চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতি বা দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগের আশঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের যুগে হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের মতো মরণব্যাধি থেকে বাঁচতে মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। এই সচেতনতার অংশ হিসেবেই অনেকে নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কম মাত্রার অ্যাসপিরিন সেবন শুরু করছেন। তাদের বদ্ধমূল ধারণা, এই ওষুধটি রক্তকে পাতলা রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রেখে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের এই প্রবণতা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, অ্যাসপিরিন বা এই জাতীয় রক্ত পাতলা করার ওষুধগুলোর সুনির্দিষ্ট কিছু কার্যকারিতা রয়েছে। তবে এগুলো সবার জন্য সমভাবে কার্যকর নয়। বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যখন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের মতো রোগগুলো প্রকট থাকে, তখন চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ওষুধ নির্ধারণ করেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনো ধরনের রক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদে এই ওষুধ সেবন করছেন রোগীরা। এটি তাদের অজান্তেই শরীরের ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ত পাতলা করার ওষুধ শরীরের যেকোনো অংশে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসপিরিন ব্যবহারের ফলে পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বেড়ে যায়, যা অনেক সময় রোগীর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে। যারা আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ওষুধ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া অন্য কোনো অস্ত্রোপচার বা নিয়মিত ব্যবহৃত অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে এই অ্যাসপিরিনের মিথস্ক্রিয়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবনের এই সংস্কৃতি কেবল ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সঠিক চিকিৎসার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অ্যাসপিরিন একটি কার্যকর ওষুধ হতে পারে, কিন্তু এর ডোজ এবং ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের সম্পূর্ণ দায়ভার চিকিৎসকের। নিজস্ব সিদ্ধান্তে ওষুধ সেবন বা বন্ধ করা—দুইই বিপজ্জনক। অনেক বয়স্ক রোগী মনে করেন, এটি একটি সাধারণ ওষুধ হিসেবে সেবন করা যায়, যা মোটেও ঠিক নয়। তাই সুস্থ থাকতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে যেকোনো ওষুধ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব বয়সে শারীরিক জটিলতাগুলো বিবেচনা করে তবেই নিয়মিত ওষুধের রুটিন তৈরি করা উচিত, অন্যথায় হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে কিংবা গুজবে কান না দিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলার বিকল্প নেই।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]