খুঁজুন
, ,

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা জাদুঘরটির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো ব্যক্তি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনা যায়, যা আশপাশের মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা একটি রিকশায় চড়ে জাদুঘরের সামনে এসে অতর্কিতে ককটেল ছুড়ে মারে। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা রিকশা যোগেই দ্রুত পালিয়ে যায়। হামলার ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা বা জনমনে ভীতি তৈরির অপপ্রয়াস হতে পারে। পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই শুরু করেছেন। এছাড়া, জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় টহল ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মোটিভ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। একইসঙ্গে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জাদুঘরের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা সত্ত্বেও কীভাবে দুর্বৃত্তরা এমন ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তার ঝুঁকিকেই বড় করে দেখায়। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জনসাধারণের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও খুব দ্রুতই এর পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন রিকশাটি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে যেটিতে চড়ে অপরাধীরা এসেছিল। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে ১৪টি জেলা চিহ্নিত করল সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে ১৪টি জেলা চিহ্নিত করল সরকার

দেশের অভ্যন্তর থেকে অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা রোধ করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবৈধভাবে পাড়ি জমানোর ঝুঁকি কমাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কর্তৃপক্ষ নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্যমতে, সরকার দেশের এমন ১৪টি জেলাকে চিহ্নিত করেছে, যেখান থেকে বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এসব জেলাকে এখন বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইতালি ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং তাদের দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সাথে সরকারি পর্যায়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ যাত্রাপথের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা এবং আইনি অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো। সরকার একা নয়, বরং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়েছে।

চিহ্নিত ১৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের বা ডিসিদের সাথে ইতোমধ্যে বিশেষ সভা করা হয়েছে। এই সভাগুলোতে তাদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন নিজ নিজ এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়া যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে যে জীবন ও সম্পদ—উভয়েরই হানি হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতেই এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে এই আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যাতে দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে তরুণ প্রজন্ম যেন ভুল পথে পা না বাড়ায়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল প্রশাসন নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে অবৈধ অভিবাসনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে। যারা বিদেশের বাজারে কর্মসংস্থানের সন্ধানে আগ্রহী, তাদের যেন বৈধ ও সঠিক উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হয়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অভিবাসন খরচ কমানো এবং দালালের দৌরাত্ম্য থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। আগামী দিনগুলোতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং নজরদারির আওতায় থাকা জেলাগুলোর সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা শুধু ব্যক্তির জন্যই নয়, দেশের ভাবমূর্তির জন্যও সংকট তৈরি করে। তাই এই সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত এই জেলাভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রশাসন আশা করছে, স্থানীয় ডিসিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হলে অবৈধ অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন ও বিনিয়োগের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকারি নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি সহজলভ্য অর্থায়নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর বিভিন্ন সেমিনারে এই খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশেষজ্ঞরা সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু কার্যকর প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাদের মতে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অপার সম্ভাবনা থাকলেও মূলধনের সীমাবদ্ধতা প্রায়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধানে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা করা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং গ্রিন বন্ড চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও শুল্ক প্রণোদনার বিষয়টিও সেমিনারে গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হয়েছে। বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে যদি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়, তবে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যাতে সহজেই এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির ওপরও কাজ চলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং টেকসই জ্বালানি সাশ্রয়ে স্থানীয়ভাবে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আয়োজক ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নীতিসহায়তা ও অর্থায়নের নতুন এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্রিড-টাইড ও অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সংখ্যা বাড়বে। এতে একদিকে যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সহজ হবে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর আলোচনা থেকে এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রকৃত বিকাশে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং সুসংগঠিত অর্থনৈতিক কাঠামোই এখন সময়ের দাবি। সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা মিলে এই অর্থায়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করলে ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাতের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
   
হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন

দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এই গুরুতর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের জন্যই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

গঠিত কমিশনটি কেবল টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক ব্যর্থতার জায়গাগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সরকারি নথি অনুযায়ী, কমিশনটিতে মোট তিন সদস্য রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, কমিশনের এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

তদন্ত কমিশনের কর্মপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এই কমিটি। মূলত, উক্ত সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তাতে যে ধরণেই বিলম্ব বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে, তার প্রতিটি স্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকা কেনা বা বিতরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই অনিয়মের সাথে কারা জড়িত এবং কী কারণে প্রশাসনিক ব্যর্থতা তৈরি হয়েছিল, তা খুঁজে বের করা জরুরি। কমিশন তাদের তদন্ত শেষে সরকারকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সাথে পরিচালিত হবে বলেও সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে এই তদন্ত কমিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এখন থেকে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিশন কত দিনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে, সে বিষয়ে খুব দ্রুতই পরবর্তী নির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

সর্বশেষ
অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে ১৪টি জেলা চিহ্নিত করল সরকার সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী গ্রেফতার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ২৭ জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির পেল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: স্পীকার ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে? জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, কোনো আহত নেই