জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলার আসামির নেতৃত্বে আনন্দ র্যালি, এলাকায় চাঞ্চল্য
পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় একটি আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ার বগাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা অংশ নেন। তবে এই আনন্দ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই র্যালিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন একজন শ্রমিক নেতা, যিনি জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল তিনটার দিকে বগাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। শ্রমিকদের দাবি ছিল, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকার তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তবে মিছিলের সামনের সারিতে ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতি এবং তার নেতৃত্বদান স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
আশুলিয়ার স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা এখনো স্মরণ করছেন। সেই সময়ে সংগঠিত সহিংসতা ও বিভিন্ন হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে বড় কোনো আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়াতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মামলা থাকা সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশ্যে দলীয় বা সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের নামে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা শ্রমিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়টি চলমান, সেখানে অভিযুক্তদের এমন অবাধ বিচরণ ও নেতৃত্ব প্রদান অপরাধীদের উৎসাহিত করার শামিল হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার রক্ষা করা। তবে সেই অধিকার আদায়ের যাত্রায় অপরাধ বা মামলার সাথে জড়িতদের নেতৃত্ব কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এই প্রকাশ্যে উপস্থিতির বিষয়ে পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা। পুরো আশুলিয়া এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]