খুঁজুন
, ,

গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা

কয়েক দিনের টানা আন্দোলন ও উত্তেজনার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকাগুলোতে পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা গেছে। ন্যূনতম মজুরি কাঠামো সংশোধন এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার মতো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সেই ভিড় ও বিক্ষোভের পরিবর্তে আজ দেখা গেছে কাজে ফেরার ব্যস্ততা। গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল বিশেষ করে কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার পাশাপাশি মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর এবং সালনা এলাকার কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছেন। কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টাও চোখে পড়ার মতো ছিল।

স্থানীয় শ্রমিক ও কারখানার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদের মধ্যে যেসব যৌক্তিক দাবি ছিল তা নিয়ে মালিকপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা কাজ বন্ধ রেখে অচলাবস্থা তৈরি করতে চান না, তবে তাদের দাবিগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। কারখানার ভেতরে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের কাজে ফেরার এই প্রবণতাকে এলাকার সামগ্রিক অস্থিরতা নিরসনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন শিল্প মালিকরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে গিয়ে আবারও সচল হচ্ছে গাজীপুরের পোশাক শিল্প।

এর আগে, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তবে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ায় যান চলাচলও এখন নির্বিঘ্নে চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার রেখেছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা নতুন করে তৈরি না হয়। শ্রমিকদের দাবি, আন্দোলন কোনো সমাধান নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই তাদের সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব। আপাতত সব কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় মালিকপক্ষের স্বস্তি ফিরেছে এবং রপ্তানি বাণিজ্যে যে ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে গাজীপুরের পোশাক শিল্পে এখন স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস উভয় জায়গাতেই ডেমোক্র্যাটরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই অভূতপূর্ব জয়ের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাট পার্টি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান মেয়াদের শেষ দুই বছরের ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আনার সুযোগ পেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণের পথ সুগম করেছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পরই ডেমোক্র্যাটদের শিবিরে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের দলীয় নেতা হাকিম জেফ্রিস এই জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি দলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আজকের এই দিনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি এবং তাদের ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনায় এটি নতুন গতি সঞ্চার করবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন ভোটাররা যে রায় দিয়েছেন, তা মূলত বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর ডেমোক্র্যাটদের কঠোর নজরদারির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এখন আইন প্রণয়নসহ নানা বিষয়ে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবে যা আগে তাদের জন্য কঠিন ছিল।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকায় এখন থেকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বিল পাসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সক্ষম হবে। তারা চাইলে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা, নতুন আইন প্রণয়ন কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপে নিজেদের মতামত জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। তবে এই ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনই চ্যালেঞ্জও কম নয়। কারণ আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক পথচলায় সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—এই দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা এখন থেকে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরোধিতার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাবগুলো জনগণের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী রাজনীতিতে এই নিয়ন্ত্রণের প্রভাব কেমন হবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে তাদের এই নতুন পাওয়া ক্ষমতার প্রয়োগ করে তার ওপর। এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও সক্ষমতা নতুন করে জানান দিল। এখন দেখার বিষয়, তারা এই সুযোগকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে মার্কিনী জনমতকে নিজেদের পক্ষে ধরে রাখতে পারে। নির্বাচনের এই ফলাফল মার্কিন রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে কংগ্রেসের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে যাঁদের কাজ করার কথা, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁদের অনেকের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের একাংশের যে দ্রুত মতাদর্শ পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায়, তা রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের এক কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন যেদিকে হেলে পড়ে, বুদ্ধিজীবীদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সেদিকেই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলেন। এই প্রবণতাকে অনেকেই বসন্তের কোকিলের আগমনের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় একে আরো গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর এই সুবিধাবাদী অবস্থানের কারণে অনেক সময় প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁদের এই আচরণকে অনেকে গিরগিটির মতো রং পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেকোনো রাজনৈতিক আবহাওয়া ও পতাকার রঙের সাথে মিল রেখে নিজেদের অবস্থান দ্রুত বদলে ফেলার এই কৌশল মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থসিদ্ধির অংশ বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতের অনেক বুদ্ধিজীবী যারা এক সময় এক দলের গুণকীর্তনে ব্যস্ত ছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে তারাই আবার নতুন ধারার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন জনমনে এক ধরনের হতাশা তৈরি করে, কারণ বুদ্ধিজীবীরা সমাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হন।

বুদ্ধিজীবীদের এই দলবদলের প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি অধিকতর দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তথাকথিত এই বুদ্ধিজীবীরা যখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতির মাঠ গরম রাখেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে যাদের বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ কণ্ঠস্বর শোনা প্রত্যাশিত, সেখানে ক্ষমতার সাথে আপস করার এই সংস্কৃতির ফলে সমাজের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে। বুদ্ধির লড়াই বা যুক্তির চর্চার চেয়েও যখন ব্যক্তিগত সুবিধা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুখ্য হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর বুদ্ধিবৃত্তি থাকে না, বরং তা রাজনীতিরই একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী তারাই, যারা ক্ষমতার পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে সত্যের পথে অবিচল থাকেন এবং সমাজের অসংগতিগুলো সাহসের সাথে তুলে ধরেন। অথচ বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ কেবল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনীতির ডালপালা বা বাতাসের গতিপথ অনুসরণ করে চলছেন। এই সংকীর্ণ মানসিকতা দেশের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চাকে ব্যাহত করছে। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই প্রবণতা সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে এবং বুদ্ধিজীবী শ্রেণির গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। তাই সময়ের প্রয়োজনে বুদ্ধিজীবীদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় জনস্বার্থে ও সত্যের পথে নিজেদের অবস্থান সুনিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থতার জন্য বুদ্ধিজীবীদের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ও নৈতিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজের সামরিক সক্ষমতা আরও একবার জানান দিলো উত্তর কোরিয়া। দেশটি নতুন মডেলের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্র উদ্ভাবন এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এই সামরিক কর্মকাণ্ডে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রদর্শনেও জোর দিয়েছে পিয়ংইয়ং। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষার পাশাপাশি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণের একটি মহড়াও পরিচালনা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এই ধরণের মহড়া সাধারণত প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। দেশটি নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। গত কয়েক মাসে দেশটির সামরিক কৌশলে এক ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া যেভাবে তাদের প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, তা সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। নতুন এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার জন্য এই নতুন ব্যবস্থাটি কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তথ্য বিশ্লেষণ করছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তারা কার্যত এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে, এই সামরিক পরীক্ষা এবং মহড়ার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এসব কর্মকাণ্ড আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এবং বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলা করার জন্য অপরিহার্য। তবে ওয়াশিংটন এবং সিউল বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা এই ধরণের কার্যক্রমকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কী ধরণের পদক্ষেপ নেয় এবং উত্তর কোরিয়া পরবর্তীতে কী ধরনের সামরিক কৌশল গ্রহণ করে, সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভরাডুবি: প্রকাশ্যে ট্রাম্প-ভ্যান্সের পারস্পরিক দোষারোপ রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭ রাজধানীর কদমতলীতে ট্রাকচাপায় দুই অটোরিকশাচালক নিহত গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা শরতের ছুটি কাটাতে নর্থ নরফোকের নিরিবিলি নিসর্গ কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক: উৎসবের আমেজে সাশ্রয়ের সুযোগ