খুঁজুন
, ,

হাইব্রিডের দাপটে বিলুপ্ত দেশীয় জাতের ধান

রিপন কান্তি গুণঃ নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
হাইব্রিডের দাপটে বিলুপ্ত দেশীয় জাতের ধান

বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যের দাপটে নেত্রকোনার ফসলি মাঠ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির ধান। বেশি ফলনের আশায় কৃষকরা ঝুঁকছেন হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদের দিকে। ফলে কৃষকের মাঠে দেশীয় জাতের ধানের বদলে জায়গা করে নিচ্ছে বিভিন্ন হাইব্রিড প্রজাতির ধান। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে সরকারও জোর দিচ্ছেন হাইব্রিড ধান চাষাবাদে।

এক সময় এ জেলার কৃষকরা বিরই, কালোজিরা, নাতিশাইল, টেপি, জলকুমড়ী, কাইশাবেণী, কালজিরা, চিনিশাইলসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের ধানের আবাদ করতো। এখন আউশ, আমন, বোরো সব মৌসুমেই সরকার অনুমোদিত কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানির নতুন নতুন নামের বীজের ওপর নির্ভরশীল কৃষক। ফলে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

জেলা  সদরের কাইলাটি গ্রামের বাসিন্দা সাজুল ইসলাম বলেন, হাইব্রিড ধান চাষের মূল কারণ হচ্ছে ফলন বেশি হয়। আর দেশী ধানে পোকামাকর কম হলেও ফলন কম হয়, এজন্য আমরা স্থানীয় জাতগুলো আবাদ কম করি। দেশী ধান এখন আবাদ হয় না বললেই চলে। আগে আমরা বিরই, নাতিশাইল, তুলসীমালা, কালোজিরা এগুলোর আবাদ করতাম। কিন্তু এখন এগুলো নাই বললেই চলে। সময়ের সাথে সাথে এগুলো হারিয়ে গেছে।

তিনি জানান, আগে আমরা দেশীয় জাতের ধান চাষ করতাম। দেশীয় জাতের ধান চাষের উৎপাদন খরচ কম ছিল। তখন ধান কাটার মৌসুমে গ্রামে পিঠা পায়েস, চিড়া, খই, মুড়ি তৈরির ধুমও ছিল। এখন তা আর হয় না। দেশীয় জাতের ধান আবাদে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হতো না।

তাঁতিয়র গ্রামের জালাল উদ্দীন আফসোস করে বলেন, আগের সময়ে খুব ভালো মানের ধান ছিল। আমরাছোটবেলায় দেখেছি, নাজিরশাইল, চিনিশাইল, কালোজিরা, টেপি এগুলো ছিল। আমাদের বাবাকেই দেখেছি তিনি অল্প অল্প করে আট রকমের ধান চাষ করতেন। কিন্তু বর্তমানে হাইব্রিড ধান ছাড়া আর কোনো কিছু চাষ হয় না বললেই চলে। সবাই শুধু ধানের ফলন বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। আমরা এখন চালের সঙ্গে বিষ খাচ্ছি। কীটনাশক ছাড়া কোনো ধানের আবাদ করা যায় না। আগে তো এগুলো কোনো কিছু দিতে হয় নাই, সার পর্যন্ত দিতে হয় নাই। আগে আমরা যে ভাত খেতাম সেটা অনেক সুস্বাদু ছিল, এখন তো শুধু খেয়ে যাচ্ছি এই পর্যন্তই কোনো রস-কষ নাই।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় জাতের ধান চাষাবাদ করতে কোনো বীজ বাজার থেকে কিনতে হতো না। বীজের জন্য কিছু ধান আলাদা করে ঘরে তুলে রাখলেই চলতো। বর্তমানে আমরা যে ধান চাষাবাদ করছি তা বীজ রাখতে পারছি না। বছরে বছরে বাজার থেকে চড়া দামে বীজ কিনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধান রোপণের পর জমিতে কীটনাশক, সার, সেচ প্রচুর পরিমাণ দিতে হচ্ছে। না হলে ফলন ভালো হচ্ছে না।

