খুঁজুন
, ,

বাম্পার ফলনেও ধানের দাম কম, কৃষকের মাথায় হাত

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
বাম্পার ফলনেও ধানের দাম কম, কৃষকের মাথায় হাত

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় বোরো ধান কাটা শুরু করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে বাজারের ধানের দামে। বাজারে ধানের যে দাম তাতে লাভতো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, চলতি বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০  টাকা। প্রতি মন ধান বিক্রি করতে সাথে আরও ৪–৫ কেজি বেশি ধান বাড়তি দিতে হচ্ছে তাদের। এতো পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করে বিক্রি করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। অথচ সরকারি ভাবে শুকনো ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা।

সরেজমিনে ধানের বাজারে গিয়ে ও কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গুদামে ধান নিয়ে গেলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয় কৃষকদের। প্রথমেই ধানের নমুনা নিয়ে আদ্রতা পরিক্ষা করতে হয়। এরপর একই জায়গায় শুকানো ধান গুলো নিয়ে যাওয়ার পর গুদামের দায়িত্বে থাকা লোকেরা বলে উপরের বস্তার ধান গুলো ভাল নিচের গুলো ভিজা ইত্যাদি নানা অজুহাতে হয়রানি করে।

উপজেলা সদরের বাজারের বিভিন্ন ধান ক্রতাদের দোকানে (ধানের গদি) ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক মজনু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, কার্তিক দাস, লালচান মিয়া বলেন, ৯০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করছি প্রতি মণ ধানে ৫ কেজি ধান বেশি দিতে হচ্ছে। বাজারে ধানের এই দামে হতাশ আমরা। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ধানের দাম কম হলে আমরা বাঁচমু কী করে?

তারা আরও বলেন, ধান বিক্রি করতে পাইকার পাই না, বাকিতে বিক্রি করতে হয়। দামটাও ভালো না, ধান কাটতেও বাড়তি খরচ, জানি না এবার কপালে কী আছে আমাদের? ন্যায্য দামটুকুও না পেলে আমাদের মতো গরীব কৃষকদের এবারও ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জনান, কৃষি অফিস থেকে  এই পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ কৃষকের তালিকা এসেছে। তারা গুদামে ধান দেবে বলে আবেদন করেছেন। বারহাট্টা উপজেলায় ২টি খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৮৯ মেট্রিকটন ধান ও ৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিকটন চাল কেনা  হবে। তিনি বলেন, আমি গত কয়েকদিন আগে কৃষকদের উদ্দেশ্যে মাইকিং করেছি এর পরও এই পর্যন্ত মাত্র ১ টন ধান কিনতে পেরেছি।

বারহাট্টা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, আমার কাছে এই পর্যন্ত উপজেলার সাত ইউনিয়ন থেকে ৫৬১ জন কৃষকের তালিকা পৌছেছে। গত মাসের ২৭ তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে ধান, চাল সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এই পর্যন্ত আসমা ইউনিয়নের গুমুরিয়া গ্রামের মোস্তফা নামের একজন কৃষকের কাছ থেকে  ১ টন ধান কেনা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন কৃষক এখনও আসেনি। গুদামে ধান দিতে হলে ১৪% এর উপরে ময়েশ্চারাইজার হলে নেয়া যায় না। তাই হয়তো কৃষকের অনিহা। কিন্তু এই পর্যন্ত ১৬৮ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে তিনি।

বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, আমাদের অফিসে আর্দ্রতা পরিক্ষা করার মেশিন আছে। প্রথমেই যদি কৃষক আমার এখানে অল্প ধানের নমুনা নিয়ে আসে তাহলেই সহজে পরিক্ষা করতে পারে। ১৪% ময়েশ্চারাইজার থাকলে হয়রানি করার সুযোগ নেই।

এখন পর্যন্ত ক’জন কৃষক আবেদন করেছে ও এখনও আবেদনের সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বারহাট্টা উপজেলা প্রায় ৩৪ হাজার কৃষক রয়েছে। তার মধ্যে এই পর্যন্ত আমার এখানে ১ হাজার ৬১৬ জন কৃষক গুদামে ধান দেয়ার জন্য  আবেদন করেছে। আবেদনের তালিকাটি ইতিমধ্যেই আমি উপজেলা  খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি। এখনও আবেদন করার সুযোগ আছে বলে জানান  তিনি।

দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট বহনের দায়ে আটক দুই চীনা নাগরিককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়েছিল। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম চেন লিউন এবং মো শিয়াওইউ বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কাস্টমস ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছিল।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে দুবাই থেকে বিমানযোগে ঢাকায় অবতরণ করেন এই দুই বিদেশি নাগরিক। তাদের চলাফেরা ও আচরণের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে তাদের অন্তর্বাসে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১২ কেজি ওজনের স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেন। এটি পাচারের একটি অভিনব কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর গত সপ্তাহে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল। বিচারিক আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাদের সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রিমান্ড চলাকালীন সময়ে তাদের কাছ থেকে পাচার সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ডের মেয়াদ শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করেন। এ সময় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দুই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট তারা কোনো একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধার হওয়া এই পেস্ট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তারা তদন্তকারীদের কাছে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ও পাচার চক্রের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে যে, এর পেছনে আর কারা জড়িত এবং তারা এর আগেও এই ধরনের কোনো অপকর্ম করেছে কি না। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক কঠোর নজরদারির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ধারাবাহিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। বর্তমানে তারা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। রাষ্ট্র পরিচালনার শুরু থেকেই প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের রদবদল, নিয়মিত বদলি, পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সরকারি প্রশাসনের সামগ্রিক চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত যে ধরনের স্থিতিশীলতা কাম্য ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে একধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদের প্রথম আট মাসেই দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও নতুনভাবে পদায়ন করা হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক রদবদলের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়েও প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বেশি দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে এক হাজার ৫৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রশাসনের পদোন্নতি ও পদায়ন একটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও এর ঘনঘটা কর্মপরিবেশে ভিন্ন ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বদলি ও পদোন্নতিই নয়, একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে প্রশাসনের ভেতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের গতিকে ব্যাহত করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদল বা বড় ধরনের রদবদল আনা হলে সেখানে কিছুটা স্থবিরতা আসাই স্বাভাবিক। কারণ, নতুন পদে গিয়ে কর্মকর্তাদের খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বারবার একই জায়গায় রদবদল করা হয়, তখন উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার পর আবার তাদের পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তাতে এখনো প্রত্যাশিত ফল না আসার পেছনে সমন্বয়ের অভাব এবং যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। মেধার ভিত্তিতে পদায়ন বা জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও সামনে আসে, যা প্রশাসনের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেয়। যখন মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এ ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করে, তখন এর প্রভাব সাধারণ জনগণের ওপর পড়ে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নাকাল হন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসন পাড়ায় এখন নানা গুঞ্জন রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনের এই অস্থিরতা কাটিয়ে কীভাবে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানের সময় ভয়াবহ এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ি অঞ্চলে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র থেকে জানা গেছে, মানবপাচারকারীদের একটি চক্রকে ধরার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ওই এলাকায় অভিযানে নামে। রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে অবস্থান নেওয়া মানবপাচারকারীদের আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপরাধীরা অতর্কিতে গুলি চালায়। এসময় যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মো. তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মূলত বাম কাঁধে গুরুতর আঘাত পান। গোলাগুলির তীব্রতা ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মী ও স্বজনদের মাঝে।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো পাহাড়ী এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে যেন অপরাধীরা কোনোভাবেই পার পেয়ে যেতে না পারে। পাচারকারীদের ধরতে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত কয়জন অপরাধী আটক হয়েছে বা তারা কারা, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

টেকনাফ সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচার ও মাদকের চোরাচালানের জন্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিয়মিত বিরতিতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলেও অপরাধীরা প্রায়ই দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এবারের অভিযানে সেনাবাহিনীর একজন সদস্যের প্রাণহানি সেই পুরনো উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল।

নিহত সেনাসদস্যের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ ঘটনার ফলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে তারা বদ্ধপরিকর। দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনার চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সর্বশেষ
দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা? টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ রাজধানীর শান্তিবাগে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না