দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু পাঁচ, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাবনতি অব্যাহত রয়েছে। মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৬৬ জন রোগী। ডেঙ্গু নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে এসে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। জনবহুল এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সারা দেশের তুলনায় ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে এই হিসাবটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের তথ্য। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। ঢাকা বিভাগের পরেই আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় খুলনা বিভাগের অবস্থান রয়েছে। অর্থাৎ, রাজধানী ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলাতেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে এডিস মশা বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়, যা ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ। বাসা-বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করা এবং শরীর ঢেকে থাকে এমন পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের সার্বিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শয্যা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ডেঙ্গু মোকাবেলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার লার্ভা ধ্বংসে এগিয়ে আসতে হবে।
সামগ্রিকভাবে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু এবং সহস্রাধিক নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি কতটা নাজুক। কর্তৃপক্ষ এখন মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনা করছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ না নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার করা হয়েছে কি না, সেদিকে নজর দিচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু পরীক্ষায় যেন কোনো বিড়ম্বনা তৈরি না হয় এবং সরকারি হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত হয়, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন তারা মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]