যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট নির্বাচনে ৫ নম্বর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন মুলুকের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, তার জন্মস্থান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জেও বইছে আনন্দের ঢেউ। তার পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় মানুষ এই জয়ে দারুণ গর্বিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি আইন ও জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ৫ নম্বর আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে শেখ মুজাহিদুর রহমানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। ফলে সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার এই ঘটনা যেমন তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়, তেমনি দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও তুলে ধরে। স্থানীয় ভোটাররা তার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট।

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দনের আদি নিবাস বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে। তার বড় ভাই বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে স্থানীয়ভাবে এই জয়কে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা এই প্রবাসী নেতার ওপর স্থানীয় জনগণের আস্থা অটুট রয়েছে। তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পেছনে এলাকার মানুষের সমর্থন ও প্রবাসী কমিউনিটির সম্মিলিত প্রয়াস কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। শেখ মুজাহিদুর রহমানের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি অতীতেও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই ভোটাররা তাকে পুনরায় বেছে নিতে দ্বিধা করেননি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেভাবে নিজের নির্বাচনি এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন, তা তাকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে তার আত্মীয়-স্বজন এবং শুভানুধ্যায়ীরা মিষ্টি বিতরণ এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করছেন। তাদের মতে, বিদেশে একজন আপনজন দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ হলেও, তার দীর্ঘদিনের কাজের স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠাই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রবাসী এই নেতা আগামী দিনে তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সেখানকার ভোটাররা। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তার এই জয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। সব মিলিয়ে তার এই সাফল্যে এখন খুশির আমেজ বিরাজ করছে তার জন্মভূমি ও কর্মস্থল উভয় জায়গাতেই।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন