খুঁজুন
, ,

প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। রাষ্ট্র পরিচালনার শুরু থেকেই প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের রদবদল, নিয়মিত বদলি, পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সরকারি প্রশাসনের সামগ্রিক চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত যে ধরনের স্থিতিশীলতা কাম্য ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে একধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদের প্রথম আট মাসেই দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও নতুনভাবে পদায়ন করা হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক রদবদলের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়েও প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বেশি দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে এক হাজার ৫৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রশাসনের পদোন্নতি ও পদায়ন একটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও এর ঘনঘটা কর্মপরিবেশে ভিন্ন ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বদলি ও পদোন্নতিই নয়, একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে প্রশাসনের ভেতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের গতিকে ব্যাহত করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদল বা বড় ধরনের রদবদল আনা হলে সেখানে কিছুটা স্থবিরতা আসাই স্বাভাবিক। কারণ, নতুন পদে গিয়ে কর্মকর্তাদের খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বারবার একই জায়গায় রদবদল করা হয়, তখন উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার পর আবার তাদের পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তাতে এখনো প্রত্যাশিত ফল না আসার পেছনে সমন্বয়ের অভাব এবং যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। মেধার ভিত্তিতে পদায়ন বা জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও সামনে আসে, যা প্রশাসনের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেয়। যখন মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এ ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করে, তখন এর প্রভাব সাধারণ জনগণের ওপর পড়ে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নাকাল হন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসন পাড়ায় এখন নানা গুঞ্জন রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনের এই অস্থিরতা কাটিয়ে কীভাবে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অধ্যক্ষর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অধ্যক্ষর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স বা সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন আজও উত্তাপ ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরব ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দিন শেষে রাতের মতো কর্মসূচির ইতি টেনে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরলেও, তাদের এই আন্দোলন স্থগিত নয় বরং সাময়িক বিরতি মাত্র বলে জানা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে, আগামী শুক্রবার সকাল থেকে আবারও তারা রাজপথে সক্রিয় হবেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির প্রতি অবজ্ঞার কারণে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদেই তারা এক দফা আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। রাতের বেলা তারা হলে ফিরে গেলেও, তাদের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি।

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকেই আবারও তারা আন্দোলনের মাঠে নামবেন। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল কোনো নির্ধারিত চাকরির পরীক্ষা থাকলে সেই সময়টুকুর জন্য আন্দোলন কিছুটা শিথিল রাখা হতে পারে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই আবারও তারা সম্মিলিতভাবে আন্দোলনে ফিরবেন। মূলত, একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাদের পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি কোনোভাবেই থেমে থাকবে না। তারা ক্যাম্পাসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষায় নতুন ও যোগ্য প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে, বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। কলেজের সার্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ক্ষোভ বিরাজ করছে, তা এই আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও, তারা বলছেন, দাবি আদায়ই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার বার্তা আসেনি। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল সকালের আন্দোলন কতটা কঠোর রূপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। এদিকে আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বা সতর্কতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে দিনশেষে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে গেলেও, ক্যাম্পাসের বাতাস এখনও ভারী হয়ে আছে আন্দোলনের ঘোষণায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার এই দূরত্ব কীভাবে নিরসন হবে এবং কলেজের অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
   
দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জেলা শাখার আমির পদে নতুন মুখ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এ আর হাফিজ উল্লাহ। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে নেতৃত্বের অধীনে লক্ষ্মীপুরে দলটির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল, সেখানে এই রদবদল রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বুধবার রাতে দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

এ আর হাফিজ উল্লাহ তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হলেও গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) নির্বাচনী আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তার একটি মন্তব্য দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। তিনি জনসমাবেশে বলেছিলেন যে, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত’। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তখন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয় এবং অনেকেই ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহারের এই প্রবণতাকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই বিতর্কিত অধ্যায় পার করার পর এবার জেলা আমির হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি আবারও তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের মতো সুশৃঙ্খল এবং ক্যাডারভিত্তিক সংগঠনে দীর্ঘ দুই যুগের নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি বড় সাংগঠনিক মাইলফলক। সাধারণত এমন রদবদল দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল এবং আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই নেওয়া হয়ে থাকে। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো নেতৃত্ব থেকে সরে এসে নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হলো, আগামী দিনে দলটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হয়তো ভিন্ন কোনো কৌশলের আশ্রয় নিতে যাচ্ছে। হাফিজ উল্লাহর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের পুরনো ও নতুন নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

দীর্ঘ ২৩ বছরের নেতৃত্বের যে ধারাবাহিকতা ছিল, তা ভেঙে নতুন আমির দায়িত্ব নেওয়ায় সংগঠনের ভেতরেও এক ধরণের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, হাফিজ উল্লাহর এই দায়িত্ব গ্রহণ দলের অভ্যন্তরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। তবে গত নির্বাচনের সময় তার বিতর্কিত মন্তব্যটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটি নিয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। জামায়াতের মতো আদর্শিক একটি দলের জেলা আমিরের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাকে কেবল দলীয় কর্মকাণ্ডই নয়, বরং স্থানীয় জনমত ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সাথেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।

ভবিষ্যতের রাজনীতির মাঠে হাফিজ উল্লাহ কতটুকু দক্ষতার সাথে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, নতুন নেতৃত্বের হাতে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ইউনিটটি এখন নতুন কোনো লক্ষ্যের দিকে এগোতে চাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সেই বিতর্কিত বক্তব্য এবং বর্তমানের জেলা আমিরের দায়িত্ব—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি কীভাবে নিজের রাজনৈতিক ইমেজ গড়ে তোলেন এবং দলকে সংগঠিত করেন, তা স্থানীয় সচেতন মহলের নজর কেড়েছে। লক্ষ্মীপুরের রাজনীতির সমীকরণে এই পরিবর্তন আগামী দিনগুলোতে কী প্রভাব ফেলে, তা পর্যবেক্ষণ করাই এখন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
   
কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ

আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সরকার এবার বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হবে জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অনুদানের প্রবাহ বাড়ানো।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সামনের সারিতে থাকলেও, আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, জলবায়ুজনিত অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে যে অর্থায়ন প্রয়োজন, তা যেন কোনোভাবেই ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া না হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জলবায়ু তহবিলের নামে প্রদত্ত সহায়তা ঋণের জালে আটকে পড়ে, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বাড়তি বোঝা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।

জলবায়ু অর্থায়নের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জোর দিয়ে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও উন্নত দেশগুলোর উচিত এই জটিলতা নিরসন করা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবারের সম্মেলনে দাবি জানানো হবে যেন জলবায়ু তহবিলের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়, যাতে সময়মতো অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব হয়। সঠিক সময়ে আর্থিক সহায়তা না পেলে অভিযোজন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তার তুলনায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অপ্রতুল। এই বৈষম্য দূর করতে এবং জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে বাংলাদেশ এবার অত্যন্ত সোচ্চার থাকবে।

এছাড়া, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নে যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা কেবল অনুদানের মাধ্যমেই সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে সরকার মনে করছে। উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জলবায়ু অর্থায়নের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কপ-৩১ সম্মেলনে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল অঙ্গীকার নয়, বরং কার্যকর ও স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
অধ্যক্ষর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ছেলের জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা? টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত