খুঁজুন
, ,

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং তার বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে যখন জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসছে, ঠিক তখনই দেশের বাজারে এই পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তেলের দাম নির্ধারণের এই জটিল সমীকরণ কেবল একটি একক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং এর পেছনে রয়েছে মুদ্রার বিনিময় হার, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতার মতো বহুমাত্রিক চাপ।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার খবরটি যতটা ইতিবাচক মনে হয়, বাস্তবতা ততটা সরল নয়। প্রথমত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম কমলেও, আমদানিকৃত জ্বালানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মানের ওপর। গত কয়েক বছরে ডলারের তীব্র সংকট এবং টাকার অবমূল্যায়ন দেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রায় একই খরচে জ্বালানি ক্রয় করতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার, যা শেষ পর্যন্ত জ্বালানির খুচরা মূল্য সমন্বয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

এর পাশাপাশি রয়েছে আমদানিনির্ভরতার বিষয়টি। দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয় আমদানি করা জ্বালানি দিয়ে। লজিস্টিক খরচ, বীমা ব্যয় এবং শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতাও জ্বালানি তেলের মোট আমদানিমূল্য বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন হলেও এই আনুষঙ্গিক খরচগুলো কমেনি, বরং মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন ও পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করতে না পারলে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর লোকসানের বোঝা পাহাড়সম হয়ে দাঁড়াবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল বিক্রিতে ভর্তুকি প্রদান দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। যখন ভর্তুকির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তখন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ থেকে অর্থ স্থানান্তর করতে হয়। এতে দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের গতি মন্থর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে সরকার প্রায়শই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণের পথ বেছে নেয়। অবশ্য এই প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা আছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বা অটোমেটেড প্রাইসিং ফর্মুলা থাকা জরুরি, যাতে করে বিশ্ববাজারের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিয়মিত ব্যবধানে দেশেও দামের সমন্বয় হতে পারে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সরকার যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, সেটিও বাস্তবতা। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমদানিনির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি আনার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল তেলের দাম বাড়ানো বা কমানোর ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের চাবিকাঠি।

শৈশবের কোচকে স্মরণ করলেন শান্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শৈশবের কোচকে স্মরণ করলেন শান্ত

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় অনেকেই পাশে থাকেন, কিন্তু যারা শৈশবের হাতেখড়ি দেন, তাদের গুরুত্ব থাকে এক অনন্য উচ্চতায়। জাতীয় দলের তারকা ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের শৈশবের কোচের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। ক্রিকেটের অ আ ক খ থেকে শুরু করে আজকের এই পর্যায়ে উঠে আসার পেছনে তার সেই কোচের দিকনির্দেশনা ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই ক্রিকেটার।

একজন খেলোয়াড় যখন পেশাদার ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন তার পেছনে অনেক মানুষের শ্রম ও ত্যাগ থাকে। মাঠের বাইরের সেই পর্দার আড়ালের মানুষদের মধ্যে কোচরাই থাকেন অগ্রভাগে। শান্তর ভাষ্যমতে, ছোটবেলায় যখন তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন, তখন অনেক কিছুই তার অজানা ছিল। তখন সেই কোচই তাকে ক্রিকেটের সঠিক কৌশল শেখানোর পাশাপাশি মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে ধৈর্য ধরে খেলতে হয়, সেই শিক্ষা তিনি সেই ছোটবেলা থেকেই পেয়ে আসছেন।

সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও শেকড়কে ভুলে যাননি শান্ত। বরং বিভিন্ন সময়েই তিনি তার এই শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তার মতে, একজন কোচ কেবল খেলার কৌশলই শেখান না, তিনি খেলোয়াড়ের চারিত্রিক দৃঢ়তা গঠনেও ভূমিকা রাখেন। শান্ত মনে করেন, আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে তার শৈশবের কোচের কঠোর শাসন এবং স্নেহের সংমিশ্রণ তাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। কঠিন সময়ে যখন পারফরম্যান্স খারাপ যেত, তখনও কোচ তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সঠিক পথ দেখিয়েছেন।

শান্ত আরও বলেন, আজকের এই নাজমুল হোসেন শান্ত হয়ে ওঠার পেছনে যে শ্রম, তার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে তার সেই প্রাথমিক দীক্ষাগুরু। খেলোয়াড়দের জীবনে কোচের গুরুত্ব যে কতটা অপরিহার্য, তা যেন শান্তর এই স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল। কেবল কৌশলগত দক্ষতা নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও তার শৈশবের কোচের প্রভাব অপরিসীম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন যখন দেখেছিলেন, তখন সেই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। সে সময় যারা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাটা শান্তর ব্যক্তিত্বেরই অংশ। তিনি মনে করেন, সাফল্যের পেছনে নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি এমন একজন শিক্ষকের ছায়া থাকাটা ভাগ্যের ব্যাপার। ভবিষ্যতে যারা ক্রিকেট নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্যও শান্তর এই বার্তাটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে যে, সঠিক গুরু নির্বাচন এবং তার পরামর্শ মেনে চলা ক্যারিয়ারের জন্য কতটা জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, শান্তর এই কথোপকথনটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের স্মৃতিচারণ নয়, এটি মূলত একজন শিষ্যের প্রতি গুরুর অবদানের এক সুন্দর স্বীকৃতি। মাঠের লড়াইয়ে শান্ত সবসময়ই তার সেই শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। নিজের এই পথচলার গল্প অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরে তিনি নিজেও আনন্দিত। ভবিষ্যতে দলের প্রয়োজনে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তার সেই শৈশবের কোচের শিক্ষাগুলোকেই পুঁজি হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।

