সুনামগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৩০
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে শুরু হওয়া সামান্য বাগবিতণ্ডা পরবর্তীতে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নে একটি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। খেলা চলাকালীন কোনো এক পর্যায়ে খেলোয়াড় এবং মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার রাতের সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সাময়িকভাবে প্রশমিত হলেও ঘটনার রেশ কাটেনি। এর জের ধরেই বুধবার সকালে দুই গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষ চলাকালীন দুই পক্ষের লোকজনই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার করেন। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন কমবেশি আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সংঘর্ষে জড়ানো লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম ফুটবল খেলা নিয়ে এমন সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয়। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ মেটাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ পুনরায় বিবাদে জড়াতে না পারে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে যারা সরাসরি জড়িত তাদের নাম সংগ্রহ করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না বলে প্রশাসন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বর্তমানে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার রেশ এখনো রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে শান্তি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এলাকার সামাজিক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করছেন স্থানীয় সমাজসেবকরা। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে এলে এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন। প্রশাসন বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]