১৭ বছর পর বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় থ্রি ইডিয়টস
বলিউডের কালজয়ী সিনেমা থ্রি ইডিয়টস মুক্তির প্রায় দুই দশক হতে চলল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিনেমাটির দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণের গুঞ্জন নতুন করে জোরালো হয়েছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
বলিউড সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত থ্রি ইডিয়টস। রাজকুমার হিরানি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি কেবল বক্স অফিস কাঁপায়নি, বরং শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবনের দর্শন নিয়ে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সিনেমাটির সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ভক্তদের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত এই প্রজেক্ট নিয়ে মূল অভিনেতা আমির খানসহ সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
সিনেমার গল্পটি আইআইটি বম্বের প্রেক্ষাপটে তৈরি তিন বন্ধুর রসায়ন, সংগ্রাম এবং সফলতার গল্প নিয়ে আবর্তিত হয়েছিল। রণছোড়দাস চঞ্চল চড় ওরফে র্যাঞ্চোর চরিত্রে আমির খানের অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। সিনেমার প্রতিটি সংলাপ এবং গান এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে তা আজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রাত্যহিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সিনেমাটির পরবর্তী কিস্তি নির্মাণের জন্য দর্শক ও সমালোচকরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বলিউডের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবর উঠে আসছে যে, থ্রি ইডিয়টস-এর দ্বিতীয় পর্বের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ চলছে এবং নির্মাতা ও শিল্পীরা নতুন করে এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ফেরানোর পরিকল্পনা করছেন।
তবে নির্মাতা সংস্থা বা আমির খানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবুও গুঞ্জনের ডালপালা এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে, সিনেমাটির শুটিং কবে শুরু হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও পুরনো চরিত্রগুলোকে নতুন পরিস্থিতিতে দেখা যেতে পারে। যেহেতু প্রথম সিনেমাটি একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছিল, তাই পরবর্তী সিনেমাটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের গভীরতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমার বাজার যে গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে থ্রি ইডিয়টস-এর মতো সিনেমার সিক্যুয়েল বড় পর্দায় ফেরানো একটি সাহসী সিদ্ধান্ত হতে পারে। আমির খান নিজেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই প্রজেক্টটি নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, সঠিক গল্প এবং বিষয়বস্তু পেলে তবেই তিনি সিক্যুয়েলে কাজ করতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ এই বিরতির পর নতুন কোনো চমক নিয়ে তারা হাজির হন কি না। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন সেই দিনটির, যেদিন হয়তো আবার পর্দায় র্যাঞ্চো, ফারহান এবং রাজুর বন্ধুত্ব ও শিক্ষাজীবনের নতুন কোনো অধ্যায় উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই বহু প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলটি।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]