খুঁজুন
, ,

আজ আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস: সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানোর দিন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
আজ আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস: সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানোর দিন

শিল্প মানেই সৃজনশীলতার অনন্য প্রকাশ। মানুষের ভাবনা, অনুভূতি এবং সমাজের বিভিন্ন বাস্তবচিত্রকে শিল্পের ভাষায় ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা। রং-তুলির আঁচড়, ভাস্কর্যের রূপায়ণ, সংগীতের সুর, সাহিত্যের গভীরতা কিংবা অভিনয়ের জাদুকরী স্পর্শ—সবই আমাদের জীবন ও সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ করে। শিল্পীদের এই নিরলস সাধনা ও অবদানের স্বীকৃতি জানাতে প্রতি বছর ২৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস বা ইন্টারন্যাশনাল আর্টিস্ট ডে। আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততার ভিড়ে যাঁরা সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে জগতকে সুন্দর করে তোলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন হিসেবে দিনটি উদযাপিত হয়।

শিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। একজন চিত্রশিল্পী যেমন ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন সমাজের অসংগতি, তেমনি একজন ভাস্কর পাথরের গায়ে খোদাই করেন ইতিহাসের আখ্যান। সংগীত ও সাহিত্য আমাদের আবেগীয় জগতকে সজীব রাখে। অভিনয়শিল্পীরা অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনের নানা দিক আমাদের সামনে তুলে ধরেন। এসব শিল্পীর সৃজনশীল অবদানের কারণেই আমাদের সংস্কৃতি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের কাজের মূল্যায়ন, সম্মান প্রদান এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই এই দিবসের সূচনা হয়েছিল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি নানা আয়োজনে পালিত হয়। আর্ট গ্যালারিতে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন, শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান, ওয়ার্কশপ এবং সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনটিকে উদযাপন করা হয়। তবে কেবল প্রদর্শনী বা অনুষ্ঠানের মাঝেই শিল্পীর কাজের মূল্যায়ন সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিল্পীদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং শিল্পচর্চার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে যেখানে দ্রুত পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, সেখানে শিল্পীদের মৌলিক কাজগুলোকে সংরক্ষণ করা এবং নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

একজন শিল্পী যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করেন, তখন তিনি কেবল নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না, বরং তার শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে একটি সময় বা কালকে ধারণ করেন। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেই সময় বা ভাবনার পরিচয় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হলো শিল্প। আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিল্পের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং শিল্পীরাই আমাদের মানবিক বোধকে জাগ্রত রাখেন। আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী সমাজ নিজেরা নিজেদের কাজের সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। অনেক শিল্পী আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন, যা শিল্পচর্চার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

আমাদের সমাজে যারা পর্দার আড়ালে থেকে নিরলসভাবে সৃজনশীল কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নিয়মিত আর্ট ক্যাম্প, মেলা বা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলে নবীন শিল্পীরা যেমন অনুপ্রাণিত হবেন, তেমনি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে। শিল্পচর্চা কেবল ব্যক্তিগত আনন্দ নয়, এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা বা অনুষ্ঠানে শিল্পের যথাযথ চর্চা ও শিল্পীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সবশেষে, আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি মানবসভ্যতার সৃজনশীলতাকে উদযাপন করার এবং শিল্পীদের প্রতি সম্মান জানানোর একটি দিন।

সংসদ সদস্য পদ থেকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ দাবি রাশেদ খাঁনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
সংসদ সদস্য পদ থেকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ দাবি রাশেদ খাঁনের

প্রধানমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশের বর্তমান সরকার ব্যবস্থা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জের ধরে তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নৈতিকতার খাতিরে নিজের সংসদীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন।

গত রাতের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি উত্থাপন করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, নাহিদ ইসলাম কেবল প্রধানমন্ত্রীকেই নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের অবস্থান এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, যে সংসদের বৈধতা নিয়ে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তুলছেন, সেই সংসদেরই একজন সদস্য হিসেবে তার অবস্থান নৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখা কঠিন।

রাশেদ খাঁন তার প্রতিক্রিয়ায় আরও উল্লেখ করেন, নাহিদ ইসলাম জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত একটি দলের প্রধান হিসেবে যে ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রের প্রধান এবং সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে এমন বক্তব্য রাখা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণ নেতৃত্বের এমন কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করছেন, অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাশেদ খাঁনের এই আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রাশেদ খাঁন তার বার্তায় জোর দিয়ে বলেন, নাহিদ ইসলাম যদি নিজের দেওয়া বক্তব্যের প্রতি সৎ থাকেন, তবে অবিলম্বে সংসদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় তার অবস্থান দ্বিচারিতা হিসেবে গণ্য হবে। ২৪ ঘণ্টার এই সময়সীমা রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে। নাহিদ ইসলাম কিংবা তার দল এই আহ্বানের বিপরীতে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে আসার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে

শরৎ শেষ হওয়ার এই সময়ে বায়ুদূষণের শীর্ষে থাকা শহরগুলোর তালিকায় আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা। আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকা রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।

শীতের আগমনি বার্তার আগেই রাজধানী ঢাকার বাতাসের গুণগত মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে, যা নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত নির্মাণ কাজ, যানবহনের ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ঢাকার বাতাস প্রতিনিয়ত বিষাক্ত হয়ে উঠছে। বাতাসের মান পরিমাপকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে আজ ঢাকার স্কোর বাতাসের মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে নির্দেশ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে ঢাকার বাতাসের মান খারাপ হতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের জন্য বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও শহরজুড়ে উন্নয়নমূলক কাজের ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত জল ছিটানোর ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আজ রাজধানীর পরিবেশগত পরিস্থিতির এমন অবস্থায় নগরবাসীর মধ্যে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে নগরজীবনে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে আজ। শারদীয় দুর্গোৎসবের সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় আজ সকাল থেকেই রাস্তায় মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এক দিকে কর্মব্যস্ত মানুষের ছোটাছুটি, অন্যদিকে বায়ুদূষণের এই অস্বস্তিকর পরিবেশ নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ঢাকার পরিবেশবিদদের মতে, অবিলম্বে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আসন্ন শীতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বায়ুর গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

এদিকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় মতিঝিল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৭৮ জনকে আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন বিশেষ অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ত সপ্তাহের শুরুতে রাজধানী ঢাকা যেমন একদিকে বায়ুদূষণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল

নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় অবস্থিত পাগলার পুল ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৩৬০ বছর আগে নির্মিত এই ঐতিহাসিক সেতুটি মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। সময়ের পরিক্রমায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর জৌলুস অনেকখানি ম্লান হয়ে গেলেও, আজও এটি মোগল আমলের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা জানান দেয়। ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই সেতুটি স্থানীয়দের কাছে একসময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, মোগল সুবাদার মীর জুমলার শাসনামলে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় আরাকানি জলদস্যু ও মগদের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং ঢাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে মীর জুমলা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। পাগলার পুল নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক যাতায়াত সহজতর করা এবং এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে শত্রুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। সেতুটির কৌশলগত অবস্থান মোগলদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা সে সময়ের রণকৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটির কয়েকটি স্তম্ভ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যা তৎকালীন নির্মাণশৈলীর দক্ষতা ও স্থায়িত্বের প্রমাণ দেয়। তবে ইট-সুড়কির গাঁথুনিতে তৈরি এই সেতুটি এখন অযত্ন আর অবহেলার শিকার। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির প্রতিকূলতা ও যথাযথ সংস্কারের অভাব এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আগে এটি দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল থাকলেও বর্তমানে সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। এর ভগ্নদশা সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে ইতিহাসের এই অংশটুকু দেখার জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন এই স্থাপনাগুলো আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। পাগলার পুল কেবল একটি সেতু নয়, বরং এটি মোগল আমলের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির এক জীবন্ত দলিল। ঐতিহ্যের এই অংশটিকে টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি। যদি যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা এবং সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এই ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও অনেক অজানা ইতিহাস উন্মোচিত হতে পারে। পাশাপাশি, পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান সময়ে নগরায়ণ ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের ভিড়ে পাগলার পুলের মতো অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনই হারিয়ে যাচ্ছে। এই ধ্বংসাবশেষটি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া না হলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এটি কেবলই একটি নাম হিসেবে ইতিহাসে টিকে থাকবে। স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এগিয়ে আসে, তবেই হয়তো এই অমূল্য স্মৃতিচিহ্নটি নতুন প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

ইতিহাসপ্রেমী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পাগলার পুলের আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে একে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। এতে করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আমাদের গৌরবান্বিত ইতিহাসের কথাগুলো পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুটির ভগ্নদশা কাটিয়ে ওঠার অপেক্ষায় এখন এলাকাবাসী ও দেশের ইতিহাসপ্রিয় মানুষ।

সর্বশেষ
সংসদ সদস্য পদ থেকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ দাবি রাশেদ খাঁনের বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল ব্রণ ফাটানোর ভিডিওতে কেন অদ্ভুত প্রশান্তি পান দর্শক? আজ আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস: সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানোর দিন নোয়াখালীতে চায়ের দোকানে বৃদ্ধকে গুলি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুব ওয়ানডেতে বিতর্কিত ১১ ওভারের বোলিং, আফগান বোর্ডের কাছে বিসিবির অভিযোগ ঋতুস্রাবের কঠিন সময়ে বিজয়ের যত্ন ও পাশে থাকা নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা হাসি-ঠাট্টার বাইরে শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধন উদযাপনের দিন ইরানের ওপর যে কোনো সময় সামরিক হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
Advertisement