খুঁজুন
, ,

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের মন্তব্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের মন্তব্য

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সাবেক সাথি ও সদস্যদের নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আয়োজনে এই সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাবেক দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার বিষয়টি সাংবাদিকরা জামায়াত আমিরের সামনে নিয়ে আসেন। সম্প্রতি জনসম্মুখে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সেটির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা জানার আগ্রহ ছিল উপস্থিত সাংবাদিকদের। এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি কোনো নিন্দা বা পক্ষপাতের পথে না গিয়ে ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয়তো ভালো কোনো উদ্দেশ্য থেকেই এই কাজটি করে থাকতে পারেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন নেতারা মন্তব্য করেন, তখন সেটি বিভিন্ন মহলে আলোচনার খোরাক জোগায়। ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তাপ দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতার এই মন্তব্যটি সেই আলোচনার প্রেক্ষাপটেই এসেছে। তিনি যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা মূলত ব্যক্তির পরিস্থিতির বিবেচনায় নেওয়া একটি অবস্থান বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজনীতির ময়দানে প্রায়শই একে অপরের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সহমর্মিতা বা সতর্ক সমালোচনা দেখা যায়, যা পারস্পরিক রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি প্রভাব ফেলে।

চট্টগ্রামের এই সম্মেলনে মূলত সাবেক সাথি ও সদস্যদের পুনর্মিলনী এবং দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে জামায়াত আমির গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, বিশেষ করে রাজপথে কর্মসূচি পালন এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি তার বক্তব্যে উঠে আসে। এছাড়াও, তিনি বর্তমান সরকারের শাসনকাল এবং পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়েও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দিতে হয়। কারণ, যেকোনো মন্তব্যই দলের সাধারণ কর্মীদের কাছে বার্তা হিসেবে পৌঁছায়। বিশেষ করে ইশরাক হোসেনের মতো পরিচিত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ড যখন জনসমক্ষে আসে, তখন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নীরবতা বা বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের বিতর্কিত কাজকে কীভাবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কী হবে।

সম্মেলন পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে এই আলাপচারিতাটি মূলত দেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিচ্ছবি। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, অন্যদিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার স্বার্থ বজায় রাখা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন, তখন তার কণ্ঠে রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং বিচক্ষণতার বিষয়টি ফুটে উঠেছিল। ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে হুট করে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করে, তিনি বিষয়ের গভীরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে ইশরাক হোসেনের এই অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি এখন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জাতীয় রাজনীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এই সম্মেলন কেবল নেতাকর্মীদের পুনর্মিলনীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য একটি নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহ কীভাবে রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। রাজনৈতিক নেতাদের এ ধরনের বক্তব্য যে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ঘটে যাওয়া দুটি ভিন্ন ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রবাসী এক দম্পতিকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা সেখানে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে ভুক্তভোগী দম্পতির ওপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। তারা ভুক্তভোগীদের নানা রকম অপবাদ দিয়ে জিম্মি করে মারধর করেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয় এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে রিয়াদ হাসান বয়াতি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রায়পুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি পদের একজন প্রার্থী। এছাড়া তিনি অতীতে রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ রাবার জব্দ করেছে পুলিশ। নিয়মিত টহল ও নজরদারির অংশ হিসেবে পুলিশ একটি কাভার্ডভ্যানকে চ্যালেঞ্জ করে থামায়। এরপর ভ্যানটি তল্লাশি করে প্রায় ছয় থেকে সাত টন রাবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই রাবারের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অবৈধভাবে এই বিপুল পরিমাণ রাবার পাচারের সময় তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জব্দ করা রাবারগুলো এবং আটককৃত ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ উপায়ে রাবার পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের চোরাচালান ও সহিংসতার ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়, সেজন্য কঠোর নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটি যেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়, সেখানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঘটনাটি সংগঠিত অপরাধের একটি চিত্র তুলে ধরে। উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় টহল জোরদার এবং অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার

অশিক্ষিত হওয়ার কারণে প্রায়ই শুনতে হতো কটু কথা। এক ব্যক্তির করা অপমানজনক মন্তব্য যেন হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল রাজুর। তখন থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার জেদ চেপে বসে তার মাথায়। পেশায় নাপিত হলেও জ্ঞানের পিপাসাকে তিনি দমন করতে পারেননি। অপমানের জ্বালায় ভেঙে না পড়ে সেই গঞ্জনার জবাব দিতে তিনি বেছে নিয়েছেন বইয়ের জগতকে। এখন রাজুর সেলুনে গেলেই দেখা মেলে সারি সারি বইয়ের তাক, যা আজ একটি লাইব্রেরিতে রূপ নিয়েছে। এলাকার মানুষের কাছে রাজুর এই উদ্যোগ এখন দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত অনেকদিন আগে। সেলুনে কাজ করার সময় এক খদ্দের তাকে বলেছিলেন, তুমি নাপিত, তুমি অশিক্ষিত, তুমি আমার সাথে কী কথা বলবে। এই বাক্যটি রাজুর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি সেই ক্ষোভকে প্রতিশোধে রূপ না দিয়ে সৃজনশীল কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভেবেছিলেন, শিক্ষার অভাবে মানুষ যদি তাকে নিচু চোখে দেখে, তবে তিনি নিজেই নিজের পড়াশোনার ব্যবস্থা করবেন এবং অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দেবেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ দিয়ে বই কেনা শুরু করেন।

