ডিবি হেফাজতে দুই সাংবাদিক: সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে কর্মস্থল থেকে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাটি গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই দুই সংবাদকর্মীকে আটকের পর থেকে তাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা, যার ফলে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের আটকের কারণ বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে তাদের কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এরপর তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আকস্মিক আটকের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। তারা এই ঘটনাকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং অবিলম্বে এই দুই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
এদিকে, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তাদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা সম্পর্কে অবগত করা হয়নি সংশ্লিষ্টদের। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বা আটক করার পর আইনগত প্রক্রিয়া বা কারণ স্পষ্ট করার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রে তেমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতির কারণে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সাংবাদিক নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা ভিন্নমত প্রকাশের জেরে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেন যে, এভাবে বিনা নোটিশে বা সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া সাংবাদিক তুলে নেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হতে পারে। তারা অবিলম্বে আটকদের মুক্তি এবং কেন তাদের তুলে আনা হয়েছে, তা স্পষ্ট করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো সাংবাদিককে এভাবে আটক রাখা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিষ্পত্তি করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি ঘিরে এক প্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই সাংবাদিকের পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন। আটকের পর তাদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং আদৌ তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেবে এবং সাংবাদিকরা মুক্তি পাবেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সুস্থ সংবাদচর্চার স্বার্থে এই ঘটনার দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]