ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারের এজলাসে হট্টগোল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একদল ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা সাবরেজিস্ট্রারের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল করেছেন এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলার সময় হঠাৎ করেই একদল তরুণ এজলাসের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা জোরপূর্বক কার্যালয়ের বিভিন্ন টেবিলে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন। এসময় ‘তুই বাইর হ’ বলে কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এজলাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং সেখানে দায়িত্বরতরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই দলের নেতৃত্বস্থানীয়রা সাবরেজিস্ট্রারের এজলাসে ঢুকে উচ্চবাচ্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা কর্মকর্তাদের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। এই হট্টগোলের কারণে বেশ কিছুক্ষণ দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে দলিল নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হন। স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে ওই কর্মীরা দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছিলেন। সরকারি দপ্তরে এভাবে অতর্কিতে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেনস্তা করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল সরকারি দপ্তরে এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তবে এই হট্টগোল ও হেনস্তার ঘটনার পর পরই কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে অফিসের ভেতরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরকারি দপ্তরে রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার বা কর্মীদের কাজে বাধা প্রদান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটির তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখন স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]