দেশের পোশাক শিল্প খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে সরাসরি উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ শ্রমিকদের উত্তেজিত করা এবং শিল্প এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থাটি এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা গোপন পরিকল্পনা করছিলেন। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে সুপরিকল্পিত ইন্ধন ছিল বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন সময়ে কারখানায় কারখানায় গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন, যার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেবল শ্রমিক নেতা নন, বরং এই অস্থিরতার পেছনে কারা অর্থায়ন করছে বা পর্দার আড়াল থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার অপরাধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা দেশের রপ্তানি আয় ও বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর ও শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্প মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ এবং আন্দোলনের নামে শিল্প এলাকা অচল করে দেওয়ার বিষয়টি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। অস্থিতিশীলতা তৈরিতে জড়িতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে যে কোনো ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে শিল্প পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আটককৃতদের রিমান্ডে এনে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