হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন
দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এই গুরুতর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের জন্যই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
গঠিত কমিশনটি কেবল টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক ব্যর্থতার জায়গাগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সরকারি নথি অনুযায়ী, কমিশনটিতে মোট তিন সদস্য রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, কমিশনের এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
তদন্ত কমিশনের কর্মপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এই কমিটি। মূলত, উক্ত সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তাতে যে ধরণেই বিলম্ব বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে, তার প্রতিটি স্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকা কেনা বা বিতরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই অনিয়মের সাথে কারা জড়িত এবং কী কারণে প্রশাসনিক ব্যর্থতা তৈরি হয়েছিল, তা খুঁজে বের করা জরুরি। কমিশন তাদের তদন্ত শেষে সরকারকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সাথে পরিচালিত হবে বলেও সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে এই তদন্ত কমিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এখন থেকে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিশন কত দিনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে, সে বিষয়ে খুব দ্রুতই পরবর্তী নির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]