ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দশ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক করে অভিযুক্তকে ক্ষমা করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দশ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার পর বিচার পাওয়ার বদলে উল্টো ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে কয়েক দফা বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে কসবায় ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় ও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রথমদিকে অসহায় পরিবারটি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা এই মীমাংসা প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নেতার উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরিবারটি সেই চাপে নতি স্বীকার না করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যানুসারে, ঘটনার সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি গা ঢাকা দিয়েছিল, তবে পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সবসময়ই এমন ন্যক্কারজনক অপরাধের পরও সালিশি বৈঠকের নামে অপরাধীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করে থাকে, যা আইনের শাসনের পথে বড় বাধা।
ধর্ষণ একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এ ধরণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বা মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার এই সংস্কৃতি সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার যেন কোনো প্রকার হুমকি বা চাপের মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় রাজনীতি এবং সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ থাকলেও, এমন অপরাধের ঘটনায় প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সামনেও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলা যেহেতু হয়েছে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রভাবই অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে জড়িত ও এর পেছনে মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বড় না হয়ে অপরাধটিই যেন মূল বিবেচ্য হয়, সেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। আইন অনুযায়ী এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]