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি শুধু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকেই রক্ষা করে না, বরং ত্বককে বাহ্যিক পরিবেশগত দূষণ থেকেও সুরক্ষা দেয়। যারা অফিসে দীর্ঘসময় কাঁচের জানালার পাশে বসেন বা কম্পিউটারের সামনে কাজ করেন, তাদের জন্যও নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন।
স্কিনিমালিজমের মূল কথা হলো নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে সঠিক পণ্য নির্বাচন করা। অকারণে অনেক বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শীতের শুরু থেকেই যদি এই চারটি নিয়ম সঠিকভাবে পালন করা যায়, তবে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন ছাড়াই ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। মনে রাখতে হবে, রূপচর্চার চেয়ে বড় হলো সঠিক জীবনধারা এবং ত্বকের প্রতি যত্নশীল হওয়া।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]