মদন উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা কৃষাণী কুলসুমা বেগম বলেন, আমরা আগে দেখছি বছরে সবাই দুইটা ফসল আবাদ করতো। একটা বাওয়া আর একটা আউশ। তখন বোইল্লা নামের ধান চাষ করতো, কালো রঙের হতো ওই ধানটা। ১০-১৫ সের করে ধান হতো প্রতি কাঠায়। আর এগুলো দিয়েই কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে আমরা দিন পার করতাম। আর এখন সমপরিমাণ জমি থেকেই কয়েক গুণ বেশি ধান আমরা ঘরে তুলতে পারি। আগে ৫-৭ জাতের ধান ছিল কিন্তু এখন যে কত ধরনের ধান এটার কোনো শেষ নেই। আমি আর এখন কোনো ধানের নাম বলতে পারি না। আগে আমাদের মা-চাচিরা বীজ ধান মটকায় ভরে রাখতরন। আর এখন দেখি সবাই প্যাকেট ধান কিনে নিয়ে এসে চাষ করে। আমরা বললে তো আর পুরুষ লোকেরা শুনে না। আমরা যদি বলি বিরই ধান চাষ করো, বিরইয়ে ভাত খাইতে খুব ভালা, তারা তো সেটা করবে না। আগে এক বাড়িতে কালোজিরা চালের ভাত রান্না করলে আরেক বাড়ি থেকে বুঝা যেতো কোন চালের ভাত রান্না হচ্ছে। আর এখন তো পোলাওয়ের চাল রান্না করলেও গন্ধ পাওয়া যায় না।

বারহাট্টা উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের কৃষি কাজের সাথেঅবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দুলাল রায় (দুলু) বলেন,আমি হাইব্রিড এবং স্থানীয় জাত দুটোই চাষ করেছি। হাইব্রিডের ক্ষেত্রে দেখা যায় খরচ বেশি হয়, আবার ফলনও ভালো হয়। আবার দেশী ধানের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সার কম দিতে হয় এবং ফলনও কম হয়। যেমন কালোজিরা ধান আমি দুই কাঠা জমিতে রোপণ করেছি। এটাতে আমার খরচ কম হয়েছে কারণ এখানে রাসায়নিক সার কম দিয়েছি। আবার উৎপাদনও কম হয়েছে। কিন্তু এ ধানের চাল অনেক সুস্বাদু এবং অনেক সুগন্ধি আছে। আর হাইব্রিড যে ধানের জাতগুলো আছে সেগুলো পাঁচ-ছয় মণ করে হয়েছে। কিন্তু এই ধানটা সিদ্ধ করে সংরক্ষণ করলে এটার চালটা ততটা সুস্বাদু হয় না। হাইব্রিড জাতগুলো আসায় আমাদের কাছ থেকে দেশীয় ধানের বীজগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটাও সত্যি যে, আমাদের জায়গা বাড়ছে না কিন্তু মানুষ বাড়ছে। এজন্যই আমাদের মাঝে হাইব্রিড জায়গা করে নিচ্ছে আর দেশি জাতগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় ১৮ হাজার স্থানীয় ধানের জাত ছিল, যা এখন বিলুপ্ত প্রায়। আমি চাই আমরা সবাই মিলে আমাদের দেশীয় জাতগুলোকে সংরক্ষণ করি। এগুলো যেন আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে না যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নূরুজ্জামান বলেন, মাঠপর্যায়ে ধানের উৎপাদন বাড়াতে যে সব জাতের ফলন বেশি হয় সে সব ধানের জাত সম্প্রসারণে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,  আমরা কৃষি বিভাগ মূলত কৃষক ভাইদের ধানের উৎপাদন যেন বেশি হয় সেটি মাথায় রেখে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। নতুন যে জাতগুলো আছে বিশেষ করে আমন মৌসুমের জন্য ব্রি-ধান ৭১, ব্রি-ধান ৭৫, ব্রি-ধান ৮৭, ব্রি-ধান ১০৩ এবং বিনা ধান-১৭ এগুলো আমরা মাঠপর্যায়ে বিস্তার ঘটাচ্ছি। বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি-ধান ৮৮, ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি-ধান ৯২, ব্রি-ধান ১০২ এই জাতগুলো আমরা কৃষকদের আবাদের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলোর ফলন ভালো এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম।

দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট বহনের দায়ে আটক দুই চীনা নাগরিককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়েছিল। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম চেন লিউন এবং মো শিয়াওইউ বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কাস্টমস ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছিল।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে দুবাই থেকে বিমানযোগে ঢাকায় অবতরণ করেন এই দুই বিদেশি নাগরিক। তাদের চলাফেরা ও আচরণের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে তাদের অন্তর্বাসে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১২ কেজি ওজনের স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেন। এটি পাচারের একটি অভিনব কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর গত সপ্তাহে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল। বিচারিক আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাদের সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রিমান্ড চলাকালীন সময়ে তাদের কাছ থেকে পাচার সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ডের মেয়াদ শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করেন। এ সময় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দুই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট তারা কোনো একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধার হওয়া এই পেস্ট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তারা তদন্তকারীদের কাছে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ও পাচার চক্রের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে যে, এর পেছনে আর কারা জড়িত এবং তারা এর আগেও এই ধরনের কোনো অপকর্ম করেছে কি না। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক কঠোর নজরদারির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ধারাবাহিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। বর্তমানে তারা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। রাষ্ট্র পরিচালনার শুরু থেকেই প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের রদবদল, নিয়মিত বদলি, পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সরকারি প্রশাসনের সামগ্রিক চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত যে ধরনের স্থিতিশীলতা কাম্য ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে একধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদের প্রথম আট মাসেই দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও নতুনভাবে পদায়ন করা হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক রদবদলের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়েও প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বেশি দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে এক হাজার ৫৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রশাসনের পদোন্নতি ও পদায়ন একটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও এর ঘনঘটা কর্মপরিবেশে ভিন্ন ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বদলি ও পদোন্নতিই নয়, একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে প্রশাসনের ভেতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের গতিকে ব্যাহত করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদল বা বড় ধরনের রদবদল আনা হলে সেখানে কিছুটা স্থবিরতা আসাই স্বাভাবিক। কারণ, নতুন পদে গিয়ে কর্মকর্তাদের খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বারবার একই জায়গায় রদবদল করা হয়, তখন উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার পর আবার তাদের পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তাতে এখনো প্রত্যাশিত ফল না আসার পেছনে সমন্বয়ের অভাব এবং যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। মেধার ভিত্তিতে পদায়ন বা জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও সামনে আসে, যা প্রশাসনের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেয়। যখন মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এ ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করে, তখন এর প্রভাব সাধারণ জনগণের ওপর পড়ে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নাকাল হন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসন পাড়ায় এখন নানা গুঞ্জন রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনের এই অস্থিরতা কাটিয়ে কীভাবে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানের সময় ভয়াবহ এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ি অঞ্চলে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র থেকে জানা গেছে, মানবপাচারকারীদের একটি চক্রকে ধরার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ওই এলাকায় অভিযানে নামে। রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে অবস্থান নেওয়া মানবপাচারকারীদের আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপরাধীরা অতর্কিতে গুলি চালায়। এসময় যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মো. তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মূলত বাম কাঁধে গুরুতর আঘাত পান। গোলাগুলির তীব্রতা ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মী ও স্বজনদের মাঝে।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো পাহাড়ী এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে যেন অপরাধীরা কোনোভাবেই পার পেয়ে যেতে না পারে। পাচারকারীদের ধরতে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত কয়জন অপরাধী আটক হয়েছে বা তারা কারা, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

টেকনাফ সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচার ও মাদকের চোরাচালানের জন্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিয়মিত বিরতিতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলেও অপরাধীরা প্রায়ই দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এবারের অভিযানে সেনাবাহিনীর একজন সদস্যের প্রাণহানি সেই পুরনো উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল।

নিহত সেনাসদস্যের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ ঘটনার ফলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে তারা বদ্ধপরিকর। দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনার চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সর্বশেষ
দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা? টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ রাজধানীর শান্তিবাগে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না