ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মহারণে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ভুটানের বিপক্ষে গোল করার নেশায় মরিয়া হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধ জুড়ে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। গোল করার মতো অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ভুটানের রক্ষণদুর্গ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাগতিক দল। দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলির ট্যাকটিক্যাল চমক। নিয়মিত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে তিনি এবার স্ট্রাইকার পজিশনে বা নম্বর নাইন হিসেবে মাঠে নামিয়েছিলেন। দলের এই সাহসী ও ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায়। তবে ভুটানের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগকে পরাস্ত করতে বেগ পেতে হয় স্বাগতিকদের। মাঝমাঠে হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি যেন অনেকটাই অনুভূত হয়েছে এই ম্যাচে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল সরবরাহে কিছুটা ছন্দপতনের কারণে ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। একের পর এক আক্রমণ সাজালেও গোলপোস্টের লক্ষ্যভেদ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই বিরতিতে যেতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সকে মূলত গোল মিসের মহড়া হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দলের খেলার ধরন ছিল বেশ আক্রমণাত্মক, কিন্তু গোল আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কৌশলের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বনাথ ঘোষকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্তটি কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও কোচ ডুলি চেয়েছিলেন তার উচ্চতা এবং শারীরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভুটানের রক্ষণব্যূহ ভেদ করতে, কিন্তু বাস্তবে তা প্রত্যাশিত ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা বারবার ভুটানের ডি-বক্সের আশেপাশে বল নিয়ে গেলেও সঠিক সময়ে সঠিক শট নেওয়ার অভাব ছিল প্রকট। ভুটান খুব একটা আক্রমণাত্মক ফুটবল না খেললেও, বাংলাদেশের অগোছালো আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি পাল্টা আক্রমণের চেষ্টাও চালিয়েছে তারা। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তুলনামূলকভাবে সতর্ক থাকায় প্রথমার্ধে ভুটান খুব একটা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি।
জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথমার্ধের খেলা শেষে মাঠের চিত্র ভিন্ন। দুই দলই গোলহীন অবস্থায় ড্রেসিংরুমে ফিরেছে। দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল পরিবর্তন করে বাংলাদেশ কোচ দলকে গোল পেতে মরিয়া করে তুলবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দলের প্রধান স্ট্রাইকারদের গোল করতে না পারার ব্যর্থতা সামলাতে কি ধরনের পরিবর্তন আনা হয় বা বিশ্বনাথের পজিশন পরিবর্তন করা হয় কি না, তা নিয়ে এখন সবার নজর। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য বাংলাদেশের সামনে এখন গোল আদায় করাই একমাত্র লক্ষ্য। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং রক্ষণভাগ ভেঙে ভুটানের জালে বল জড়াতে সক্ষম হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]