সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সংকটে শিল্প ও আবাসিক খাত
দেশের জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে চাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তিন দিনের জন্য এই টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত থাকবে। এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বর্তমানেও দেশজুড়ে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামিটের টার্মিনালটি জাতীয় গ্যাস গ্রিডের অন্যতম বড় একটি উৎস। টার্মিনালটি বন্ধ থাকার এই তিন দিনে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমবে। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অভাব সরাসরি প্রভাব ফেলবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রান্নার কাজে। টার্মিনালটি বন্ধ থাকার প্রভাব কতটা তীব্র হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় ইতিমধ্যেই অনেক সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জরুরি মেরামতের কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিন দিনের এই বিরতি শিল্পখাতে বড় ধরনের উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক কলকারখানায় গ্যাসের চাপের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদন প্রক্রিয়া চলে, তাই এই সরবরাহ ঘাটতি কারখানাগুলোর স্বাভাবিক কর্মযজ্ঞে ছন্দপতন ঘটাবে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকটের চিত্রটি আরও প্রকট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শীতকাল আসার আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
গ্যাস সরবরাহের এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কর্তৃপক্ষ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সাধারণত রক্ষণাবেক্ষণের সময় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যান্য উৎসগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। কিন্তু বিদ্যমান সংকটের মধ্যে সেই সক্ষমতা কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের শিপমেন্টের সময়সীমা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এলএনজি টার্মিনাল বন্ধের এই তিন দিন দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকরা চাইছেন, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয় এবং পরবর্তীতে সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় না ঘটে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]