বর্তমানে রাজুর সেলুনে প্রবেশের পর অন্য আট-দশটি চুল কাটার দোকানের মতো শুধু কাঁচি আর চিরুনির আওয়াজই পাওয়া যায় না। এখন সেখানে ঢুকলে বইয়ের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। দোকানের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা কাঠের তাকে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের বই। এখানে ছোট গল্প, উপন্যাস থেকে শুরু করে জীবনমুখী ও সাধারণ জ্ঞানের বইয়ের সমাহার রয়েছে। চুল কাটার অপেক্ষায় থাকা খদ্দেররা এখন আর অহেতুক বসে থাকেন না। কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে নিচ্ছেন পছন্দের বইটি, আবার কেউ সময় কাটচ্ছেন পত্রিকা পড়ে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আগে সেলুনে গেলে মানুষ নানা ধরনের আড্ডায় সময় কাটাত, যার বেশিরভাগই ছিল অর্থহীন। কিন্তু রাজুর এই উদ্যোগে এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এবং বয়স্ক পাঠকরাও এখন এখানে এসে বই পড়ছেন। কেউ চাইলে এখান থেকে বই বাসায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন। রাজু নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন থাকলেও বইয়ের প্রতি তার এই গভীর টান এবং অন্যদের বইমুখী করার প্রচেষ্টা সমাজের অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের দোকানকে লাইব্রেরি বানানোর পেছনে রাজুর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই ঠিকই, কিন্তু আছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি। তিনি জানান, তাকে দেওয়া সেই অপমানের কথা তিনি এখনো ভোলেননি, তবে সেই অপমানই তাকে আজ মানুষের কাছে সম্মান এনে দিয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন এমন কিছু করতে যা অন্যদের জীবনে উপকারে আসে। আজ রাজুর কাছে বই শুধু পড়ার উপকরণ নয়, বরং সেটি তার ব্যক্তিত্বের নতুন পরিচয়। সেলুনে আসা মানুষদের তিনি নিয়মিত পড়াশোনার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, যা অনেকের ভাবনা বদলে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর এই লাইব্রেরির গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। বইয়ের গুরুত্ব যে কত বড়, তা যেন রাজু হাতে-কলমে শিখিয়ে দিচ্ছেন। তার এই ছোট্ট সেলুনটি এখন কেবল চুল কাটার জায়গা নয়, বরং এলাকার জ্ঞানপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যারা তাকে অশিক্ষিত বলে তুচ্ছ করেছিলেন, তারা আজ রাজুর এই উদ্যোগ দেখে অবাক। রাজু প্রমাণ করেছেন যে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনে নয়, বরং জানার আগ্রহ ও সৃজনশীল কাজের মধ্যেও রয়েছে। তার এই সাহসী পথচলা সমাজের জন্য এক বড় বার্তা নিয়ে এসেছে, যেখানে ঘৃণা ও অপমানের বদলে মানুষ মেধার জয়গান গাইছে।

বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯১ জন রোগী। একই সময়ে চিকিৎসারত অবস্থায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, গত এক দিনে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত এই রোগীদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালেই আলাদা ইউনিট বা কর্নার চালু রাখা হয়েছে। তবে আক্রান্তের ক্রমবর্ধমান হার চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ রোগীই জ্বরের তীব্রতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। নিয়মিত ওষুধ, তরল খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরাও মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গুর উৎসস্থল ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশা নিধন কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর উচিত নিয়মিত মশা নিধনে কীটনাশক স্প্রে করা এবং ড্রেন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা। পাশাপাশি, বৃষ্টির জমে থাকা পানি যাতে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাসার আঙিনায় বা টবে পানি জমে থেকে সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ জ্বর ভেবে অনেকে দেরি করে হাসপাতালে আসেন, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, জ্বরের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে রোগীদের ঝুঁকি বেশি থাকে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগসহ সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্কুলের আঙিনা বা খেলার মাঠ যেন মশার অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল বিভাগের সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু মৌসুম দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বর্ষা বা বৃষ্টির পরবর্তী সময়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সরকারি সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও কিট সরবরাহ নিশ্চিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হটলাইন বা জরুরি সেবার মানদণ্ড বজায় রাখতে কাজ করছেন তারা।

সর্বশেষ
রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী রাজশাহীতে বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি রুহুল কবির রিজভীর ঝিনাইদহে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কাশিপুর, আহত ২৫ মানি লন্ডারিং মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারের এজলাসে হট্টগোল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ আন্তর্জাতিক ভূগোল অলিম্পিয়াডে রাশিয়ার পথে বাংলাদেশ কারাবন্দী সু চির জন্য রাজা চার্লসের বিশেষ উপহার মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার
Advertisement