প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। মূলত ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ১২টি নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে এই কঠোর নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠান যদি এসব দেশে কর্মী পাঠাতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পূর্বানুমতি বা নিয়োগানুমতি গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এই অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মীর অনুকূলে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু করা হবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়েছে, যাতে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশনা রয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ার। বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৪ নভেম্বর এই চিঠি জারির পর থেকেই নতুন নিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠছিল। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগী বা অসাধু চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক কর্মী বিদেশে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ পান না। এই ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার আগে প্রতিটি আবেদনের খুঁটিনাটি যাচাই করবে। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগানুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মীকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সুরক্ষিত হবে এবং ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রবণতা কমবে। বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। অনেক সময় কিছু দেশ বা কোম্পানি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট শর্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ চুক্তির আশ্রয় নেয়। মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নজরদারি থাকলে এসব ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এজেন্সিগুলোকে এখন থেকে প্রতিটি আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মসংস্থান চুক্তিসহ আনুষঙ্গিক সকল নথিপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে যদি সন্তুষ্ট হয়, কেবল তখনই অনুমতি প্রদান করা হবে। এছাড়া, যেসব দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনগত বা শ্রমবাজারের জটিলতা রয়েছে, সেসব দেশের ক্ষেত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিয়ম না মেনে কর্মী পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পরিপত্রটি দেশের শ্রম অভিবাসন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু এই ১২টি দেশ নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে একই ধরনের নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে। এতে করে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। মূলত, প্রতিটি কর্মী যাতে সঠিক চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে এবং বৈধ পন্থায় বিদেশে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এখন থেকে এজেন্সিগুলোকে প্রতিটি ধাপের জন্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