বাণিজ্যিক কূটনীতি ও চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: সঠিক পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বাণিজ্যিক কূটনীতি ও চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: সঠিক পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনীতির যে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, আমরা কি আসলে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে সঠিক ও যথাযথ কৌশল অবলম্বন করতে পারছি? দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমাদের এই সক্ষমতা এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগে শুধুমাত্র আমদানির পরিমাণ বা পণ্যের শুল্ক নিয়ে ভাবলে চলবে না। এর পেছনে থাকা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং শ্রমবাজারের চাহিদাকে বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যতটা তোড়জোড় থাকে, পরবর্তীতে তার সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ি। আমাদের সক্ষমতার ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আমাদের পিছিয়ে দেয়। বাণিজ্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রফতানি আয় বাড়ানো এবং বাজারের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করা। তবে আমরা কি সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর রোডম্যাপ অনুসরণ করতে পারছি?

দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে, ফলে নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করা এখন সময়ের দাবি। তবে কেবল নতুন বাজারের সন্ধানে দৌড়ালেই হবে না, বরং যে বাজারে আমরা প্রবেশ করতে চাচ্ছি, সেই বাজারের মানদণ্ড ও চাহিদা পূরণের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে কি না, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের মান বা সময়মতো শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে না পারায় অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতিগুলো দূর করতে সরকার ও ব্যবসায়িক মহলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাণিজ্য চুক্তির একটি বড় অংশ হলো পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা আদান-প্রদান। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কী ধরনের দরকষাকষি করছি, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তখন সব ধরনের বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা থাকবে না। তাই এখন থেকেই প্রতিটি বাণিজ্য চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিশ্লেষণ করে সামনে আগাতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন ছাড়া কেবল চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়।

পরিশেষে, বাণিজ্য চুক্তি মানেই কেবল স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিটি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে তাতে সংশোধন আনা জরুরি। আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত কেবল স্বল্পমেয়াদী লাভের কথা না ভেবে, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যদি আমরা প্রতিটি বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারি, তবেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে টিকে থাকতে পারবে।

ট্রিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর বাজার: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ট্রিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর বাজার: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত

বিশ্বজুড়ে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমোবাইল কিংবা নিত্যব্যবহার্য ইলেকট্রনিক পণ্য—সবকিছুর মূল চালিকাশক্তি এই ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই সেমিকন্ডাক্টর খাতের বাজারমূল্য ছাড়িয়ে যাবে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই নতুন মেরুকরণে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

বর্তমান বিশ্বে চিপ উৎপাদন এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশ আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তবে সাপ্লাই চেইন বৈচিত্র্যময় করার লক্ষে অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এখন বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে। সেই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশ। তবে কেবল স্বপ্ন দেখলেই হবে না, এই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করা এবং ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপ ডিজাইনের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চপ্রযুক্তির অবকাঠামো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। চিপ তৈরির কারখানা বা ‘ফ্যাব’ স্থাপনের জন্য প্রচুর মূলধনি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি এবং গবেষণা কেন্দ্র থাকা জরুরি। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে নানা মহলে পর্যালোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইটি সেক্টরে বিনিয়োগের নানা সুবিধা ঘোষণা করা হলেও, চিপ ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত ইকোসিস্টেম।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সংক্রান্ত কোর্স ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও এখন এই খাতের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কিন্তু একাডেমিক জ্ঞানের সাথে ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব কাজের যোগসূত্র স্থাপন করাটা মূল চ্যালেঞ্জ। যদি দেশীয় প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপগুলো এবং বৈশ্বিক জায়ান্টদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশ এই গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারবে।

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চিপ তৈরির জন্য এমন দেশ খুঁজছে যেখানে মেধার অভাব নেই এবং সরকারি নীতি সহায়তা স্থিতিশীল। বাংলাদেশ যদি আগামী দিনের প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে চায়, তবে এখনই সময় নীতি নির্ধারণে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আনার। কেবল কাঁচামাল বা শ্রমনির্ভর রপ্তানি নয়, বরং উচ্চতর প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানির দিকে ধাবিত হতে হবে। তবেই ট্রিলিয়ন ডলারের এই সেমিকন্ডাক্টর বাজারের অংশীদার হওয়া সম্ভব। আগামী দিনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ কতটা সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো প্রযুক্তি বিশ্ব।

সর্বশেষ
শৈশবের কোচকে স্মরণ করলেন শান্ত বাণিজ্যিক কূটনীতি ও চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: সঠিক পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ? ট্রিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর বাজার: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের বিপরীতে দেশে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট গাজীপুরে অস্থিরতা: অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার শ্রমিক নেতারা, কাজে ফেরার আহ্বান শিকড় ভোলা কখনোই উচিত নয় সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম
Advertisement