খুঁজুন
, ,

বাণিজ্যিক কূটনীতি ও চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: সঠিক পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
বাণিজ্যিক কূটনীতি ও চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: সঠিক পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনীতির যে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, আমরা কি আসলে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে সঠিক ও যথাযথ কৌশল অবলম্বন করতে পারছি? দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমাদের এই সক্ষমতা এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগে শুধুমাত্র আমদানির পরিমাণ বা পণ্যের শুল্ক নিয়ে ভাবলে চলবে না। এর পেছনে থাকা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং শ্রমবাজারের চাহিদাকে বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যতটা তোড়জোড় থাকে, পরবর্তীতে তার সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ি। আমাদের সক্ষমতার ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আমাদের পিছিয়ে দেয়। বাণিজ্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রফতানি আয় বাড়ানো এবং বাজারের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করা। তবে আমরা কি সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর রোডম্যাপ অনুসরণ করতে পারছি?

দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে, ফলে নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করা এখন সময়ের দাবি। তবে কেবল নতুন বাজারের সন্ধানে দৌড়ালেই হবে না, বরং যে বাজারে আমরা প্রবেশ করতে চাচ্ছি, সেই বাজারের মানদণ্ড ও চাহিদা পূরণের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে কি না, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের মান বা সময়মতো শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে না পারায় অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতিগুলো দূর করতে সরকার ও ব্যবসায়িক মহলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাণিজ্য চুক্তির একটি বড় অংশ হলো পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা আদান-প্রদান। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কী ধরনের দরকষাকষি করছি, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তখন সব ধরনের বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা থাকবে না। তাই এখন থেকেই প্রতিটি বাণিজ্য চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিশ্লেষণ করে সামনে আগাতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন ছাড়া কেবল চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়।

পরিশেষে, বাণিজ্য চুক্তি মানেই কেবল স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিটি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে তাতে সংশোধন আনা জরুরি। আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত কেবল স্বল্পমেয়াদী লাভের কথা না ভেবে, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যদি আমরা প্রতিটি বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারি, তবেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে টিকে থাকতে পারবে।

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও বিরোধী রাজনীতির সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও বিরোধী রাজনীতির সংকট

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের স্বরূপ এবং বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে যে অস্পষ্টতা ও সংকট দৃশ্যমান, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় না, বরং এর শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত থাকা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনালগ্নে নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর অভাব আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গণতন্ত্রের মূল নির্যাস হলো জনগণের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হওয়া। কিন্তু যখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের হাতে পুঞ্জীভূত হয়, তখন তা সহজেই স্বৈরতান্ত্রিক রূপ ধারণ করতে পারে, যা রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রান্তিক করে তোলে।

আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের ধারণাটি অনেক ক্ষেত্রেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাচনের দিনটিকেই গণতন্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। এই ন্যূনতম সংজ্ঞার ফাঁদে পড়ে আমরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রায়শই উদাসীন থাকি। যখন একটি রাষ্ট্রে নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে বিরোধী দলগুলো কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না, তখন ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিরোধী দলের দায়িত্ব কেবল নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়, বরং নির্বাহী বিভাগের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার পরিবর্তে কেবল নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা একটি গোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। এতে জনগণের প্রকৃত উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটা কঠিন হয়ে পড়ে।

গণতন্ত্রকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কেবল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতায় পরিবর্তন আসা জরুরি। যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে এবং বিরোধী দলের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে দমন করা হয়, তবে গণতন্ত্র কেবল কাগজে-কলমে টিকে থাকে। জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন যে পরিবর্তনের আন্দোলন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তাও মূলত একটি সুস্থ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের এই উত্থান বুঝিয়ে দেয় যে, চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বিরোধী রাজনীতির নতুন সংজ্ঞায়নের প্রয়োজনীয়তা এখন অপরিহার্য।

পরিশেষে, বাংলাদেশে একটি টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিরোধী দলগুলোর গঠনমূলক কর্মকাণ্ড। যতক্ষণ না আমরা রাষ্ট্রকে এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে পারছি, যেখানে প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করবে এবং জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে, ততক্ষণ গণতান্ত্রিক সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না। বিরোধী রাজনীতির ব্যর্থতা বা অকার্যকর ভূমিকার কারণে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের আদর্শিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে হবে এবং জনগণের সাথে গভীর সংযোগ স্থাপন করতে হবে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সংকুচিত গণতন্ত্রের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বার্সেলোনার দাপুটে জয়, লক্ষ্যভেদে জ্বলে উঠলেন রাফিনহা-ইয়ামাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বার্সেলোনার দাপুটে জয়, লক্ষ্যভেদে জ্বলে উঠলেন রাফিনহা-ইয়ামাল

ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজাত আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শক্তির জানান আবারও নতুন করে দিলেন স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেছেন রাফিনহা এবং লামিনে ইয়ামালরা। তাদের সমন্বিত আক্রমণভাগের কাছে খেই হারিয়ে ফেলেছিল সফরকারী অ্যাস্টন ভিলার রক্ষণভাগ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা নিজেদের আগ্রাসী ফুটবলের পরিচয় দেয়। খেলার সপ্তম মিনিটেই গোল উৎসবে মেতে ওঠেন স্বাগতিকরা। অ্যাস্টন ভিলার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ভুলে বল পেয়ে যান উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই তরুণ সেনসেশন। এই গোলটি ম্যাচের বাকি সময়ের জন্য বার্সেলোনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে এবং তারা আত্মবিশ্বাসের সাথে আক্রমণ অব্যাহত রাখে।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনার আক্রমণের তেজ ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে রাফিনহার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের জোড়া গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। দলের হয়ে দ্বিতীয় এবং ব্যক্তিগত প্রথম গোলটি করার পর ম্যাচে নিজের আধিপত্য আরো সুসংহত করেন তিনি। এরপর ম্যাচের পরবর্তী সময়ে আরও একটি গোল করে নিজের জোড়া পূর্ণ করেন রাফিনহা। এর মাধ্যমে বার্সেলোনার ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় এবং পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।

ম্যাচটিতে বার্সেলোনার জয় যতটা না কেবল গোলের ব্যবধানের কারণে, তার চেয়ে বেশি দলের সামগ্রিক কৌশলের কারণে এসেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় দেখা গেছে। অ্যাস্টন ভিলার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বার্সেলোনার এই জয় চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের অবস্থানের উন্নতির পাশাপাশি দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক তার কৌশলগত সিদ্ধান্তে সফল হয়েছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ম্যাচের পরবর্তী সময়ে অ্যাস্টন ভিলা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ছিল বেশ সতর্ক। গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের সমন্বয়ে তারা সফরকারীদের কোনো গোল করার সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন কাতালানরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা আরও একবার তুঙ্গে উঠেছে। প্রতিযোগিতার সামনের ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বার্সেলোনা যে নকআউট পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পোশাক খাতে অস্থিরতা ছড়ানোর দায়ে আশুলিয়ায় আটক তিন শ্রমিক নেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
পোশাক খাতে অস্থিরতা ছড়ানোর দায়ে আশুলিয়ায় আটক তিন শ্রমিক নেতা

দেশের পোশাক শিল্প খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে সরাসরি উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ শ্রমিকদের উত্তেজিত করা এবং শিল্প এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থাটি এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা গোপন পরিকল্পনা করছিলেন। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে সুপরিকল্পিত ইন্ধন ছিল বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন সময়ে কারখানায় কারখানায় গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন, যার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেবল শ্রমিক নেতা নন, বরং এই অস্থিরতার পেছনে কারা অর্থায়ন করছে বা পর্দার আড়াল থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার অপরাধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা দেশের রপ্তানি আয় ও বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর ও শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্প মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ এবং আন্দোলনের নামে শিল্প এলাকা অচল করে দেওয়ার বিষয়টি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। অস্থিতিশীলতা তৈরিতে জড়িতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে যে কোনো ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে শিল্প পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আটককৃতদের রিমান্ডে এনে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ
গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও বিরোধী রাজনীতির সংকট বার্সেলোনার দাপুটে জয়, লক্ষ্যভেদে জ্বলে উঠলেন রাফিনহা-ইয়ামাল পোশাক খাতে অস্থিরতা ছড়ানোর দায়ে আশুলিয়ায় আটক তিন শ্রমিক নেতা শৈশবের কোচকে স্মরণ করলেন শান্ত বাণিজ্যিক কূটনীতি ও চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: সঠিক পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ? ট্রিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর বাজার: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট গাজীপুরে অস্থিরতা: অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার শ্রমিক নেতারা, কাজে ফেরার আহ্বান শিকড় ভোলা কখনোই উচিত নয় সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির
Advertisement