হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে ইরান ও রাশিয়া। নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, রাশিয়ার একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি থেকে জানা গেছে যে, রাশিয়া ইরানকে বিশেষ ধরনের ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। এই লঞ্চারগুলো এমনভাবে তৈরি যা হেলিকপ্টার থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম। মূলত সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই চুক্তির ফলে ইরানের বিমানবাহিনী ও সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও রাশিয়া বা ইরান সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি, তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের অভ্যন্তরীণ রফতানি সংক্রান্ত গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এই ধরনের সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক আদান-প্রদান বিশ্বরাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া কেবল অর্থনৈতিক লাভের দিকেই নজর দিচ্ছে না, বরং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানকে পাশে রেখে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টাও করছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের পুরনো সামরিক সরঞ্জামগুলোকে আধুনিকায়নের সুযোগ পাচ্ছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্র নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা থাকার কারণে এই লঞ্চারগুলো ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তির সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সরবরাহকে কীভাবে দেখছে এবং এতে কোনো কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
রাশিয়া এবং ইরানের এই সামরিক চুক্তি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতা হোক, তা চায় না। তবুও গোপন নথির এই তথ্য প্রমাণ করে যে, দুই দেশের সামরিক অংশীদারিত্ব দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই লঞ্চারগুলো কখন এবং কীভাবে ইরান তার সামরিক বহরে যুক্ত করবে, তা নিয়ে সামরিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক নজর রাখছেন। এই চুক্তির ফলে তেহরানের সামরিক শক্তি যে এক ধাপ এগিয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]